১০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫৪)

কদলীবৃক্ষ সকল জলে ভাসাইয়া, তদুপরি বংশের দ্বারা নানাবিধ গৃহ, দ্বিতল, ত্রিতল অট্টালিকা, রণতরী প্রভৃতি নির্মিত এবং নানাবর্ণের কাগজদ্বারা মণ্ডিত করিয়া, অগণ্য আলোক প্রজ্বলিত করা হয়। মুর্শিদা-বাদের উত্তরাংশে জাফরাগঞ্জে উক্ত আলোকযান নিৰ্ম্মিত হইয়া থাকে। রাত্রি হইলে, মতিমহালদেউড়ী হইতে এক বৃহৎ জৌলুষ জাফরাগঞ্জাভি-মুখে অগ্রসর হয়। সুসজ্জিত হস্তী, অশ্ব, উষ্ট্র, অশ্বারোহী ও পদাতিকগণ সেই জৌলুষের সহিত গমন করে।

স্বর্ণরৌপ্যমণ্ডিত নানাবিধ যান ধীরে ধীরে চলিতে থাকে; নিজামতের সুমধুর ব্যান্ড গুরুগম্ভীর রবে বাচ্চ করিতে করিতে জৌলুষকে গাম্ভীর্য্যময় করিয়া তুলে, নবাববংশীয়-গণ বহুমূল্য পরিচ্ছদে ও মণিমাণিক্যখচিত অলঙ্কারে বিভূষিত হইয়া, তাহার শোভা বর্দ্ধন করিতে থাকেন। মুর্শিদাবাদের ন্যায় এমন সমা-রোহপূর্ণ জৌলুষ বাঙ্গলার কুত্রাপি দৃষ্ট হয় না। মুর্শিদাবাদের জৌলুষ এখনও ইহাকে বাঙ্গলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী বলিয়া স্মরণ করাইয়া দেয়। কিন্তু ক্রমে সমস্তই মন্দীভূত হইতেছে।

জৌলুষ ক্রমে ক্রমে আলোকযানের নিকটস্থ হইলে, ব্যাণ্ড ও কতিপয় সুসজ্জিত সিপাহী আলোকযানে আরোহণ করে। খিজিরের উদ্দেশে ত্রুটি, ক্ষীর, পান ইত্যাদি ও একটি প্রদীপ যানের মধ্যস্থলে স্থাপিত করা হয়। পূর্ব্বে সোনার প্রদীপ দেওয়া হইত। পরে সেই অগণ্য আলোকপূর্ণ যান ধীরে ধীরে ভাসিতে আরম্ভ করে। যানের অগ্র পশ্চাৎ অসংখ্য কপূরপূর্ণ মৃৎপাত্রে প্রজ্বলিত করিয়া, ভাসাইয়া দেয়। এই সময়ে অন্যান্য লোকেও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোকযান ভাসমান করে। চারিদিকে আলোক-পারিষদ লইয়া সেই সুবৃহৎ আলোকযান নিজামত ব্যাণ্ডের সুমধুর বাদ্যের সহিত অগ্রসর হইতে থাকে।

কিয়দ্দুর গমন করিলে, তাঁর হইতে আতাসবাজী আরম্ভ হয়। পূর্ব্বে আতসবাজীর অত্যন্ত ধূম ছিল। মুর্শিদাবাদের পশ্চিমতীরে রৌশনীবাগ নামক স্থানে সুবৃহৎ আলোকগৃহ নিৰ্ম্মিত হইত। বংশনিৰ্ম্মিত ত্রিতল গৃহ নানাবিধ কাগজে মণ্ডিত হইয়া, শত শত প্রজ্বলিত দীপ ধারণ করিয়া, পরপারস্থ সহস্রদ্বার ভবনকে উপহাস করিয়া উঠিত। তাহার প্রতিবিম্ব ভাগীরথীবক্ষে পতিত হইলে বোধ হইত, যেন তাঁহার গর্ভহইতে একটি উজ্জল আলোকগৃহ ভাসিয়া উঠিতেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-৩৫৪)

১১:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫

কদলীবৃক্ষ সকল জলে ভাসাইয়া, তদুপরি বংশের দ্বারা নানাবিধ গৃহ, দ্বিতল, ত্রিতল অট্টালিকা, রণতরী প্রভৃতি নির্মিত এবং নানাবর্ণের কাগজদ্বারা মণ্ডিত করিয়া, অগণ্য আলোক প্রজ্বলিত করা হয়। মুর্শিদা-বাদের উত্তরাংশে জাফরাগঞ্জে উক্ত আলোকযান নিৰ্ম্মিত হইয়া থাকে। রাত্রি হইলে, মতিমহালদেউড়ী হইতে এক বৃহৎ জৌলুষ জাফরাগঞ্জাভি-মুখে অগ্রসর হয়। সুসজ্জিত হস্তী, অশ্ব, উষ্ট্র, অশ্বারোহী ও পদাতিকগণ সেই জৌলুষের সহিত গমন করে।

স্বর্ণরৌপ্যমণ্ডিত নানাবিধ যান ধীরে ধীরে চলিতে থাকে; নিজামতের সুমধুর ব্যান্ড গুরুগম্ভীর রবে বাচ্চ করিতে করিতে জৌলুষকে গাম্ভীর্য্যময় করিয়া তুলে, নবাববংশীয়-গণ বহুমূল্য পরিচ্ছদে ও মণিমাণিক্যখচিত অলঙ্কারে বিভূষিত হইয়া, তাহার শোভা বর্দ্ধন করিতে থাকেন। মুর্শিদাবাদের ন্যায় এমন সমা-রোহপূর্ণ জৌলুষ বাঙ্গলার কুত্রাপি দৃষ্ট হয় না। মুর্শিদাবাদের জৌলুষ এখনও ইহাকে বাঙ্গলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী বলিয়া স্মরণ করাইয়া দেয়। কিন্তু ক্রমে সমস্তই মন্দীভূত হইতেছে।

জৌলুষ ক্রমে ক্রমে আলোকযানের নিকটস্থ হইলে, ব্যাণ্ড ও কতিপয় সুসজ্জিত সিপাহী আলোকযানে আরোহণ করে। খিজিরের উদ্দেশে ত্রুটি, ক্ষীর, পান ইত্যাদি ও একটি প্রদীপ যানের মধ্যস্থলে স্থাপিত করা হয়। পূর্ব্বে সোনার প্রদীপ দেওয়া হইত। পরে সেই অগণ্য আলোকপূর্ণ যান ধীরে ধীরে ভাসিতে আরম্ভ করে। যানের অগ্র পশ্চাৎ অসংখ্য কপূরপূর্ণ মৃৎপাত্রে প্রজ্বলিত করিয়া, ভাসাইয়া দেয়। এই সময়ে অন্যান্য লোকেও অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আলোকযান ভাসমান করে। চারিদিকে আলোক-পারিষদ লইয়া সেই সুবৃহৎ আলোকযান নিজামত ব্যাণ্ডের সুমধুর বাদ্যের সহিত অগ্রসর হইতে থাকে।

কিয়দ্দুর গমন করিলে, তাঁর হইতে আতাসবাজী আরম্ভ হয়। পূর্ব্বে আতসবাজীর অত্যন্ত ধূম ছিল। মুর্শিদাবাদের পশ্চিমতীরে রৌশনীবাগ নামক স্থানে সুবৃহৎ আলোকগৃহ নিৰ্ম্মিত হইত। বংশনিৰ্ম্মিত ত্রিতল গৃহ নানাবিধ কাগজে মণ্ডিত হইয়া, শত শত প্রজ্বলিত দীপ ধারণ করিয়া, পরপারস্থ সহস্রদ্বার ভবনকে উপহাস করিয়া উঠিত। তাহার প্রতিবিম্ব ভাগীরথীবক্ষে পতিত হইলে বোধ হইত, যেন তাঁহার গর্ভহইতে একটি উজ্জল আলোকগৃহ ভাসিয়া উঠিতেছে।