১০:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ আসিয়ান বৈঠক, আবার আলোচনায় বসছে থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া

কুয়ালালামপুরে বিশেষ বৈঠক, সিদ্ধান্ত হয়নি
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত বন্ধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক। সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ সরাসরি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও বুধবার আবার আলোচনায় বসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

দুই সপ্তাহের সংঘাতে বড় ক্ষয়ক্ষতি
গত দুই সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসানের সভাপতিত্বে জরুরি ভিত্তিতে এই আসিয়ান বৈঠক ডাকা হয়।

সংযম ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান
বৈঠক শেষে প্রকাশিত সভাপতির বিবৃতিতে আসিয়ান সদস্যরা উভয় দেশকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করা এবং শত্রুতা বন্ধের বিষয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে মন্ত্রীরা।

বর্ডার কমিটি বৈঠকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বিষয়ক সংস্থা জেনারেল বর্ডার কমিটি বুধবার বৈঠকে বসবে। সেখানে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন ও তা যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হবে।

থাইল্যান্ডের অবস্থান
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়াকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি জানান, ২৪ ডিসেম্বর বর্ডার কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কত দ্রুত চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাত থামাতে আসিয়ান বৈঠক

কাম্বোডিয়ার নীরবতা
কাম্বোডিয়ার পক্ষে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বৈঠক শেষে দেশটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বৈঠকের বাইরে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকের মধ্যে মধ্যাহ্নভোজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আসিয়ান সূত্র জানিয়েছে, মূল বৈঠকের পর থাইল্যান্ড, কাম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়াকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আঞ্চলিক শান্তির ওপর জোর
বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসিয়ানকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরির ওপর জোর দেন এবং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সংলাপ চালু রাখার আহ্বান জানান।

মাঠে সংঘর্ষ অব্যাহত
কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সোমবার সীমান্তে লড়াই অব্যাহত ছিল। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, কাম্বোডিয়া ভোর থেকেই সীমান্তবর্তী বেসামরিক এলাকায় রকেট নিক্ষেপ করেছে। এর জবাবে থাইল্যান্ড কাম্বোডিয়ার ভেতরে সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ আসিয়ান বৈঠক, আবার আলোচনায় বসছে থাইল্যান্ড-কাম্বোডিয়া

১২:৩১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

কুয়ালালামপুরে বিশেষ বৈঠক, সিদ্ধান্ত হয়নি
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে চলমান সীমান্ত সংঘাত বন্ধে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠক। সোমবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশ সরাসরি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলেও বুধবার আবার আলোচনায় বসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

দুই সপ্তাহের সংঘাতে বড় ক্ষয়ক্ষতি
গত দুই সপ্তাহ ধরে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসানের সভাপতিত্বে জরুরি ভিত্তিতে এই আসিয়ান বৈঠক ডাকা হয়।

সংযম ও সহিংসতা বন্ধের আহ্বান
বৈঠক শেষে প্রকাশিত সভাপতির বিবৃতিতে আসিয়ান সদস্যরা উভয় দেশকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সংঘর্ষ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করা এবং শত্রুতা বন্ধের বিষয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছে মন্ত্রীরা।

বর্ডার কমিটি বৈঠকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত বিষয়ক সংস্থা জেনারেল বর্ডার কমিটি বুধবার বৈঠকে বসবে। সেখানে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন ও তা যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হবে।

থাইল্যান্ডের অবস্থান
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়াকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন। তিনি জানান, ২৪ ডিসেম্বর বর্ডার কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কীভাবে পরিচালিত হবে তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে কত দ্রুত চূড়ান্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে, সে বিষয়ে তিনি অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। তার মতে, এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সংঘাত থামাতে আসিয়ান বৈঠক

কাম্বোডিয়ার নীরবতা
কাম্বোডিয়ার পক্ষে উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রাক সোখন বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও বৈঠক শেষে দেশটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

বৈঠকের বাইরে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকের মধ্যে মধ্যাহ্নভোজও অন্তর্ভুক্ত ছিল। আসিয়ান সূত্র জানিয়েছে, মূল বৈঠকের পর থাইল্যান্ড, কাম্বোডিয়া ও মালয়েশিয়াকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

আঞ্চলিক শান্তির ওপর জোর
বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আসিয়ানকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরির ওপর জোর দেন এবং মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সংলাপ চালু রাখার আহ্বান জানান।

মাঠে সংঘর্ষ অব্যাহত
কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সোমবার সীমান্তে লড়াই অব্যাহত ছিল। থাই সেনাবাহিনীর দাবি, কাম্বোডিয়া ভোর থেকেই সীমান্তবর্তী বেসামরিক এলাকায় রকেট নিক্ষেপ করেছে। এর জবাবে থাইল্যান্ড কাম্বোডিয়ার ভেতরে সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।