০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রয়টার্সের প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বছর দেশে ফেরার অঙ্গীকার

ঢাকা, ২৯ জুন (রয়টার্স) — ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। অনুপস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি “অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে নাকচ করেছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সরকারের পতনের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঝুঁকি তাঁকে দমাতে পারবে না এবং দেশে ফিরতে তিনি “সব বাধা ও সব ষড়যন্ত্র” অতিক্রম করবেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা এবং সব ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” দেশে ফেরার সময় সম্পর্কে এই প্রথম তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বললেন।

গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের অস্থিরতার সময় হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সংঘটিত নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায় প্রত্যাখ্যান করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে “রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নির্মূল করা।

তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।” অতীতেও তাঁর দলকে ধ্বংস করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও তা ব্যর্থ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়; বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বৃহত্তর লক্ষ্য থেকেই তিনি দেশে ফিরতে চান।

নিজের দল আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটি বাংলাদেশের মাটিতে গভীরভাবে প্রোথিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথম এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের আমলেও তা বহাল রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি।”

তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁর ভাষায় একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

অন্যদিকে সরকার বলেছে, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ কয়েক মাসে সংঘটিত অভিযোগিত অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন: রুমা পাল; সম্পাদনা: রাজু গোপালকৃষ্ণন

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রয়টার্সের প্রতিবেদনঃ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ বছর দেশে ফেরার অঙ্গীকার

০৭:১৬:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

ঢাকা, ২৯ জুন (রয়টার্স) — ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন। অনুপস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তিনি “অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে নাকচ করেছেন।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সরকারের পতনের পর ভারতে পালিয়ে যাওয়া ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই ঝুঁকি তাঁকে দমাতে পারবে না এবং দেশে ফিরতে তিনি “সব বাধা ও সব ষড়যন্ত্র” অতিক্রম করবেন।

মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সব বাধা এবং সব ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।” দেশে ফেরার সময় সম্পর্কে এই প্রথম তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বললেন।

গত নভেম্বরে ঢাকার একটি আদালত ২০২৪ সালের অস্থিরতার সময় হত্যাকাণ্ডে উসকানি দেওয়া, হত্যার নির্দেশ দেওয়া এবং সংঘটিত নৃশংসতা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।

রায় প্রত্যাখ্যান করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাকে “রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যার লক্ষ্য আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে নির্মূল করা।

তিনি বলেন, “আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না।” অতীতেও তাঁর দলকে ধ্বংস করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং এবারও তা ব্যর্থ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার পরিকল্পনা ব্যক্তিগত ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়; বরং রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বৃহত্তর লক্ষ্য থেকেই তিনি দেশে ফিরতে চান।

নিজের দল আওয়ামী লীগের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে তিনি বলেন, দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এটি বাংলাদেশের মাটিতে গভীরভাবে প্রোথিত। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথম এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের আমলেও তা বহাল রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; এটি বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস এবং বাঙালি জাতির পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে প্রোথিত একটি রাজনৈতিক শক্তি।”

তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাঁর ভাষায় একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলটির নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

অন্যদিকে সরকার বলেছে, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ কয়েক মাসে সংঘটিত অভিযোগিত অপরাধের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসব আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিবেদন: রুমা পাল; সম্পাদনা: রাজু গোপালকৃষ্ণন