০১:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলছে, গাজার মানবিক সংকট ঘোচাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতার আহ্বান

গাজার দক্ষিণ প্রান্তে মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে আবার খুলতে যাচ্ছে। দীর্ঘ মাস ধরে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ও ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের চাপের পর আগামী রোববার থেকে সীমিত পরিসরে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মানুষের সীমিত চলাচলের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

সীমিত যাতায়াতের ঘোষণা ও শর্ত

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর জানায়, রোববার থেকে রাফাহ সীমান্ত উভয় দিকেই খোলা হবে। তবে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হলে মিসরের সঙ্গে সমন্বয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং ইউরোপীয় তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে এটি একমাত্র সীমান্তপথ, যা সরাসরি ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে যায় না।

Israel says no humanitarian aid will enter Gaza

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে চাপ

এর আগে গাজার শাসনকারী সংগঠন যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানায়। এই ধাপে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলা এবং গাজা পরিচালনার জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি কমিটি প্রবেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েল আগে জানিয়েছিল, সবশেষ আটক ব্যক্তির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সীমান্ত খোলা হবে না। চলতি সপ্তাহেই সেই মরদেহ উদ্ধার ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ঘোষণা আসে।

মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান গাজায় মানবিক পরিস্থিতিকে চরম সংকটজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি পানির পাইপ, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের উপকরণ প্রবেশে বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানান। প্রায় বিশ লক্ষ মানুষের এই ভূখণ্ডে অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত, অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে এবং শীতের মধ্যে ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

World must tackle 'dire' conditions in Gaza, says Red Cross | FMT

প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি জাতীয় কমিটির হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রসমর্পণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। যদিও অস্ত্র ত্যাগের প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথাও আলোচনায় আছে।

সংঘাতের ছায়া কাটেনি

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষ প্রতিদিনই লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী গোপন অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা সশস্ত্র ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের হামলা থেকে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহতের সংখ্যা একাত্তর হাজারের বেশি, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করে।

World must urgently improve 'dire' conditions in Gaza: Red Cross chief |  Arab News

 

সামনে কী

রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুললে মানবিক সহায়তা প্রবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথ কিছুটা সুগম হতে পারে। তবে সীমিত যাতায়াত, কড়া নিরাপত্তা ও চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুলছে, গাজার মানবিক সংকট ঘোচাতে আন্তর্জাতিক তৎপরতার আহ্বান

০৩:৫১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

গাজার দক্ষিণ প্রান্তে মিসরের সঙ্গে সংযুক্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে আবার খুলতে যাচ্ছে। দীর্ঘ মাস ধরে জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ও ফিলিস্তিনি সাধারণ মানুষের চাপের পর আগামী রোববার থেকে সীমিত পরিসরে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। তবে এই পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র মানুষের সীমিত চলাচলের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

সীমিত যাতায়াতের ঘোষণা ও শর্ত

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসামরিক বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর জানায়, রোববার থেকে রাফাহ সীমান্ত উভয় দিকেই খোলা হবে। তবে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে হলে মিসরের সঙ্গে সমন্বয়, ইসরায়েলের নিরাপত্তা ছাড়পত্র এবং ইউরোপীয় তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গাজা ভূখণ্ডে প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে এটি একমাত্র সীমান্তপথ, যা সরাসরি ইসরায়েলের ভেতর দিয়ে যায় না।

Israel says no humanitarian aid will enter Gaza

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে চাপ

এর আগে গাজার শাসনকারী সংগঠন যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানায়। এই ধাপে রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলা এবং গাজা পরিচালনার জন্য একটি প্রযুক্তিনির্ভর ফিলিস্তিনি কমিটি প্রবেশের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইসরায়েল আগে জানিয়েছিল, সবশেষ আটক ব্যক্তির মরদেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত সীমান্ত খোলা হবে না। চলতি সপ্তাহেই সেই মরদেহ উদ্ধার ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ঘোষণা আসে।

মানবিক পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ

আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির প্রধান গাজায় মানবিক পরিস্থিতিকে চরম সংকটজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তিনি পানির পাইপ, বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের উপকরণ প্রবেশে বিধিনিষেধ শিথিল করার আহ্বান জানান। প্রায় বিশ লক্ষ মানুষের এই ভূখণ্ডে অধিকাংশ মানুষ বাস্তুচ্যুত, অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করছে এবং শীতের মধ্যে ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

World must tackle 'dire' conditions in Gaza, says Red Cross | FMT

প্রশাসন ও নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা

যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে গাজার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি জাতীয় কমিটির হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অস্ত্রসমর্পণ ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। যদিও অস্ত্র ত্যাগের প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের কথাও আলোচনায় আছে।

সংঘাতের ছায়া কাটেনি

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উভয় পক্ষ প্রতিদিনই লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী গোপন অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসা সশস্ত্র ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। অন্যদিকে গাজার সাম্প্রতিক যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল দুই হাজার তেইশ সালের অক্টোবরের হামলা থেকে। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে নিহতের সংখ্যা একাত্তর হাজারের বেশি, যা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করে।

World must urgently improve 'dire' conditions in Gaza: Red Cross chief |  Arab News

 

সামনে কী

রাফাহ সীমান্ত আংশিক খুললে মানবিক সহায়তা প্রবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পথ কিছুটা সুগম হতে পারে। তবে সীমিত যাতায়াত, কড়া নিরাপত্তা ও চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গাজার মানুষের দুর্ভোগ কতটা কমবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।