০৫:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে গেল, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কার্যকর

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দফায় দফায় আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। হকি খেলার সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সিমেন্ট—বিভিন্ন পণ্যে এর প্রভাব পড়বে।

কানাডার পাল্টা শুল্কের হুঁশিয়ারি

চুক্তি না হওয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দেশটির শ্রমিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।

কার্নির ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করলেও শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো কানাডার জন্য অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে প্রস্তাবিত চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

U.S. imposes 50% tariffs on $20 billion worth of Canadian products

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেছেন, কানাডাই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।

আলোচনায় অচলাবস্থা

শুক্রবারও দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। এর আগের দিনও গ্রিয়ার ও কানাডার প্রধান আলোচক ডমিনিক লেব্লাঁ প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন।

তবে আলোচনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত দুই দেশের মধ্যে আর কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হওয়া উচিত। কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

পাল্টা ব্যবস্থায় বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কানাডা মার্কিন মদ, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়।

কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কিছু মার্কিন পণ্য ও সেবার ওপর বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে। কানাডার বিভিন্ন প্রাদেশিক নেতা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে কানাডার মদের দোকানগুলো থেকে মার্কিন মদ ও ওয়াইন সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই দেশই পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে উত্তেজনা কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তবে ব্যবসায়ী মহলের চাপের কারণে আগামী দিনগুলোতে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Mark Carney suspends US trade talks and announces retaliatory tariffs | Fox  Business

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় কানাডা

ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ইতোমধ্যে চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে এবং কর্মসংস্থানেও।

কার্নি বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আগের অবস্থায় আর ফিরবে না। তাই দেশটিকে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে।

বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা কমানো কানাডার জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ শুল্ক বিরোধের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নতুন সংস্করণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বাকি রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কে সামনে আরও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে গেল, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক কার্যকর

০২:৩৫:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দফায় দফায় আলোচনা চললেও যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা নতুন বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। এর ফলে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে প্রায় ২০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। হকি খেলার সরঞ্জাম থেকে শুরু করে সিমেন্ট—বিভিন্ন পণ্যে এর প্রভাব পড়বে।

কানাডার পাল্টা শুল্কের হুঁশিয়ারি

চুক্তি না হওয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, দেশটির শ্রমিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে কানাডা।

কার্নির ভাষ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশ আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করলেও শেষ মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র যেসব শর্ত পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে, সেগুলো কানাডার জন্য অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে প্রস্তাবিত চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

U.S. imposes 50% tariffs on $20 billion worth of Canadian products

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার অভিযোগ করেছেন, কানাডাই চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।

আলোচনায় অচলাবস্থা

শুক্রবারও দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে দীর্ঘ সময় আলোচনা চলে। এর আগের দিনও গ্রিয়ার ও কানাডার প্রধান আলোচক ডমিনিক লেব্লাঁ প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন।

তবে আলোচনার পরও দুই পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য থেকে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আপাতত দুই দেশের মধ্যে আর কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হওয়া উচিত। কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নির সঙ্গে তাঁর ভালো সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

পাল্টা ব্যবস্থায় বাড়ছে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, কানাডা মার্কিন মদ, গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে। এর প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেয়।

কানাডাও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কিছু মার্কিন পণ্য ও সেবার ওপর বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে। কানাডার বিভিন্ন প্রাদেশিক নেতা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে কানাডার মদের দোকানগুলো থেকে মার্কিন মদ ও ওয়াইন সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, দুই দেশই পাল্টা শুল্ক আরোপ করলে উত্তেজনা কমিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তবে ব্যবসায়ী মহলের চাপের কারণে আগামী দিনগুলোতে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

Mark Carney suspends US trade talks and announces retaliatory tariffs | Fox  Business

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় কানাডা

ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ইতোমধ্যে চাপের মুখে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে এবং কর্মসংস্থানেও।

কার্নি বারবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক আগের অবস্থায় আর ফিরবে না। তাই দেশটিকে নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে হবে।

বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভর। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এই নির্ভরতা কমানো কানাডার জন্য বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ শুল্ক বিরোধের পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির নতুন সংস্করণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা বাকি রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য সম্পর্কে সামনে আরও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।