০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৯৫)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪
  • 154
শ্রী নিখিলনাথ রায়
নন্দকুমারের শত্রুপক্ষীয়েরা বলিয়া থাকেন যে, তিনি নিজেই কৃষ্ণরাম বসু নামক জনৈক ব্যক্তিকে ক্লাইবের নিকট পাঠাইয়া তাঁহার বন্ধুতার প্রার্থী হইয়াছিলেন। একথা যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। যিনি এরূপ কথা বলিতে পারিয়াছেন, তিনি নন্দকুমারের সমস্ত কার্য্য কালিমামণ্ডিত করিয়া নন্দকুমারচরিত্রকে ভয়াবহ করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। কিন্তু আমরা অর্থে প্রভৃতি প্রাচীন ঐতিহাসিকগণের বিবরণ হইতে দেখাইয়াছি যে, ইংরেজেরাই আপনা- দিগের কার্যোদ্ধারের জন্য আমীরচাঁদের দ্বারা তাঁহার সহিত বন্ধুত্ব স্থাপনের প্রয়াস পাইয়াছিলেন।
নন্দকুমারের পূর্ব্ব হইতে ক্লাইব সাহেবের বন্ধুত্বের প্রয়াসী হইলে, ইংরেজেরা সহস্র সহস্র মুদ্রা লইয়া তাঁহার পদতলে উপস্থিত হইতেন না। যে ক্লাইব সাহেব প্রতারণার দ্বারা আমীরচাঁদের সর্ব্বনাশ করিয়াছিলেন, তিনি এতদূর নির্বোধ ছিলেন না যে, যে নন্দকুমার তাঁহাদের বন্ধুত্বের প্রয়াসী, তাঁহাকে আবার অর্থ দিয়া শান্ত করিতে চেষ্টা পাইবেন। এরূপ অনেক স্থলে নন্দকুমারচরিত্রকে যৎপরোনাস্তি কলুষিত করিতে চেষ্টা করা হইযাছে। নন্দকুমারের সহায়তায় ইংরেজেরা চন্দননগর অধিকার করিলেন।
সিরাজ উদ্দৌলা এ কথা বুঝিতে পারিয়াছিলেন। এই জন্য তিনি তাঁহার স্থলে আর এক জন নূতন ফৌজদার হুগলীতে পাঠাইলেন। ইহার পর নন্দকুমার কিছুদিন পর্য্যন্ত কি ভাবে কালযাপন করিয়াছিলেন, তাহা বিশেষরূপে জানা যায় না। বিশেষতঃ সেই সময়ে সমস্ত বঙ্গরাজ্যে ঘোর বিপ্লবৰ উপস্থিত হইয়াছিল। ইংরেজেরা সিরাজের সর্ব্বনাশ করিতে উদ্যত হইলেন; সিরাজের প্রধান কর্মচারিগণ সকলেই এক ষড়যন্ত্রের আয়োজন করিয়াছিলেন; কিন্তু নন্দকুমার যে তাহার মধ্যে ছিলেন না, ইহা নিঃসংশয়ে বলা যাইতে পারে।
তাহার পর পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজেরা বিজয়ী হইয়া মীর জাফর খাঁকে মসনদে বসাইলেন। মীর জাফর মসনদে বসিলে রায়দুর্লভ তাঁহার দেওয়ান হইলেন। মুতাক্ষরীনে লিখিত আছে যে, মীর জাফরের সিংহাসনে উপবেশন করার পর নন্দকুমার ক্লাইবের মুন্সী ও দেওয়ান হন।। এ কথা নিতান্ত অবিশ্বাস্য নহে; কারণ ইংরেজদিগের সহায়তা করায় এবং তজ্জন্য তাঁহার পদচ্যুতি ঘটায়, ক্লাইব নন্দকুমারকে যে সাহায্য করিবেন, ইহা আশ্চর্য্যের বিষয় নহে। তবে ক্লাইবের সকল কথা বিশ্বাস করাও কঠিন।
জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১৯৫)

১১:০০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৪
শ্রী নিখিলনাথ রায়
নন্দকুমারের শত্রুপক্ষীয়েরা বলিয়া থাকেন যে, তিনি নিজেই কৃষ্ণরাম বসু নামক জনৈক ব্যক্তিকে ক্লাইবের নিকট পাঠাইয়া তাঁহার বন্ধুতার প্রার্থী হইয়াছিলেন। একথা যে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। যিনি এরূপ কথা বলিতে পারিয়াছেন, তিনি নন্দকুমারের সমস্ত কার্য্য কালিমামণ্ডিত করিয়া নন্দকুমারচরিত্রকে ভয়াবহ করিতে চেষ্টা করিয়াছেন। কিন্তু আমরা অর্থে প্রভৃতি প্রাচীন ঐতিহাসিকগণের বিবরণ হইতে দেখাইয়াছি যে, ইংরেজেরাই আপনা- দিগের কার্যোদ্ধারের জন্য আমীরচাঁদের দ্বারা তাঁহার সহিত বন্ধুত্ব স্থাপনের প্রয়াস পাইয়াছিলেন।
নন্দকুমারের পূর্ব্ব হইতে ক্লাইব সাহেবের বন্ধুত্বের প্রয়াসী হইলে, ইংরেজেরা সহস্র সহস্র মুদ্রা লইয়া তাঁহার পদতলে উপস্থিত হইতেন না। যে ক্লাইব সাহেব প্রতারণার দ্বারা আমীরচাঁদের সর্ব্বনাশ করিয়াছিলেন, তিনি এতদূর নির্বোধ ছিলেন না যে, যে নন্দকুমার তাঁহাদের বন্ধুত্বের প্রয়াসী, তাঁহাকে আবার অর্থ দিয়া শান্ত করিতে চেষ্টা পাইবেন। এরূপ অনেক স্থলে নন্দকুমারচরিত্রকে যৎপরোনাস্তি কলুষিত করিতে চেষ্টা করা হইযাছে। নন্দকুমারের সহায়তায় ইংরেজেরা চন্দননগর অধিকার করিলেন।
সিরাজ উদ্দৌলা এ কথা বুঝিতে পারিয়াছিলেন। এই জন্য তিনি তাঁহার স্থলে আর এক জন নূতন ফৌজদার হুগলীতে পাঠাইলেন। ইহার পর নন্দকুমার কিছুদিন পর্য্যন্ত কি ভাবে কালযাপন করিয়াছিলেন, তাহা বিশেষরূপে জানা যায় না। বিশেষতঃ সেই সময়ে সমস্ত বঙ্গরাজ্যে ঘোর বিপ্লবৰ উপস্থিত হইয়াছিল। ইংরেজেরা সিরাজের সর্ব্বনাশ করিতে উদ্যত হইলেন; সিরাজের প্রধান কর্মচারিগণ সকলেই এক ষড়যন্ত্রের আয়োজন করিয়াছিলেন; কিন্তু নন্দকুমার যে তাহার মধ্যে ছিলেন না, ইহা নিঃসংশয়ে বলা যাইতে পারে।
তাহার পর পলাশীর যুদ্ধে ইংরেজেরা বিজয়ী হইয়া মীর জাফর খাঁকে মসনদে বসাইলেন। মীর জাফর মসনদে বসিলে রায়দুর্লভ তাঁহার দেওয়ান হইলেন। মুতাক্ষরীনে লিখিত আছে যে, মীর জাফরের সিংহাসনে উপবেশন করার পর নন্দকুমার ক্লাইবের মুন্সী ও দেওয়ান হন।। এ কথা নিতান্ত অবিশ্বাস্য নহে; কারণ ইংরেজদিগের সহায়তা করায় এবং তজ্জন্য তাঁহার পদচ্যুতি ঘটায়, ক্লাইব নন্দকুমারকে যে সাহায্য করিবেন, ইহা আশ্চর্য্যের বিষয় নহে। তবে ক্লাইবের সকল কথা বিশ্বাস করাও কঠিন।