০১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাজ্যে নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার চিন্তা, আপত্তিতে সুপারমার্কেটগুলো

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সুপারমার্কেটগুলোকে কিছু জরুরি খাদ্যপণ্যে নির্দিষ্ট মূল্যসীমা বা মূল্য স্থির রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

সরকারি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রুটি, দুধ, মাখন, ডিম, চাল ও মুরগির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে নির্দিষ্ট কম দামে বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং স্বেচ্ছাভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের তীব্র আপত্তি

Will UK supermarkets cap food prices and how could it work? | The  Independent

বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের মূল্যনিয়ন্ত্রণ বাজারব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হবে। তাদের দাবি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও করের বাড়তি চাপের মধ্যে মূল্য স্থির রাখলে শেষ পর্যন্ত অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

একজন খুচরা বিক্রেতা এই পরিকল্পনাকে “সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। আরেকজনের ভাষায়, এটি “বাজারে অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ”।

তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট দামে পণ্য সবসময় মজুত রাখতে গেলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে। কোনো কমদামি পণ্য শেষ হয়ে গেলে একই দামে অপেক্ষাকৃত বেশি দামের পণ্য বিক্রি করতে হতে পারে, যা বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

সরকারের যুক্তি কী

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতায় খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং এতে পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস সুপারমার্কেট মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী দিনে জনগণের জন্য নতুন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার কথাও রয়েছে।

Supermarkets 'encouraged to cap food prices' by government to help with cost  of living crisis | Money News | Sky News

তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক মূল্যনিয়ন্ত্রণ নয়। বরং স্বেচ্ছায় মূল্য স্থির রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা

মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত মুনাফা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হবে।

সরকারের ধারণা, সংকটের সময় কিছু প্রতিষ্ঠান অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছে। তাই বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি। সেই খরচ কমানোর দিকেই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

Focus: Savings and algorithms: UK supermarkets battle cost of living crisis  | Reuters

বাজারে নতুন বিতর্ক

এই প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষ বাড়তি দামের চাপে স্বস্তি চাইছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত কিছু পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও তার প্রভাব অন্য পণ্যের ওপর পড়তে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে নতুন ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাজ্যে নিত্যপণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার চিন্তা, আপত্তিতে সুপারমার্কেটগুলো

১১:৪১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় যুক্তরাজ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সুপারমার্কেটগুলোকে কিছু জরুরি খাদ্যপণ্যে নির্দিষ্ট মূল্যসীমা বা মূল্য স্থির রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে খুচরা বিক্রেতারা এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

সরকারি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, রুটি, দুধ, মাখন, ডিম, চাল ও মুরগির মতো প্রয়োজনীয় পণ্যে নির্দিষ্ট কম দামে বিক্রির বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। যদিও এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং স্বেচ্ছাভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের তীব্র আপত্তি

Will UK supermarkets cap food prices and how could it work? | The  Independent

বড় বড় সুপারমার্কেটগুলোর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই ধরনের মূল্যনিয়ন্ত্রণ বাজারব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ হবে। তাদের দাবি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও করের বাড়তি চাপের মধ্যে মূল্য স্থির রাখলে শেষ পর্যন্ত অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

একজন খুচরা বিক্রেতা এই পরিকল্পনাকে “সম্পূর্ণ অযৌক্তিক” বলে মন্তব্য করেছেন। আরেকজনের ভাষায়, এটি “বাজারে অপ্রয়োজনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ”।

তাদের আশঙ্কা, নির্দিষ্ট দামে পণ্য সবসময় মজুত রাখতে গেলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হবে। কোনো কমদামি পণ্য শেষ হয়ে গেলে একই দামে অপেক্ষাকৃত বেশি দামের পণ্য বিক্রি করতে হতে পারে, যা বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি করবে।

সরকারের যুক্তি কী

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অস্থিরতায় খাদ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং এতে পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়ে গেছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস সুপারমার্কেট মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী দিনে জনগণের জন্য নতুন সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণার কথাও রয়েছে।

Supermarkets 'encouraged to cap food prices' by government to help with cost  of living crisis | Money News | Sky News

তবে সরকার স্পষ্ট করেছে, এটি বাধ্যতামূলক মূল্যনিয়ন্ত্রণ নয়। বরং স্বেচ্ছায় মূল্য স্থির রাখার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

নজরদারি বাড়ানোর পরিকল্পনা

মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ক্ষমতাও বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত মুনাফা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো হবে।

সরকারের ধারণা, সংকটের সময় কিছু প্রতিষ্ঠান অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে মুনাফা করছে। তাই বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রকৃত সমস্যা হচ্ছে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বৃদ্ধি। সেই খরচ কমানোর দিকেই সরকারের বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত।

Focus: Savings and algorithms: UK supermarkets battle cost of living crisis  | Reuters

বাজারে নতুন বিতর্ক

এই প্রস্তাব ঘিরে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে সাধারণ মানুষ বাড়তি দামের চাপে স্বস্তি চাইছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি বাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত কিছু পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলেও তার প্রভাব অন্য পণ্যের ওপর পড়তে পারে। ফলে সামগ্রিকভাবে বাজারে নতুন ধরনের চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।