১০:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৯০)

নবম পরিচ্ছেদ

‘সত্যিই আর কোনো পথ নেই কি? ইস্, এইভাবে বোকার মতো ধরা পড়া! হয়তো আমি পালাতে পারব? না, পালানো সম্ভব নয়। আচ্ছা, এমনও তো হতে পারে যে লাল ফৌজ এই পথেই আসছে আর ঠিক সময়মতো এসে হাজির হয়ে আমায় উদ্ধার করবে? কিন্তু যদি ওরা না-ই আসে? কিংবা যদি আসতে খুব বেশি দেরি করে ফেলে, আর তখন যদি সব শেষ হয়ে গিয়ে থাকে? হয়তো… নাঃ, কোনো আশা নেই, উদ্ধারের পথ নেই কোনো।’

আমার জানলার ওপাশ দিয়ে একপাল ভেড়া আর ছাগল তাড়িয়ে নিয়ে গেল। পাশাপাশি ঘে’ষাঘেষি করে ভেড়াগুলো স্বচ্ছন্দে চলে গেল হে’টে, টুংটাং ঘণ্টির আওয়াজ করতে-করতে আর ব্যা-ব্যা ডাক ছাড়তে-ছাড়তে চলে গেল ছাগলের পাল।

রাখাল গেল চাবুকের আওয়াজ করতে-করতে। একটা পুচকে বাছর গোরুর বাঁটে মুখ দেবার হাস্যকর চেষ্টা করতে-করতে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে গেল। শান্তিপূর্ণ গ্রামের এই ছবিটি আমার নিরুপায়, অসহায় অবস্থাটা নিজের কাছে যেন আরও বেশি তাঁর করে তুলল। আতঙ্কের স্থায়ী ভাবটার সঙ্গে এখন এসে মিশল একটা ক্রুদ্ধ অভিযোগের মনোভাব। এমন কি, কয়েক মুহূর্তের জন্যে এই ক্রোধ আচ্ছন্ন করে ফেলল আতঙ্ককেও: ইস্, এমন একটা সকাল… সবাই বে’চে-বর্তে আছে… গোরুভেড়া থেকে শুরু করে সব্বাই, কেবল আমাকেই মরতে ‘হবে।

আর এ-সময়ে প্রায়ই যেমন হয় সেইরকম তালগোল-পাকানো রাশি রাশি চিন্তা আর হাস্যকর অবাস্তব সব পরিকল্পনার হট্টগোল থেকে ক্রমে বেরিয়ে এল একটিমাত্র আশ্চর্য সহজ-সরল আর স্পষ্ট চেতনা, একমাত্র যে-চেতনাই তখন রক্ষা পাবার স্বাভাবিক পথ বাতুল্লাতে ছিল সমর্থ।

আসলে লাল ফৌজের সৈনিক হিসেবে, প্রলেতারীয় যোদ্ধদলের একজন সিপাহি হিসেবে আমার পরিচয়ে আমি নিজেই এত অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলুম যে এই সত্যটা ভুলেই গিয়েছিলুম, এটাকে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেয়া হয়েছে মাত্র, এর জন্যে প্রমাণ দরকার। আমি বরং ধরে নিয়েছিলুম যে আমার এই পরিচয়ের প্রমাণ দেয়া কিংবা একে অস্বীকার করা, অচেনা লোকের কাছে আমার মাথার কালো চুলকে শাদা বলে প্রমাণ করার চেষ্টার মতোই অচল, অকেজো।

‘দাঁড়াও, দাঁড়াও,’ এই কুটো ধরে পার পাবার চেষ্টায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমি নিজেকেই নিজে বললুম, ‘এটা ঠিকই যে আমি লাল। কিন্তু এখানে আমিই একমাত্র এ-কথা জানি, কেমন তো? আর এমন কোনো কিছু চিহ্ন বা লক্ষণ আমার মধ্যে আছে কি, যা দিয়ে ওরা এটা বুঝতে পারে?’

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রণক্ষেত্রে (পর্ব-৯০)

০৮:০০:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নবম পরিচ্ছেদ

‘সত্যিই আর কোনো পথ নেই কি? ইস্, এইভাবে বোকার মতো ধরা পড়া! হয়তো আমি পালাতে পারব? না, পালানো সম্ভব নয়। আচ্ছা, এমনও তো হতে পারে যে লাল ফৌজ এই পথেই আসছে আর ঠিক সময়মতো এসে হাজির হয়ে আমায় উদ্ধার করবে? কিন্তু যদি ওরা না-ই আসে? কিংবা যদি আসতে খুব বেশি দেরি করে ফেলে, আর তখন যদি সব শেষ হয়ে গিয়ে থাকে? হয়তো… নাঃ, কোনো আশা নেই, উদ্ধারের পথ নেই কোনো।’

আমার জানলার ওপাশ দিয়ে একপাল ভেড়া আর ছাগল তাড়িয়ে নিয়ে গেল। পাশাপাশি ঘে’ষাঘেষি করে ভেড়াগুলো স্বচ্ছন্দে চলে গেল হে’টে, টুংটাং ঘণ্টির আওয়াজ করতে-করতে আর ব্যা-ব্যা ডাক ছাড়তে-ছাড়তে চলে গেল ছাগলের পাল।

রাখাল গেল চাবুকের আওয়াজ করতে-করতে। একটা পুচকে বাছর গোরুর বাঁটে মুখ দেবার হাস্যকর চেষ্টা করতে-করতে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে গেল। শান্তিপূর্ণ গ্রামের এই ছবিটি আমার নিরুপায়, অসহায় অবস্থাটা নিজের কাছে যেন আরও বেশি তাঁর করে তুলল। আতঙ্কের স্থায়ী ভাবটার সঙ্গে এখন এসে মিশল একটা ক্রুদ্ধ অভিযোগের মনোভাব। এমন কি, কয়েক মুহূর্তের জন্যে এই ক্রোধ আচ্ছন্ন করে ফেলল আতঙ্ককেও: ইস্, এমন একটা সকাল… সবাই বে’চে-বর্তে আছে… গোরুভেড়া থেকে শুরু করে সব্বাই, কেবল আমাকেই মরতে ‘হবে।

আর এ-সময়ে প্রায়ই যেমন হয় সেইরকম তালগোল-পাকানো রাশি রাশি চিন্তা আর হাস্যকর অবাস্তব সব পরিকল্পনার হট্টগোল থেকে ক্রমে বেরিয়ে এল একটিমাত্র আশ্চর্য সহজ-সরল আর স্পষ্ট চেতনা, একমাত্র যে-চেতনাই তখন রক্ষা পাবার স্বাভাবিক পথ বাতুল্লাতে ছিল সমর্থ।

আসলে লাল ফৌজের সৈনিক হিসেবে, প্রলেতারীয় যোদ্ধদলের একজন সিপাহি হিসেবে আমার পরিচয়ে আমি নিজেই এত অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিলুম যে এই সত্যটা ভুলেই গিয়েছিলুম, এটাকে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নেয়া হয়েছে মাত্র, এর জন্যে প্রমাণ দরকার। আমি বরং ধরে নিয়েছিলুম যে আমার এই পরিচয়ের প্রমাণ দেয়া কিংবা একে অস্বীকার করা, অচেনা লোকের কাছে আমার মাথার কালো চুলকে শাদা বলে প্রমাণ করার চেষ্টার মতোই অচল, অকেজো।

‘দাঁড়াও, দাঁড়াও,’ এই কুটো ধরে পার পাবার চেষ্টায় আনন্দে আত্মহারা হয়ে আমি নিজেকেই নিজে বললুম, ‘এটা ঠিকই যে আমি লাল। কিন্তু এখানে আমিই একমাত্র এ-কথা জানি, কেমন তো? আর এমন কোনো কিছু চিহ্ন বা লক্ষণ আমার মধ্যে আছে কি, যা দিয়ে ওরা এটা বুঝতে পারে?’