১১:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রপ্তানি খাতে বৈশ্বিক চাপ ও দেশীয় সংকটের মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত নতুন করে স্থিতিশীলতার আশা জাগাচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পশ্চিমা বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব।

সাম্প্রতিক মাসে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
ডিসেম্বর ও জানুয়ারির পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় সামান্য কম হলেও ডিসেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে নতুন গতি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে, ফলে আগামী সময়ে রপ্তানি আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও শ্রম অস্থিরতা এখনো উৎপাদন খাতের বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

তৈরি পোশাক খাতের শক্ত অবস্থান
দেশের মোট রপ্তানির প্রধান ভরসা হিসেবে আবারও সামনে এসেছে তৈরি পোশাক শিল্প। জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে এই খাতের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে মোট রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা স্থিতিশীল থাকা এবং কারখানার দক্ষতা বাড়ার ফলে অন্যান্য খাতের দুর্বলতা অনেকটাই সামাল দিতে পেরেছে পোশাক শিল্প।

অন্য খাতগুলোর মিশ্র চিত্র
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট এবং গৃহস্থালি বস্ত্র খাতে কিছু উন্নতি দেখা গেলেও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হিমায়িত মাছ প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষে রয়েছে, এরপর রয়েছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

পতনের পেছনের কারণ
ইউরোপে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা কমেছে। দেশের ভেতরে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে, যার প্রভাব এখনো কাটেনি। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও ঝুঁকি
সাম্প্রতিক মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদে একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। পশ্চিমা দেশগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ক্রেতাদের আচরণ বদলে দিচ্ছে, ফলে নতুন বাজার ও উদ্ভাবনের দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রপ্তানি খাতে বৈশ্বিক চাপ ও দেশীয় সংকটের মাঝেও ঘুরে দাঁড়ানোর আশা

০৬:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুর্বল বৈশ্বিক চাহিদা এবং দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে দিয়ে কঠিন সময় পার করছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোর প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত নতুন করে স্থিতিশীলতার আশা জাগাচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের রপ্তানি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে। এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পশ্চিমা বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব।

সাম্প্রতিক মাসে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
ডিসেম্বর ও জানুয়ারির পরিসংখ্যান ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। জানুয়ারিতে রপ্তানি আয় সামান্য কম হলেও ডিসেম্বরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে নতুন গতি ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে, ফলে আগামী সময়ে রপ্তানি আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ ও শ্রম অস্থিরতা এখনো উৎপাদন খাতের বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।

তৈরি পোশাক খাতের শক্ত অবস্থান
দেশের মোট রপ্তানির প্রধান ভরসা হিসেবে আবারও সামনে এসেছে তৈরি পোশাক শিল্প। জুলাই থেকে জানুয়ারি সময়ে এই খাতের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে মোট রপ্তানির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। বৈশ্বিক চাহিদা স্থিতিশীল থাকা এবং কারখানার দক্ষতা বাড়ার ফলে অন্যান্য খাতের দুর্বলতা অনেকটাই সামাল দিতে পেরেছে পোশাক শিল্প।

অন্য খাতগুলোর মিশ্র চিত্র
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট এবং গৃহস্থালি বস্ত্র খাতে কিছু উন্নতি দেখা গেলেও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য ও হিমায়িত মাছ প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি। রপ্তানি গন্তব্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখনো শীর্ষে রয়েছে, এরপর রয়েছে জার্মানি ও যুক্তরাজ্য।

পতনের পেছনের কারণ
ইউরোপে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ভোগ ব্যয় কমে যাওয়ায় অপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা কমেছে। দেশের ভেতরে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও সরকার পরিবর্তনের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটে, যার প্রভাব এখনো কাটেনি। পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে প্রতিযোগিতায় চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও ঝুঁকি
সাম্প্রতিক মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধি নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদে একক পণ্যের ওপর নির্ভরতা বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি। পশ্চিমা দেশগুলোর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ক্রেতাদের আচরণ বদলে দিচ্ছে, ফলে নতুন বাজার ও উদ্ভাবনের দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।