১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

মিয়ানমারে এনইউজি ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারে থাকা একমাত্র রোহিঙ্গা মন্ত্রী অং কিয়াও মোয়ের সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে ঘিরে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী রাজনীতি ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দ্য ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে অং কিয়াও মোয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাঁর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে। তিনি জাতীয় ঐক্য সরকারের মানবাধিকারবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন

জাতীয় ঐক্য সরকারে অং কিয়াও মোয়ের উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। ফলে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা ও পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে একজন রোহিঙ্গা প্রতিনিধির জাতীয় ঐক্য সরকার থেকে সরে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Myanmar Follows Global Pattern in How Ethnic Cleansing Begins - The New  York Times

জাতিসংঘের আসন নিয়েও লড়াই

এদিকে মিয়ানমারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই সামনে রয়েছে। জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুনের দখলে থাকা আসনটি নিয়ে আগামী অধিবেশনে পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার পর পরিচয়পত্র কমিটির সিদ্ধান্তকে ঘিরে মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও বিতর্ক

মিয়ানমার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে দেশটিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে দেশটিতে থাকা প্রায় চার হাজার মিয়ানমার নাগরিকের সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা শেষ করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, সংঘাত, নির্বিচারে আটক, নজরদারি ও জোরপূর্বক সামরিক নিয়োগের মতো ঝুঁকির মধ্যে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানো হলে তাদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট তাই শুধু সামরিক বাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থীদের সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, জাতিগত সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নও ক্রমেই সংকটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

Developments in Gambia's Case Against Myanmar at the International Court of  Justice | Human Rights Watch

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

মিয়ানমারে এনইউজি ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন টানাপোড়েন

০১:১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মিয়ানমারের জাতীয় ঐক্য সরকারে থাকা একমাত্র রোহিঙ্গা মন্ত্রী অং কিয়াও মোয়ের সরে দাঁড়ানোর ঘটনাকে ঘিরে দেশটির গণতন্ত্রপন্থী রাজনীতি ও রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

দ্য ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষ দিকে অং কিয়াও মোয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পর তাঁর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সামনে আসে। তিনি জাতীয় ঐক্য সরকারের মানবাধিকারবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

রোহিঙ্গা প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন

জাতীয় ঐক্য সরকারে অং কিয়াও মোয়ের উপস্থিতি রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। ফলে তাঁর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব এবং মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে তাদের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।

মিয়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিরোধের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক আস্থা ও পারস্পরিক সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে একজন রোহিঙ্গা প্রতিনিধির জাতীয় ঐক্য সরকার থেকে সরে যাওয়া তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Myanmar Follows Global Pattern in How Ethnic Cleansing Begins - The New  York Times

জাতিসংঘের আসন নিয়েও লড়াই

এদিকে মিয়ানমারকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক লড়াই সামনে রয়েছে। জাতিসংঘে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুনের দখলে থাকা আসনটি নিয়ে আগামী অধিবেশনে পরিচয়পত্রসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়ার পর পরিচয়পত্র কমিটির সিদ্ধান্তকে ঘিরে মিয়ানমারের সামরিক শাসকগোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতেও বিতর্ক

মিয়ানমার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একদিকে দেশটিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, অন্যদিকে দেশটিতে থাকা প্রায় চার হাজার মিয়ানমার নাগরিকের সাময়িক সুরক্ষা মর্যাদা শেষ করে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, সংঘাত, নির্বিচারে আটক, নজরদারি ও জোরপূর্বক সামরিক নিয়োগের মতো ঝুঁকির মধ্যে এসব মানুষকে ফেরত পাঠানো হলে তাদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট তাই শুধু সামরিক বাহিনী ও গণতন্ত্রপন্থীদের সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, জাতিগত সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নও ক্রমেই সংকটের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

Developments in Gambia's Case Against Myanmar at the International Court of  Justice | Human Rights Watch