০৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক

মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার একটি অবৈধ  কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। শনিবার উদ্ধার তৎপরতার সময় আরও দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারির বিস্ফোরণের পর থেকেই বহু সংস্থার সমন্বয়ে টানা উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে এখনও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে খনির ভেতরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় একশ ফুট গভীর উল্লম্ব খাদ থেকে ছড়িয়ে পড়া জটিল সুড়ঙ্গ পথের ভেতরে কিছু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত নয়জন শ্রমিক বর্তমানে শিলংয়ে চিকিৎসাধীন। নিহতদের অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং তারা আসাম, মেঘালয় ও নেপালের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার ও অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, খনি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই খনি মালিককে আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। অবৈধভাবে পরিচালিত একাধিক খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্ফোরক সামগ্রীসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই মালিকের একজনের বয়স ৩৬ এবং অন্যজনের ৪২ বছর বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধ খনি
২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল র‌্যার্টহোল খনন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতও বহাল রাখে। তবু পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় এলাকায় অবৈধ কয়লা খনন অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনাকে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত ও রাজনৈতিক দায় নির্ধারণের দাবি তুলেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণের দাবি
রাজ্য কংগ্রেসসহ একাধিক সংগঠন উচ্চপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে র‌্যার্টহোল খনন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মেঘালয়ের অবৈধ কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ, মৃত বেড়ে ২৭, এখনও নিখোঁজ শ্রমিক

০৯:০৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেঘালয়ের পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় জেলার একটি অবৈধ  কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে। শনিবার উদ্ধার তৎপরতার সময় আরও দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গত ৫ ফেব্রুয়ারির বিস্ফোরণের পর থেকেই বহু সংস্থার সমন্বয়ে টানা উদ্ধার অভিযান চলছে, তবে এখনও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযান অব্যাহত
জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে খনির ভেতরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় একশ ফুট গভীর উল্লম্ব খাদ থেকে ছড়িয়ে পড়া জটিল সুড়ঙ্গ পথের ভেতরে কিছু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আহত নয়জন শ্রমিক বর্তমানে শিলংয়ে চিকিৎসাধীন। নিহতদের অধিকাংশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং তারা আসাম, মেঘালয় ও নেপালের বাসিন্দা।

গ্রেপ্তার ও অভিযান
পুলিশ জানিয়েছে, খনি বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দুই খনি মালিককে আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠায়। অবৈধভাবে পরিচালিত একাধিক খনি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিস্ফোরক সামগ্রীসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত দুই মালিকের একজনের বয়স ৩৬ এবং অন্যজনের ৪২ বছর বলে জানা গেছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবৈধ খনি
২০১৪ সালের এপ্রিলে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল র‌্যার্টহোল খনন নিষিদ্ধ ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে সর্বোচ্চ আদালতও বহাল রাখে। তবু পূর্ব জয়ন্তিয়া পাহাড় এলাকায় অবৈধ কয়লা খনন অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন সংগঠন এই ঘটনাকে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত ও রাজনৈতিক দায় নির্ধারণের দাবি তুলেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণের দাবি
রাজ্য কংগ্রেসসহ একাধিক সংগঠন উচ্চপর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে র‌্যার্টহোল খনন নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করা এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।