০৬:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রাশিয়া-চীন সম্পর্ক কি সত্যিই সমান সমান, নাকি প্রভাবশালী এক পক্ষ চীন?

রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ নিজেদের আনুষ্ঠানিক মিত্র হিসেবে ঘোষণা না করলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলায় অনেক ক্ষেত্রে একই অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সম্পর্ক কি সত্যিই সমতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, নাকি এখানে চীনের প্রভাব বেশি?

কৌশলগত অংশীদারত্বে শক্তির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন

রাশিয়া ও চীন ২০১৯ সাল থেকে নতুন যুগের জন্য “ব্যাপক কৌশলগত সমন্বয় অংশীদার” হিসেবে সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে। রুশ কর্মকর্তারা বারবার এই সম্পর্ককে সমতার ভিত্তিতে তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের তুলনায় রাশিয়ার অংশ খুবই সীমিত। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার মাত্রা সমান নয় বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

ইউক্রেন সংকটের আগে ইউরোপ ছিল রাশিয়ার প্রধান বাজার

২০১৪ সালে ইউক্রেন সংকট শুরুর আগে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই সময় রাশিয়ার রপ্তানি ও আমদানির বড় অংশই ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

বিশেষ করে জার্মানির সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে কম দামে প্রাকৃতিক গ্যাস পেয়ে জার্মানির শিল্প ও অর্থনীতি দীর্ঘদিন সুবিধা পেয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই জ্বালানি ইউরোপের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

নিষেধাজ্ঞার পর চীনের ওপর রাশিয়ার নির্ভরতা বেড়েছে

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে রাশিয়াকে নতুন অর্থনৈতিক পথ খুঁজতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

রাশিয়া ও চীন একে অপরের সমর্থনে 'একে অপরের পাশে' দাঁড়াবে

তবে এই ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও দুই দেশের অবস্থান এক নয়। চীনের বিশাল অর্থনীতি, বৈশ্বিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

ভবিষ্যতে সম্পর্কের ধরন নিয়ে আলোচনা

রাশিয়া ও চীন বর্তমানে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি কতটা সমান, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী হলেও অর্থনৈতিক শক্তির পার্থক্য দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে, তবে এই অংশীদারত্বে কার প্রভাব বেশি থাকবে, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাশিয়া-চীন সম্পর্ক কি সত্যিই সমান সমান, নাকি প্রভাবশালী এক পক্ষ চীন?

১১:২৯:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক ঘনিষ্ঠ হয়েছে। দুই দেশ নিজেদের আনুষ্ঠানিক মিত্র হিসেবে ঘোষণা না করলেও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পশ্চিমা প্রভাব মোকাবিলায় অনেক ক্ষেত্রে একই অবস্থান নিয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই সম্পর্ক কি সত্যিই সমতার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, নাকি এখানে চীনের প্রভাব বেশি?

কৌশলগত অংশীদারত্বে শক্তির ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন

রাশিয়া ও চীন ২০১৯ সাল থেকে নতুন যুগের জন্য “ব্যাপক কৌশলগত সমন্বয় অংশীদার” হিসেবে সম্পর্ক এগিয়ে নিচ্ছে। রুশ কর্মকর্তারা বারবার এই সম্পর্ককে সমতার ভিত্তিতে তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন। তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হলেও বিশ্ব বাণিজ্যে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের তুলনায় রাশিয়ার অংশ খুবই সীমিত। ফলে দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার মাত্রা সমান নয় বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে কোন দেশ আছে?

ইউক্রেন সংকটের আগে ইউরোপ ছিল রাশিয়ার প্রধান বাজার

২০১৪ সালে ইউক্রেন সংকট শুরুর আগে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। সেই সময় রাশিয়ার রপ্তানি ও আমদানির বড় অংশই ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।

বিশেষ করে জার্মানির সঙ্গে রাশিয়ার জ্বালানি সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া থেকে কম দামে প্রাকৃতিক গ্যাস পেয়ে জার্মানির শিল্প ও অর্থনীতি দীর্ঘদিন সুবিধা পেয়েছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা এই জ্বালানি ইউরোপের অর্থনৈতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

নিষেধাজ্ঞার পর চীনের ওপর রাশিয়ার নির্ভরতা বেড়েছে

ইউক্রেন যুদ্ধের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণে রাশিয়াকে নতুন অর্থনৈতিক পথ খুঁজতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

রাশিয়া ও চীন একে অপরের সমর্থনে 'একে অপরের পাশে' দাঁড়াবে

তবে এই ঘনিষ্ঠতার মধ্যেও দুই দেশের অবস্থান এক নয়। চীনের বিশাল অর্থনীতি, বৈশ্বিক বাজারে শক্তিশালী অবস্থান এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তাকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।

ভবিষ্যতে সম্পর্কের ধরন নিয়ে আলোচনা

রাশিয়া ও চীন বর্তমানে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও তাদের সম্পর্কের ভিত্তি কতটা সমান, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী হলেও অর্থনৈতিক শক্তির পার্থক্য দুই দেশের সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক আগামী দিনে আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে, তবে এই অংশীদারত্বে কার প্রভাব বেশি থাকবে, সেটিই আন্তর্জাতিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকবে।