১০:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫
  • 183

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রায় কোপটার সামনা-সামনি এসে পড়েছে যখন এমন সময় হাঁসটা হঠাৎ ঘাড় বাঁকিয়ে সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকাল। আমি আগাগোড়া ওর পেছন-পেছন যাচ্ছি দেখেই হয়তো হাঁসটার ধাঁধা লেগেছিল। তারপর যেন মনস্থির করে ফেলে হাঁসটা আবার পিছু ফিরল। কিন্তু বেড়াল যেভাবে চড়ুইপাখির ওপর বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেইভাবে ঝোপের আড়াল থেকে লাফিয়ে পড়ে ছেলেটাও এই সময়ে দু-হাতে হাঁসের গলা চেপে ধরলে। ভালোমতো ডাকবারও সময় পেলে না হাঁসটা।

এদিকে হাঁসের দলটা এই ব্যাপার দেখে প্যাঁকপ্যাঁক শুরু করে দিল আর সেই অবসরে ছেলেটা ছটফট করা হাঁসটাকে দু-হাতে চেপে ধরে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ল। পিছুপিছু আমিও ছুটলুম।’

অনেকক্ষণ ধরে হাঁসটা ডানা ঝাপটাতে-ঝাপটাতে, প্রাণপণে পা ছুড়তে-ছড়তে চলল। আমরা খাদের মধ্যে একটা নির্জন জায়গায় পৌঁছনো পর্যন্ত ও লড়াই চালিয়ে গেল। তারপর এক সময় থামল। ছেলেটা হাঁসটাকে মাটিতে ছুড়ে দিয়ে পকেট থেকে খানিকটা তামাক বের করলে। জোরে-জোরে দম নিতে-নিতে বললে:

‘এখানেই কাজ চলে যাবে। থামা যাক তাহলে।’

ছোট্ট একটা পকেটছুরি বের করে ও নিঃশব্দে হাঁসটার ছাল ছাড়াতে বসে গেল। আর মাঝে মাঝে তাকাতে লাগল আমার দিকে।

ভাঙা ডালপালা যোগাড় করে এক জায়গায় জড়ো করতে লাগলুম আমি।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘দেশালাই আছে?’

‘এই-যে,’ রক্তমাখা আঙুলে এক বাক্স দেশালাই আমার হাতে তুলে দিয়ে ছেলেটা বললে, ‘বুঝেসুঝে খরচ কোরো কিন্তু।’

এতক্ষণে ওর দিকে ভালো করে তাকালুম। পুরু ধুলোর আস্তরণ ওর কাটা-কাটা মুখচোখের মসৃণ শাদা রঙটা চাপা দিতে পারে নি। দেখলুম, কথা বলার সময় ওর দুই ঠোঁটের ডানদিকের জোড়ের কাছটা হঠাৎ অল্প একটু কোপে ওঠে আর সঙ্গে সঙ্গে বাঁ-চোখটা একটু কু’চকে যায়। ও ছিল আমার চেয়ে বছরখানেক কি বছর- দুয়েকের বড়, আর মনে হচ্ছিল গায়ে শক্তিও রাখে বেশি। চুরি-করা হাঁসটাকে যতক্ষণ শিকে গে’থে ঝলসানো হচ্ছিল, আমরা ঘাসের ওপর শুয়ে রইলুম। চারিদিক তখন ঝলসানো মাংসর মনোরম গন্ধে ম-ম করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

রণক্ষেত্রে (পর্ব-১০)

০৮:০০:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

প্রায় কোপটার সামনা-সামনি এসে পড়েছে যখন এমন সময় হাঁসটা হঠাৎ ঘাড় বাঁকিয়ে সন্দেহের চোখে আমার দিকে তাকাল। আমি আগাগোড়া ওর পেছন-পেছন যাচ্ছি দেখেই হয়তো হাঁসটার ধাঁধা লেগেছিল। তারপর যেন মনস্থির করে ফেলে হাঁসটা আবার পিছু ফিরল। কিন্তু বেড়াল যেভাবে চড়ুইপাখির ওপর বিদ্যুৎগতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, সেইভাবে ঝোপের আড়াল থেকে লাফিয়ে পড়ে ছেলেটাও এই সময়ে দু-হাতে হাঁসের গলা চেপে ধরলে। ভালোমতো ডাকবারও সময় পেলে না হাঁসটা।

এদিকে হাঁসের দলটা এই ব্যাপার দেখে প্যাঁকপ্যাঁক শুরু করে দিল আর সেই অবসরে ছেলেটা ছটফট করা হাঁসটাকে দু-হাতে চেপে ধরে জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে পড়ল। পিছুপিছু আমিও ছুটলুম।’

অনেকক্ষণ ধরে হাঁসটা ডানা ঝাপটাতে-ঝাপটাতে, প্রাণপণে পা ছুড়তে-ছড়তে চলল। আমরা খাদের মধ্যে একটা নির্জন জায়গায় পৌঁছনো পর্যন্ত ও লড়াই চালিয়ে গেল। তারপর এক সময় থামল। ছেলেটা হাঁসটাকে মাটিতে ছুড়ে দিয়ে পকেট থেকে খানিকটা তামাক বের করলে। জোরে-জোরে দম নিতে-নিতে বললে:

‘এখানেই কাজ চলে যাবে। থামা যাক তাহলে।’

ছোট্ট একটা পকেটছুরি বের করে ও নিঃশব্দে হাঁসটার ছাল ছাড়াতে বসে গেল। আর মাঝে মাঝে তাকাতে লাগল আমার দিকে।

ভাঙা ডালপালা যোগাড় করে এক জায়গায় জড়ো করতে লাগলুম আমি।

জিজ্ঞেস করলুম, ‘দেশালাই আছে?’

‘এই-যে,’ রক্তমাখা আঙুলে এক বাক্স দেশালাই আমার হাতে তুলে দিয়ে ছেলেটা বললে, ‘বুঝেসুঝে খরচ কোরো কিন্তু।’

এতক্ষণে ওর দিকে ভালো করে তাকালুম। পুরু ধুলোর আস্তরণ ওর কাটা-কাটা মুখচোখের মসৃণ শাদা রঙটা চাপা দিতে পারে নি। দেখলুম, কথা বলার সময় ওর দুই ঠোঁটের ডানদিকের জোড়ের কাছটা হঠাৎ অল্প একটু কোপে ওঠে আর সঙ্গে সঙ্গে বাঁ-চোখটা একটু কু’চকে যায়। ও ছিল আমার চেয়ে বছরখানেক কি বছর- দুয়েকের বড়, আর মনে হচ্ছিল গায়ে শক্তিও রাখে বেশি। চুরি-করা হাঁসটাকে যতক্ষণ শিকে গে’থে ঝলসানো হচ্ছিল, আমরা ঘাসের ওপর শুয়ে রইলুম। চারিদিক তখন ঝলসানো মাংসর মনোরম গন্ধে ম-ম করছে।