০৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে কম খরচে হাজার হাজার দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উদ্যোগ, নতুন চ্যালেঞ্জ মার্কিন অস্ত্রশিল্পে ছোট নৌকার বিক্ষোভ নয়, আসল সংকট ব্রিটেনের ভেঙে পড়া অভিবাসন ব্যবস্থা ইউরোপে আবাসন সংকট, এয়ারবিএনবির ওপর আরও কড়াকড়ির প্রস্তাব অর্থের বিনিময়ে প্রচার, অথচ বিজ্ঞাপনের পরিচয় গোপন রাখতে বলছে ব্র্যান্ড ৯/১১-এর পর যে পথে বদলে গেল বিশ্বব্যবস্থা এআইকে নিজের গোপন ভাবনা দিলে সেটাই কি একদিন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে? নাটোরে দিনে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ নেই, কমেছে আয়: বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশ যাচ্ছে না, আমন্ত্রণ পাননি প্রধানমন্ত্রী: হুমায়ুন কবির

যুক্তরাজ্যে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, বাতিল হলো এক হাজারের বেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইট

যুক্তরাজ্যের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং লাখো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশের আকাশপথেও।

চার ঘণ্টার ত্রুটিতে তৈরি হয় দীর্ঘ জট

যুক্তরাজ্যের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাটসের উড়োজাহাজ চলাচল প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ত্রুটি দেখা দেয়। ন্যাটস প্রায় চার ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ত্রুটির সমাধান করে। তবে এই সময়ের মধ্যে জমে যায় বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজ ও যাত্রীর জট।

কারিগরি সমস্যা সমাধান হয়ে গেলেও স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের প্রভাব বুধবারও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বড় বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তি

More flight delays expected after hundreds cancelled by air traffic control  glitch

এই বিপর্যয়ে লন্ডনের হিথরো ও গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার এবং বার্মিংহামের মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এডিনবরো ও বেলফাস্টসহ আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

হিথরো বিমানবন্দর মঙ্গলবার রাতের বাকি সময়ের জন্য সব অবতরণকারী উড়োজাহাজের কার্যক্রম স্থগিত করে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ একশর বেশি ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে কয়েক হাজার যাত্রী সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া পরোক্ষ প্রভাব অন্তত বুধবার পর্যন্ত চলতে পারে।

রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিলম্বের শিকার হয়েছেন এবং ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইজিজেট, কেএলএম, ইউরোউইংস ও উইজ এয়ারের ফ্লাইটও ব্যাপকভাবে বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসা উড়োজাহাজের চলাচলও এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিন বছরে তৃতীয় বড় বিপর্যয়

ন্যাটসের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় গত তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে এটি তৃতীয় বড় ধরনের বিপর্যয়। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই ধরনের বড় সমস্যার কারণে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

তবে ন্যাটস জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ত্রুটিটি একটি বিচ্ছিন্ন কারিগরি সমস্যা এবং আগের দুটি ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।

UK air traffic control glitch causes over 600 canceled flights, monitor  says | AP News

ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফ এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সৃষ্ট পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংস্থাটি গ্রহণ করছে।

তবে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ক্ষোভও তীব্র হয়েছে। রায়ানএয়ার ন্যাটসের প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে উইজ এয়ার বলেছে, বর্তমান কাঠামোয় ন্যাটস তার দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নয়।

সরকারের নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ

যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সমস্যার সমাধান করেছেন। একই সঙ্গে বিপর্যয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচলব্যবস্থাকে সহায়তা করা প্রযুক্তি ও অবকাঠামো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য কি না, সে বিষয়ে ন্যাটসের কাছ থেকে তিনি প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাইবেন।

এদিকে বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে তৈরি হওয়া বিপুল জট কাটিয়ে বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে সময় লাগবে। ফলে মঙ্গলবারের এই কারিগরি ত্রুটির প্রভাব শুধু এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও কয়েক দিন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিমান চলাচলে ভোগান্তি তৈরি করতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

পলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও বাজারে এলো ভারত ও চীনে

যুক্তরাজ্যে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, বাতিল হলো এক হাজারের বেশি উড়োজাহাজের ফ্লাইট

০২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় হঠাৎ কারিগরি ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যাপক ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় এক হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং লাখো যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপের অন্যান্য দেশের আকাশপথেও।

চার ঘণ্টার ত্রুটিতে তৈরি হয় দীর্ঘ জট

যুক্তরাজ্যের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ন্যাটসের উড়োজাহাজ চলাচল প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থায় স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে ত্রুটি দেখা দেয়। ন্যাটস প্রায় চার ঘণ্টা পর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ত্রুটির সমাধান করে। তবে এই সময়ের মধ্যে জমে যায় বিপুলসংখ্যক উড়োজাহাজ ও যাত্রীর জট।

কারিগরি সমস্যা সমাধান হয়ে গেলেও স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে মঙ্গলবারের বিপর্যয়ের প্রভাব বুধবারও অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বড় বিমানবন্দরগুলোতে ব্যাপক ভোগান্তি

More flight delays expected after hundreds cancelled by air traffic control  glitch

এই বিপর্যয়ে লন্ডনের হিথরো ও গ্যাটউইক, ম্যানচেস্টার এবং বার্মিংহামের মতো ব্যস্ত বিমানবন্দরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এডিনবরো ও বেলফাস্টসহ আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে।

হিথরো বিমানবন্দর মঙ্গলবার রাতের বাকি সময়ের জন্য সব অবতরণকারী উড়োজাহাজের কার্যক্রম স্থগিত করে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ একশর বেশি ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। এতে কয়েক হাজার যাত্রী সরাসরি ভোগান্তিতে পড়েছেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই বিপর্যয়ের কারণে তৈরি হওয়া পরোক্ষ প্রভাব অন্তত বুধবার পর্যন্ত চলতে পারে।

রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তাদের ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী বিলম্বের শিকার হয়েছেন এবং ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ইজিজেট, কেএলএম, ইউরোউইংস ও উইজ এয়ারের ফ্লাইটও ব্যাপকভাবে বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে আসা উড়োজাহাজের চলাচলও এতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিন বছরে তৃতীয় বড় বিপর্যয়

ন্যাটসের আকাশপথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় গত তিন বছরের কিছু বেশি সময়ে এটি তৃতীয় বড় ধরনের বিপর্যয়। এর আগে ২০২৩ সালের আগস্ট এবং ২০২৫ সালের জুলাইয়ে একই ধরনের বড় সমস্যার কারণে যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।

তবে ন্যাটস জানিয়েছে, মঙ্গলবারের ত্রুটিটি একটি বিচ্ছিন্ন কারিগরি সমস্যা এবং আগের দুটি ঘটনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।

UK air traffic control glitch causes over 600 canceled flights, monitor  says | AP News

ন্যাটসের প্রধান নির্বাহী মার্টিন রলফ এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সৃষ্ট পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় সংস্থাটি গ্রহণ করছে।

তবে উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ক্ষোভও তীব্র হয়েছে। রায়ানএয়ার ন্যাটসের প্রধান নির্বাহীর পদত্যাগ দাবি করেছে। অন্যদিকে উইজ এয়ার বলেছে, বর্তমান কাঠামোয় ন্যাটস তার দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নয়।

সরকারের নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ

যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার জানিয়েছেন, কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সমস্যার সমাধান করেছেন। একই সঙ্গে বিপর্যয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের বিমান চলাচলব্যবস্থাকে সহায়তা করা প্রযুক্তি ও অবকাঠামো যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য কি না, সে বিষয়ে ন্যাটসের কাছ থেকে তিনি প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা চাইবেন।

এদিকে বাতিল ও বিলম্বিত ফ্লাইটের কারণে তৈরি হওয়া বিপুল জট কাটিয়ে বিমানবন্দর ও উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে স্বাভাবিক সূচিতে ফিরতে সময় লাগবে। ফলে মঙ্গলবারের এই কারিগরি ত্রুটির প্রভাব শুধু এক দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও কয়েক দিন যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিমান চলাচলে ভোগান্তি তৈরি করতে পারে।