০৬:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মৃত্যুশয্যার শেষ প্রহরে সহমর্মিতার পরীক্ষা: জর্জ সন্ডার্স এর নতুন উপন্যাস ভিজিল

কল্পকাহিনি কেন প্রয়োজন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন জর্জ সন্ডার্সের নতুন উপন্যাস ভিজিল। মানুষের মনে ঢুকে অন্যের চোখে পৃথিবী দেখার যে ক্ষমতা সাহিত্যকে আলাদা করে, সেই সহমর্মিতার পরীক্ষাই এই উপন্যাসের কেন্দ্রে। এর আগেও লিংকন ইন দ্য বার্ডো উপন্যাসে মৃত্যুর পরের জগৎ আর জীবিত মানুষের আবেগ এক সূত্রে বেঁধেছিলেন লেখক। ভিজিলে সেই ভাবনাই আরও গভীর, আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছে।

শেষ সময়ের মঞ্চ
ডালাসের এক প্রাসাদে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেজে বুন। একসময় তেলশিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, এখন অসুস্থতায় জর্জরিত এক মানুষ। হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, পরিচর্যাকারীদের নিঃশব্দ ব্যস্ততা, পরিবারের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে শেষ সময়ের একটি নিবিড় মঞ্চ তৈরি হয়। এই বাস্তবতার ভেতরেই ঢুকে পড়ে অতিলৌকিক সত্তারা, যারা জীবিতদের অজান্তে চারপাশে ঘুরে বেড়ায়।

অন্য জগতের দূত
এই উপন্যাসের বর্ণনাকারী জিল ব্লেইন, এক নারী আত্মা, যার দায়িত্ব বুনকে জীবনের শেষ সীমা পেরোতে মানসিক স্বস্তি দেওয়া। নিজের কবরের পোশাকেই সে ঘুরে বেড়ায়, দৃশ্যমান কেবল অন্য আত্মা আর বুনের কাছে। বুনের চিন্তার ভেতরে ঢুকে সে কথা বলে, স্মৃতি ভাগ করে নেয়। আত্মারা একে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে মুহূর্তের জন্য ভাগ করে নেয় হারানো ভালোবাসা, অনুশোচনা আর আকাঙ্ক্ষা।

অনুশোচনা ও দায়ের বিতর্ক
জিল একা নয়। আছে এক ফরাসি আত্মা, যিনি দহন ইঞ্জিনের উদ্ভাবক হয়ে আজ তার পরিণতি নিয়ে অনুতপ্ত। তিনি চান বুন তার জলবায়ু অস্বীকারের জন্য অনুশোচনা করুক। মানুষের লোভে ক্ষতিগ্রস্ত পৃথিবীর মানুষ ও প্রাণীর আত্মারাও ভিড় করে। এখানে শুরু হয় স্বাধীন ইচ্ছা আর নিয়তির দ্বন্দ্ব। জিলের মতে মানুষ যেমন, তেমনই হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না; তাই তার কাজ শুধু সান্ত্বনা দেওয়া। বুন এই সান্ত্বনায় আগ্রহী নয়, অনুশোচনায়ও নয়।

হালকা ভঙ্গিতে গভীর কথা
বিষয় ভারী হলেও ভাষা নয়। তীক্ষ্ণ রসিকতা, দ্রুত সংলাপ আর আত্মসচেতন কৌতুক উপন্যাসকে প্রাণবন্ত করে। আত্মারা নিজেদের অবস্থার হাস্যকর দিক নিয়েও মজা করে। জিল পাশের বাড়ির বিয়ের আসরে অন্য জীবনের ঝলক দেখে আসে, আবার নিজের জীবনের স্মৃতিতে হঠাৎ থমকে যায়—যে জীবন শেষ হয়েছিল এক দুর্ঘটনায়। চুমু, সদয় কথা, নাচ—জীবনের ক্ষণস্থায়ী অথচ অমূল্য মুহূর্তগুলোই বারবার সামনে আসে।

উপন্যাসের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গ
লিংকন ইন দ্য বার্ডো যেমন বিস্ময় জাগিয়েছিল, ভিজিল ততটা নতুন না হলেও আগের উদ্ভাবনকে বিস্তার দেয়। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত কৌতুক বা পরিবেশবাদী আক্ষেপ পাঠকের পছন্দ নাও হতে পারে। তবু উপন্যাসের মৃত্যু নিয়ে শঙ্কার সময়ে সন্ডার্স দেখান, শব্দ আর কল্পনার শক্তিতে গল্প বলার নতুন পথ এখনো খোলা। সহমর্মিতাকে যন্ত্রের মতো চালু রেখে তিনি কাহিনির সীমানা ঠেলে এগিয়ে দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মৃত্যুশয্যার শেষ প্রহরে সহমর্মিতার পরীক্ষা: জর্জ সন্ডার্স এর নতুন উপন্যাস ভিজিল

১০:৪৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কল্পকাহিনি কেন প্রয়োজন—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই যেন জর্জ সন্ডার্সের নতুন উপন্যাস ভিজিল। মানুষের মনে ঢুকে অন্যের চোখে পৃথিবী দেখার যে ক্ষমতা সাহিত্যকে আলাদা করে, সেই সহমর্মিতার পরীক্ষাই এই উপন্যাসের কেন্দ্রে। এর আগেও লিংকন ইন দ্য বার্ডো উপন্যাসে মৃত্যুর পরের জগৎ আর জীবিত মানুষের আবেগ এক সূত্রে বেঁধেছিলেন লেখক। ভিজিলে সেই ভাবনাই আরও গভীর, আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠেছে।

শেষ সময়ের মঞ্চ
ডালাসের এক প্রাসাদে মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে কেজে বুন। একসময় তেলশিল্পের শীর্ষ নির্বাহী, এখন অসুস্থতায় জর্জরিত এক মানুষ। হৃদস্পন্দনের অনিয়ম, পরিচর্যাকারীদের নিঃশব্দ ব্যস্ততা, পরিবারের উপস্থিতি—সব মিলিয়ে শেষ সময়ের একটি নিবিড় মঞ্চ তৈরি হয়। এই বাস্তবতার ভেতরেই ঢুকে পড়ে অতিলৌকিক সত্তারা, যারা জীবিতদের অজান্তে চারপাশে ঘুরে বেড়ায়।

অন্য জগতের দূত
এই উপন্যাসের বর্ণনাকারী জিল ব্লেইন, এক নারী আত্মা, যার দায়িত্ব বুনকে জীবনের শেষ সীমা পেরোতে মানসিক স্বস্তি দেওয়া। নিজের কবরের পোশাকেই সে ঘুরে বেড়ায়, দৃশ্যমান কেবল অন্য আত্মা আর বুনের কাছে। বুনের চিন্তার ভেতরে ঢুকে সে কথা বলে, স্মৃতি ভাগ করে নেয়। আত্মারা একে অন্যের শরীরে প্রবেশ করে মুহূর্তের জন্য ভাগ করে নেয় হারানো ভালোবাসা, অনুশোচনা আর আকাঙ্ক্ষা।

অনুশোচনা ও দায়ের বিতর্ক
জিল একা নয়। আছে এক ফরাসি আত্মা, যিনি দহন ইঞ্জিনের উদ্ভাবক হয়ে আজ তার পরিণতি নিয়ে অনুতপ্ত। তিনি চান বুন তার জলবায়ু অস্বীকারের জন্য অনুশোচনা করুক। মানুষের লোভে ক্ষতিগ্রস্ত পৃথিবীর মানুষ ও প্রাণীর আত্মারাও ভিড় করে। এখানে শুরু হয় স্বাধীন ইচ্ছা আর নিয়তির দ্বন্দ্ব। জিলের মতে মানুষ যেমন, তেমনই হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না; তাই তার কাজ শুধু সান্ত্বনা দেওয়া। বুন এই সান্ত্বনায় আগ্রহী নয়, অনুশোচনায়ও নয়।

হালকা ভঙ্গিতে গভীর কথা
বিষয় ভারী হলেও ভাষা নয়। তীক্ষ্ণ রসিকতা, দ্রুত সংলাপ আর আত্মসচেতন কৌতুক উপন্যাসকে প্রাণবন্ত করে। আত্মারা নিজেদের অবস্থার হাস্যকর দিক নিয়েও মজা করে। জিল পাশের বাড়ির বিয়ের আসরে অন্য জীবনের ঝলক দেখে আসে, আবার নিজের জীবনের স্মৃতিতে হঠাৎ থমকে যায়—যে জীবন শেষ হয়েছিল এক দুর্ঘটনায়। চুমু, সদয় কথা, নাচ—জীবনের ক্ষণস্থায়ী অথচ অমূল্য মুহূর্তগুলোই বারবার সামনে আসে।

উপন্যাসের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গ
লিংকন ইন দ্য বার্ডো যেমন বিস্ময় জাগিয়েছিল, ভিজিল ততটা নতুন না হলেও আগের উদ্ভাবনকে বিস্তার দেয়। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত কৌতুক বা পরিবেশবাদী আক্ষেপ পাঠকের পছন্দ নাও হতে পারে। তবু উপন্যাসের মৃত্যু নিয়ে শঙ্কার সময়ে সন্ডার্স দেখান, শব্দ আর কল্পনার শক্তিতে গল্প বলার নতুন পথ এখনো খোলা। সহমর্মিতাকে যন্ত্রের মতো চালু রেখে তিনি কাহিনির সীমানা ঠেলে এগিয়ে দেন।