০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রাশিয়ার যুদ্ধে আফ্রিকার তরুণদের টান: চাকরির প্রলোভন, বাস্তবে মৃত্যু আর প্রতারণা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হাজার হাজার আফ্রিকান তরুণ কীভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন, তার পেছনের বাস্তবতা উঠে এসেছে নানা সাক্ষাৎকার ও তথ্য থেকে।

রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেনা সংকট মোকাবিলায় বিদেশি যোদ্ধা সংগ্রহের প্রবণতা বেড়েছে। সেই সুযোগেই আফ্রিকার বহু তরুণ চাকরির আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে অনেকেই দাবি করেছেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছেন।

কেন আফ্রিকার দিকে নজর

যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এই ক্ষতি পূরণে নতুন সেনা প্রয়োজন, আর আফ্রিকা সেই ক্ষেত্রে বড় উৎস হয়ে উঠেছে। আফ্রিকার দ্রুত বাড়তে থাকা তরুণ জনগোষ্ঠী এবং সীমিত কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

The untrained mercenaries being tricked into fighting Russia's war in  Ukraine | World News | Sky News

অন্য দেশ থেকেও কিছু যোদ্ধা এলেও আফ্রিকার জনসংখ্যা ও বেকারত্বের হার এটিকে সবচেয়ে বড় উৎসে পরিণত করেছে। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি সেনা নিয়োগের নীতি স্বীকার না করলেও বাস্তবে বহু বিদেশি যোদ্ধা সেখানে যোগ দিচ্ছেন।

চাকরির লোভে বিপজ্জনক যাত্রা

আফ্রিকার অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের ঘাটতি বড় সমস্যা। তরুণদের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কম বেতনের অনিশ্চিত কাজ করেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিদেশে কাজের সুযোগ খোঁজেন। কেউ আফ্রিকার মধ্যেই উন্নত অর্থনীতির দেশে যান, আবার কেউ ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপ বা অন্য অঞ্চলে পাড়ি দেন।

এই ধারাবাহিকতায় কিছু তরুণ রাশিয়ায় যান, যেখানে তাদের দেওয়া চাকরির প্রস্তাব অনেক সময় অস্পষ্ট থাকে। পরে তারা বুঝতে পারেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর জন্যই এই ব্যবস্থা।

প্রলোভনের আড়ালে কঠিন বাস্তবতা

রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এই অর্থ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের এমন ভাষায় চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে যা তারা বুঝতে পারেননি।

The African men enticed to fight for Russia in Ukraine

ফিরে আসা কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন জমা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকারী সংস্থাই সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অনেকে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে দেশে ফিরেছেন।

সরকারগুলোর সীমিত সক্ষমতা

আফ্রিকার দেশগুলোতে বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে নাগরিকদের নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার ঘটনা বাড়ায় বিভিন্ন দেশে চাপ তৈরি হয়েছে। কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও ঘানার মতো দেশগুলো এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কেনিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ না করার আশ্বাস পেয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক গন্তব্যে তরুণদের যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে বাস্তবে এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, কারণ মূল সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থানের অভাব। যতদিন সেই সংকট থাকবে, ততদিন বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাও অব্যাহত থাকবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাশিয়ার যুদ্ধে আফ্রিকার তরুণদের টান: চাকরির প্রলোভন, বাস্তবে মৃত্যু আর প্রতারণা

০৩:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হাজার হাজার আফ্রিকান তরুণ কীভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন, তার পেছনের বাস্তবতা উঠে এসেছে নানা সাক্ষাৎকার ও তথ্য থেকে।

রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেনা সংকট মোকাবিলায় বিদেশি যোদ্ধা সংগ্রহের প্রবণতা বেড়েছে। সেই সুযোগেই আফ্রিকার বহু তরুণ চাকরির আশায় রাশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছে অনেকেই দাবি করেছেন, তারা প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়া হচ্ছেন।

কেন আফ্রিকার দিকে নজর

যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিপুল সংখ্যক সেনা হতাহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। এই ক্ষতি পূরণে নতুন সেনা প্রয়োজন, আর আফ্রিকা সেই ক্ষেত্রে বড় উৎস হয়ে উঠেছে। আফ্রিকার দ্রুত বাড়তে থাকা তরুণ জনগোষ্ঠী এবং সীমিত কর্মসংস্থান পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।

The untrained mercenaries being tricked into fighting Russia's war in  Ukraine | World News | Sky News

অন্য দেশ থেকেও কিছু যোদ্ধা এলেও আফ্রিকার জনসংখ্যা ও বেকারত্বের হার এটিকে সবচেয়ে বড় উৎসে পরিণত করেছে। রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি সেনা নিয়োগের নীতি স্বীকার না করলেও বাস্তবে বহু বিদেশি যোদ্ধা সেখানে যোগ দিচ্ছেন।

চাকরির লোভে বিপজ্জনক যাত্রা

আফ্রিকার অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের ঘাটতি বড় সমস্যা। তরুণদের একটি বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কম বেতনের অনিশ্চিত কাজ করেন। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিদেশে কাজের সুযোগ খোঁজেন। কেউ আফ্রিকার মধ্যেই উন্নত অর্থনীতির দেশে যান, আবার কেউ ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপ বা অন্য অঞ্চলে পাড়ি দেন।

এই ধারাবাহিকতায় কিছু তরুণ রাশিয়ায় যান, যেখানে তাদের দেওয়া চাকরির প্রস্তাব অনেক সময় অস্পষ্ট থাকে। পরে তারা বুঝতে পারেন, প্রকৃতপক্ষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর জন্যই এই ব্যবস্থা।

প্রলোভনের আড়ালে কঠিন বাস্তবতা

রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে তুলনামূলকভাবে বেশি বেতনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে এই অর্থ পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই জানিয়েছেন, তাদের এমন ভাষায় চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়েছে যা তারা বুঝতে পারেননি।

The African men enticed to fight for Russia in Ukraine

ফিরে আসা কয়েকজন জানিয়েছেন, তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন জমা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগকারী সংস্থাই সেই অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়েও অনেকে শেষ পর্যন্ত খালি হাতে দেশে ফিরেছেন।

সরকারগুলোর সীমিত সক্ষমতা

আফ্রিকার দেশগুলোতে বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে নাগরিকদের নিখোঁজ বা নিহত হওয়ার ঘটনা বাড়ায় বিভিন্ন দেশে চাপ তৈরি হয়েছে। কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া ও ঘানার মতো দেশগুলো এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

কেনিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ না করার আশ্বাস পেয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহজনক গন্তব্যে তরুণদের যাওয়া ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। দক্ষিণ আফ্রিকাও তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে বাস্তবে এই প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, কারণ মূল সমস্যা হচ্ছে কর্মসংস্থানের অভাব। যতদিন সেই সংকট থাকবে, ততদিন বিদেশে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতাও অব্যাহত থাকবে।