০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ৩-৪ মাসের মধ্যেই, শেষ ধাপে আলোচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল অংশ কার্যত সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

চুক্তির শেষ ধাপে কী বাকি

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সেকশন ৩০১ বাণিজ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ আইন অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

কর্মকর্তা জানান, ৬০টি দেশকে ঘিরে চলমান একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাবে।

বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আর উল্লেখযোগ্য কোনো দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নেই। বর্তমান বিলম্বের কারণ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া।

নতুন শুল্কের প্রস্তাব

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারতের ওষুধ রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে; মার্কিন তদন্ত শেষ হলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে সই হতে পারে, তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধ শুল্ক পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি ৩-৪ মাসের মধ্যেই, শেষ ধাপে আলোচনা

০৬:৩৬:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যেই সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মূল অংশ কার্যত সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে প্রধান বাধা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য তদন্তের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ তথ্য জানান।

চুক্তির শেষ ধাপে কী বাকি

মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির খসড়া প্রস্তুত রয়েছে। তবে ওয়াশিংটনের সেকশন ৩০১ বাণিজ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগোনো সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সেকশন ৩০১ আইন অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ দেয় এবং প্রয়োজনে শুল্ক আরোপ বা অন্যান্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করে।

কর্মকর্তা জানান, ৬০টি দেশকে ঘিরে চলমান একটি সেকশন ৩০১ তদন্ত চলতি সপ্তাহ বা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব তদন্ত শেষ হলে শুধু ভারতের সঙ্গেই নয়, অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বাণিজ্য আলোচনায় অগ্রগতি দেখা যাবে।

বাজার উন্মুক্ত করার লক্ষ্য

ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে, যার মাধ্যমে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতা কমানো হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিয়ে আর উল্লেখযোগ্য কোনো দ্বিপক্ষীয় মতপার্থক্য নেই। বর্তমান বিলম্বের কারণ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তদন্ত প্রক্রিয়া।

নতুন শুল্কের প্রস্তাব

এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে এমন কয়েক ডজন দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় ভারতের নামও রয়েছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথকভাবে ঘোষণা করেছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া জেনেরিক ওষুধ দুই বছর পর্যন্ত শুল্কমুক্ত থাকবে। এরপর এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ এবং পরবর্তীতে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ভারতের ওষুধ রপ্তানিতে সম্ভাব্য প্রভাব

ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ শিল্পের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের ওপর ভারতের নির্ভরতা সবচেয়ে বেশি।

২০২৫ সালে ভারতের মোট ২৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ওষুধ রপ্তানির মধ্যে ৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৮ শতাংশই গেছে যুক্তরাষ্ট্রে। ফলে ভবিষ্যতে শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ শিল্প নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্তের পথে; মার্কিন তদন্ত শেষ হলে আগামী ৩-৪ মাসের মধ্যে সই হতে পারে, তবে নতুন শুল্ক পরিকল্পনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে। মার্কিন কর্মকর্তার মতে, আর কয়েক মাসের মধ্যেই চুক্তি সই হতে পারে। তবে এর আগে শেষ হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য তদন্ত। একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ওষুধ শুল্ক পরিকল্পনা ভারতের ওষুধ রপ্তানি খাতের জন্য নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।