০৭:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মেঘালয়ে সীমান্ত বেড়া পরিকল্পনা ঘিরে বিক্ষোভ, গ্রামকে বেড়ার বাইরে রাখার আশঙ্কা

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি গ্রামের বাসিন্দারা নতুন সীমান্ত বেড়া নির্মাণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে পুরো গ্রামটি নিরাপত্তা বেড়ার বাইরে চলে যেতে পারে, ফলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার শূন্যরেখা সংলগ্ন লিংখং গ্রামে রোববার স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এই গ্রামটির অবস্থান এমন যে, সীমান্তের ওপারের বসতির সঙ্গে এর দূরত্ব মাত্র কয়েক মিটার।

শূন্যরেখাতেই বেড়া নির্মাণের দাবি

বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি জানিয়েছেন, সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে নয়, বরং শূন্যরেখা বরাবরই বেড়া নির্মাণ করতে হবে। তাদের বক্তব্য, এতে গ্রামটি ভারতের ভেতরেই থাকবে এবং নিরাপত্তা বেড়ার আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত হবে।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে মেঘালয়ের গ্রামে বিক্

গ্রামের প্রধান রামু বলেন, তারা সীমান্ত বেড়ার বিরোধী নন। তবে তাদের দাবি, এমনভাবে বেড়া নির্মাণ করতে হবে যাতে গ্রামের মানুষ নিজেদের এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে।

সীমান্তের বাস্তবতা

লিংখং এমন কয়েকটি গ্রামের একটি, যেখানে সীমান্তের দুই পাশের বসতিগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহামারির সময় গ্রামবাসীরা নিজেরাই একটি বাঁশের বেড়া তৈরি করেছিলেন, যা কার্যত দুই এলাকার মধ্যে সীমারেখার কাজ করেছে। এরপর পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী সীমান্ত বেড়া সাধারণত শূন্যরেখা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব ভেতরে নির্মাণ করা হয়। তবে এতে সীমান্তসংলগ্ন কিছু বসতি বেড়ার বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

বাংলাদেশ–ভারতের সম্পর্কের সংকট কোথায়, সমাধান কী | প্রথম আলো

বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা

স্থানীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে শূন্যরেখা বরাবর এক সারির বিশেষ ধরনের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের উদ্বেগও কাটেনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন লিংখং গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের বসবাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মেঘালয়ে সীমান্ত বেড়া পরিকল্পনা ঘিরে বিক্ষোভ, গ্রামকে বেড়ার বাইরে রাখার আশঙ্কা

১১:৫৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের মেঘালয় রাজ্যের একটি গ্রামের বাসিন্দারা নতুন সীমান্ত বেড়া নির্মাণ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী বেড়া নির্মাণ করা হলে পুরো গ্রামটি নিরাপত্তা বেড়ার বাইরে চলে যেতে পারে, ফলে বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার শূন্যরেখা সংলগ্ন লিংখং গ্রামে রোববার স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি অবস্থিত এই গ্রামটির অবস্থান এমন যে, সীমান্তের ওপারের বসতির সঙ্গে এর দূরত্ব মাত্র কয়েক মিটার।

শূন্যরেখাতেই বেড়া নির্মাণের দাবি

বিক্ষোভকারীরা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে দাবি জানিয়েছেন, সীমান্ত থেকে ভেতরের দিকে নয়, বরং শূন্যরেখা বরাবরই বেড়া নির্মাণ করতে হবে। তাদের বক্তব্য, এতে গ্রামটি ভারতের ভেতরেই থাকবে এবং নিরাপত্তা বেড়ার আওতায়ও অন্তর্ভুক্ত হবে।

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া নিয়ে মেঘালয়ের গ্রামে বিক্

গ্রামের প্রধান রামু বলেন, তারা সীমান্ত বেড়ার বিরোধী নন। তবে তাদের দাবি, এমনভাবে বেড়া নির্মাণ করতে হবে যাতে গ্রামের মানুষ নিজেদের এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে।

সীমান্তের বাস্তবতা

লিংখং এমন কয়েকটি গ্রামের একটি, যেখানে সীমান্তের দুই পাশের বসতিগুলো খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মহামারির সময় গ্রামবাসীরা নিজেরাই একটি বাঁশের বেড়া তৈরি করেছিলেন, যা কার্যত দুই এলাকার মধ্যে সীমারেখার কাজ করেছে। এরপর পরিস্থিতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বর্তমান আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী সীমান্ত বেড়া সাধারণত শূন্যরেখা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্ব ভেতরে নির্মাণ করা হয়। তবে এতে সীমান্তসংলগ্ন কিছু বসতি বেড়ার বাইরে থেকে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

বাংলাদেশ–ভারতের সম্পর্কের সংকট কোথায়, সমাধান কী | প্রথম আলো

বাংলাদেশকে নিয়ে আলোচনা

স্থানীয় প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে শূন্যরেখা বরাবর এক সারির বিশেষ ধরনের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে প্রস্তাবটির ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের উদ্বেগও কাটেনি।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও স্থানীয় মানুষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সমাধান খুঁজে বের করার দাবি জানিয়েছেন লিংখং গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের মতে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানুষের বসবাস ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়া উচিত।