১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের সর্বোচ্চে, খাদ্যমূল্যের আগুনে পুড়ছেন সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, মে ২০২৬ মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত — দুই খাতেই চাপ

খাদ্য মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৮.৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও ৯.৫৭ থেকে বেড়ে ৯.৭১ শতাংশ হয়েছে। পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি — ৯.৮৬ শতাংশ। আবাসন ও ইউটিলিটি খাতেও বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৯২ থেকে ৯.২৬ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৮ শতাংশ, যা শহরের তুলনায় বেশি — কৃষিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চাপ আরও কঠিন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়িয়ে দিচ্ছে চাপ

ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর থেকে ইরানি হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের উপরে রয়েছে। বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। ফলে জ্বালানি, সার ও পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে বাস্তবতার ফারাক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নিয়েছে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল জুন ২০২৬-এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার। কিন্তু মে মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বাদশ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখন ৮.৬৩ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ১০.১৩ শতাংশের চেয়ে কম হলেও এখনো অনেক বেশি।

কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো

মজুরি প্রবৃদ্ধি মে মাসে ছিল ৮.২১ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির প্রায় সমান। ফলে কার্যকরভাবে বাস্তব আয় বাড়ছে না। বিশেষ করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা বেশি চাপে আছেন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকার মতো এলাকায় সরকারের ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, বাজারে আগুন। বাজেট অধিবেশনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ১৬ মাসের সর্বোচ্চে, খাদ্যমূল্যের আগুনে পুড়ছেন সাধারণ মানুষ

০৭:২৩:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য বলছে, মে ২০২৬ মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.৪২ শতাংশে। এপ্রিলে এই হার ছিল ৯.০৪ শতাংশ। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত — দুই খাতেই চাপ

খাদ্য মূল্যস্ফীতি এপ্রিলের ৮.৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৯.০৬ শতাংশে পৌঁছেছে। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও ৯.৫৭ থেকে বেড়ে ৯.৭১ শতাংশ হয়েছে। পরিবহন খাতে মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি — ৯.৮৬ শতাংশ। আবাসন ও ইউটিলিটি খাতেও বৃদ্ধি পেয়েছে ৮.৯২ থেকে ৯.২৬ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে মূল্যস্ফীতি ৯.৪৮ শতাংশ, যা শহরের তুলনায় বেশি — কৃষিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই চাপ আরও কঠিন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বাড়িয়ে দিচ্ছে চাপ

ফেব্রুয়ারির শেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত হামলার পর থেকে ইরানি হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের উপরে রয়েছে। বাংলাদেশ তার মোট জ্বালানি চাহিদার ৯৫ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে মেটায়। ফলে জ্বালানি, সার ও পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি সরাসরি খুচরা মূল্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।

সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে বাস্তবতার ফারাক

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ৬ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে নিয়েছে। সরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল জুন ২০২৬-এর মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার। কিন্তু মে মাসের পরিসংখ্যান বলছে, সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। দ্বাদশ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি এখন ৮.৬৩ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ের ১০.১৩ শতাংশের চেয়ে কম হলেও এখনো অনেক বেশি।

কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো

মজুরি প্রবৃদ্ধি মে মাসে ছিল ৮.২১ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির প্রায় সমান। ফলে কার্যকরভাবে বাস্তব আয় বাড়ছে না। বিশেষ করে কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের নিম্ন আয়ের শ্রমিকরা বেশি চাপে আছেন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও পুরান ঢাকার মতো এলাকায় সরকারের ভর্তুকিমূল্যে পণ্য বিক্রির কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে।

মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৯.৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, বাজারে আগুন। বাজেট অধিবেশনে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাই হবে সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।