০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

ম্যালেরিয়ায় নবজাতকের জন্য প্রথম ওষুধের অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি প্রথমবারের মতো নবজাতক ও শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ম্যালেরিয়ার ওষুধকে প্রাক-যোগ্যতা (Prequalification) অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ম্যালেরিয়া-প্রবণ অঞ্চলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া কোটি কোটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা সহজলভ্য হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে।

আর্তেমেথার-লুমেফান্ট্রিন (Artemether-lumefantrine) হলো নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রথম অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই প্রাক-যোগ্যতা অনুমোদনের অর্থ হলো ওষুধটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতার শর্ত পূরণ করেছে।

শিশুদের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন

এতদিন পর্যন্ত নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের এমন ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হতো, যা মূলত বড় শিশুদের জন্য তৈরি। এতে ডোজ নির্ধারণে ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেত।

নতুন এই ওষুধ সেই দীর্ঘদিনের চিকিৎসাগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে ডব্লিউএইচও। বিশেষ করে আফ্রিকার ম্যালেরিয়া-প্রবণ এলাকায় প্রতিবছর জন্ম নেওয়া প্রায় ৩ কোটি শিশুর চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডব্লিউএইচও প্রধানের আশাবাদ

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া অসংখ্য শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং অসংখ্য পরিবার ও সমাজকে স্বাস্থ্য, সম্পদ ও আশার দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন টিকা, উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, আধুনিক মশারি এবং শিশুদের উপযোগী কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে জীবদ্দশার মধ্যেই ম্যালেরিয়া নির্মূল করা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

এখনও বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের ৮০টি দেশে আনুমানিক ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর ৯৫ শতাংশই আফ্রিকায়, আর মৃত্যুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

তবে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এখনও একাধিক বাধা রয়েছে। ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা, কীটনাশকের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

প্রাক-যোগ্যতা অনুমোদনের গুরুত্ব

ডব্লিউএইচওর প্রাক-যোগ্যতা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, টিকা, পরীক্ষার সরঞ্জাম ও চিকিৎসা-উপকরণের মান যাচাই করা হয়। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশে ওষুধ ও চিকিৎসা-সামগ্রীর মান তদারকির জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেই। ফলে এই অনুমোদন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ওষুধ সংগ্রহকে সহজ করবে এবং ম্যালেরিয়া আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসার দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

ম্যালেরিয়ায় নবজাতকের জন্য প্রথম ওষুধের অনুমোদন দিল ডব্লিউএইচও

০৮:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি প্রথমবারের মতো নবজাতক ও শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি ম্যালেরিয়ার ওষুধকে প্রাক-যোগ্যতা (Prequalification) অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে ম্যালেরিয়া-প্রবণ অঞ্চলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া কোটি কোটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও কার্যকর চিকিৎসা সহজলভ্য হওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হবে।

আর্তেমেথার-লুমেফান্ট্রিন (Artemether-lumefantrine) হলো নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি প্রথম অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ। ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, এই প্রাক-যোগ্যতা অনুমোদনের অর্থ হলো ওষুধটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতার শর্ত পূরণ করেছে।

শিশুদের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন

এতদিন পর্যন্ত নবজাতক ও অল্পবয়সী শিশুদের এমন ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হতো, যা মূলত বড় শিশুদের জন্য তৈরি। এতে ডোজ নির্ধারণে ভুল, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যেত।

নতুন এই ওষুধ সেই দীর্ঘদিনের চিকিৎসাগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে ডব্লিউএইচও। বিশেষ করে আফ্রিকার ম্যালেরিয়া-প্রবণ এলাকায় প্রতিবছর জন্ম নেওয়া প্রায় ৩ কোটি শিশুর চিকিৎসায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডব্লিউএইচও প্রধানের আশাবাদ

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বলেছেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ম্যালেরিয়া অসংখ্য শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং অসংখ্য পরিবার ও সমাজকে স্বাস্থ্য, সম্পদ ও আশার দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন টিকা, উন্নত রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি, আধুনিক মশারি এবং শিশুদের উপযোগী কার্যকর ওষুধের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, পর্যাপ্ত রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত থাকলে জীবদ্দশার মধ্যেই ম্যালেরিয়া নির্মূল করা বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠতে পারে।

এখনও বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ

ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের ৮০টি দেশে আনুমানিক ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয় এবং প্রায় ৬ লাখ ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। মোট আক্রান্ত ও মৃত্যুর ৯৫ শতাংশই আফ্রিকায়, আর মৃত্যুর প্রায় তিন-চতুর্থাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

তবে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এখনও একাধিক বাধা রয়েছে। ওষুধ প্রতিরোধক্ষমতা, কীটনাশকের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতা এবং বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়ায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।

প্রাক-যোগ্যতা অনুমোদনের গুরুত্ব

ডব্লিউএইচওর প্রাক-যোগ্যতা কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে ক্রয়ের জন্য ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ, টিকা, পরীক্ষার সরঞ্জাম ও চিকিৎসা-উপকরণের মান যাচাই করা হয়। বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ দেশে ওষুধ ও চিকিৎসা-সামগ্রীর মান তদারকির জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেই। ফলে এই অনুমোদন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে ওষুধ সংগ্রহকে সহজ করবে এবং ম্যালেরিয়া আক্রান্ত নবজাতকদের চিকিৎসার দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।