১২:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’ পাকিস্তানে বিদ্যুতের দাম বাড়ল ইউনিটে ২.৫৮ রুপি, গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ ৪৫.৬৭ বিলিয়ন রুপি পরমাণু ‘লিজ’ ছড়িয়ে পড়ছে, বদলে যেতে পারে বৈশ্বিক নিরাপত্তার চিত্র ট্রাম্প কাতারের উপহারের বিলাসবহুল বিমানে যাচ্ছেন আয়ারল্যান্ড মালয়েশিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা, ৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৬ মনমোহন সিংয়ের স্মৃতিসৌধ নির্মাণে অনুমোদন, রাজঘাটের ঐতিহ্য রাখার নির্দেশ দিল্লি-এনসিআরে ফের ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, হলুদ সতর্কতা জারি কারওয়ান বাজারে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু রিকশাচালককে ইট দিয়ে হত্যা, পাওনা ১৫০ টাকা নিয়ে বিরোধের অভিযোগ এলএনজি আমদানিতে অনিশ্চয়তা, কমছে দেশীয় গ্যাস: দুই বছরেও কাটবে কি সংকট?

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল নাকি আইনের আড়ালে বিশেষ সুবিধা? ডানান্তারা বন্ডের বিতর্ক

ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিল্পায়ন কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন অর্থায়নের পথ খুঁজতে হবে। সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল ডানান্তারা ‘প্যাট্রিয়ট বন্ড’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দৃষ্টিতে এটি উন্নয়ন অর্থায়নের একটি নতুন উদ্যোগ বলেই মনে হয়। কিন্তু এই বন্ডের কাঠামো, বিনিয়োগের শর্ত এবং এর সঙ্গে যুক্ত আইনি সুবিধাগুলো খতিয়ে দেখলে এমন কিছু প্রশ্ন সামনে আসে, যা শুধু অর্থনীতির নয়, রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ও আইনের সমতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্যাট্রিয়ট বন্ডের বার্ষিক সুদের হার মাত্র ২ শতাংশ। বাজারে যেখানে আরও অনেক বেশি মুনাফার সুযোগ রয়েছে, সেখানে এত কম রিটার্ন দিয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সহজ হওয়ার কথা নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই বন্ডের প্রকৃত আকর্ষণ কি আর্থিক লাভ, নাকি অন্য কিছু?

যখন কোনো বিনিয়োগ প্রত্যাশিত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম আর্থিক সুবিধা দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা সাধারণত অন্য ধরনের লাভের হিসাব করেন। বড় করপোরেট গোষ্ঠীর জন্য সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি, নীতিগত সহায়তা পাওয়া অথবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখা—এসবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই প্যাট্রিয়ট বন্ডকে সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত না রেখে মূলত বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ার সরকারি অর্থব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়। সরকার সরাসরি ঋণ না নিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে। ফলে সরকারি ঋণের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নিয়ন্ত্রিত থাকলেও বাস্তবে রাষ্ট্রের ওপর ঝুঁকি কমে যাচ্ছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ডানান্তারার অধীনে থাকা প্রকল্পগুলো যদি প্রত্যাশিত ফল না দেয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেই দায় রাষ্ট্রের কাঁধেই এসে পড়বে বলে বাজার ধরে নেবে। অর্থাৎ হিসাবের খাতায় দায় কম দেখানো গেলেও প্রকৃত অর্থনৈতিক ঝুঁকি অদৃশ্য হয়ে যায় না। বরং তা ভবিষ্যতের জন্য জমা হতে থাকে।

আরও বড় উদ্বেগের জায়গা হলো জবাবদিহি। জাতীয় বাজেটের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত চলে গেলে সংসদীয় নজরদারি, পরিকল্পনা সংস্থার ভূমিকা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীরা শুধু বড় প্রকল্পই দেখেন না; তারা দেখেন প্রতিষ্ঠান কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা স্বচ্ছ এবং নিয়ম কতটা স্থিতিশীল।

অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের অদৃশ্য দায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। সরকারি ঋণের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা কম থাকলেও বাজার যদি মনে করে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে বড় আর্থিক দায় নিতে হবে, তাহলে ঋণের খরচ বাড়বে এবং দেশের ঝুঁকির মূল্যায়নও বদলে যেতে পারে।

Indonesia to Roll Out Trustee Rules Next Year to Draw Capital - Bloomberg

তবে প্যাট্রিয়ট বন্ড নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক অর্থনৈতিক নয়, আইনি।

সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের মাধ্যমে এমন একটি বিধান যুক্ত হয়েছে, যা এই বন্ডের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অসাধারণ আইনি সুরক্ষা তৈরি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগের উৎস নিয়ে তদন্ত সীমিত করা হয়েছে, লেনদেনের তথ্য সহজে আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং করসংক্রান্ত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবে এটি এক ধরনের নীরব আর্থিক সাধারণ ক্ষমা বা ‘হিডেন অ্যামনেস্টি’র রূপ নিতে পারে। কারণ অতীতে কর-সুবিধাভিত্তিক সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্পদের ঘোষণা দিতে হতো এবং নির্দিষ্ট অর্থও পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে কম শর্তে আইনি নিরাপত্তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সমালোচকেরা মনে করছেন।

এতে রাষ্ট্রের নীতিতে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্যও তৈরি হয়। একদিকে সাধারণ করদাতা, চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর কর নজরদারি আরও কঠোর করা হচ্ছে। রপ্তানিকারকদের কঠিন বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হচ্ছে। সামান্য প্রশাসনিক ভুলের জন্যও শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, অঘোষিত সম্পদের মালিকদের জন্য যদি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশেষ সুরক্ষার পথ তৈরি হয়, তাহলে আইনের সমতার ধারণাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

করব্যবস্থা কেবল আইন প্রয়োগের ওপর টিকে থাকে না; এটি মানুষের ন্যায়বিচারের অনুভূতির ওপরও নির্ভরশীল। নাগরিক যদি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন যে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য, তাহলে স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়বে।

এর প্রভাব শুধু করব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। অর্থের উৎস যাচাই, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করার মতো আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তিও দুর্বল হতে পারে। আইনটি অপরাধীদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি না হলেও এর ফলে এমন একটি অস্বচ্ছ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অবৈধ অর্থের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

এই ঝুঁকির আন্তর্জাতিক দিকও রয়েছে। বহু বছরের সংস্কারের পর ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক অর্থপাচার প্রতিরোধ কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে। কিন্তু যদি এমন ধারণা জন্ম নেয় যে দেশে একটি বিশেষ বিনিয়োগপথ তৈরি হয়েছে যেখানে আর্থিক তদারকি তুলনামূলকভাবে শিথিল, তাহলে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আবারও পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকিমুক্ত নয়। যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই বন্ডকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে এবং ভবিষ্যতে ডানান্তারার বিনিয়োগে বড় ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে সেই ধাক্কা আর্থিক ব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত সরকারকে জনগণের অর্থ দিয়ে ক্ষতি সামাল দিতে হলে এর বোঝা বহন করবে করদাতারাই।

অবশ্যই ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়নের জন্য নতুন অর্থায়ন কৌশল প্রয়োজন। কিন্তু উদ্ভাবনী অর্থনীতি কখনোই স্বচ্ছতা, আইনের সমতা কিংবা আর্থিক জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না।

রাষ্ট্র যদি উন্নয়নের নামে এমন একটি কাঠামো তৈরি করে, যেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশেষ আইনি সুরক্ষা পায় এবং সাধারণ নাগরিক ভিন্ন নিয়মের মুখোমুখি হন, তাহলে সেই উদ্যোগ অর্থনৈতিক সাফল্যের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতির কারণ হিসেবেই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যে ‘ইয়েনটাউন’ একদিন ছিল ভবিষ্যৎ, ৩০ বছর পর ৪কে-তে ফিরছে ‘Swallowtail Butterfly’

রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন তহবিল নাকি আইনের আড়ালে বিশেষ সুবিধা? ডানান্তারা বন্ডের বিতর্ক

০৫:২৭:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিল্পায়ন কিংবা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন অর্থায়নের পথ খুঁজতে হবে। সেই লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ তহবিল ডানান্তারা ‘প্যাট্রিয়ট বন্ড’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন রুপিয়া সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রথম দৃষ্টিতে এটি উন্নয়ন অর্থায়নের একটি নতুন উদ্যোগ বলেই মনে হয়। কিন্তু এই বন্ডের কাঠামো, বিনিয়োগের শর্ত এবং এর সঙ্গে যুক্ত আইনি সুবিধাগুলো খতিয়ে দেখলে এমন কিছু প্রশ্ন সামনে আসে, যা শুধু অর্থনীতির নয়, রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা ও আইনের সমতার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, প্যাট্রিয়ট বন্ডের বার্ষিক সুদের হার মাত্র ২ শতাংশ। বাজারে যেখানে আরও অনেক বেশি মুনাফার সুযোগ রয়েছে, সেখানে এত কম রিটার্ন দিয়ে বড় বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সহজ হওয়ার কথা নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—এই বন্ডের প্রকৃত আকর্ষণ কি আর্থিক লাভ, নাকি অন্য কিছু?

যখন কোনো বিনিয়োগ প্রত্যাশিত বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম আর্থিক সুবিধা দেয়, তখন বিনিয়োগকারীরা সাধারণত অন্য ধরনের লাভের হিসাব করেন। বড় করপোরেট গোষ্ঠীর জন্য সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি, নীতিগত সহায়তা পাওয়া অথবা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখা—এসবই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই প্যাট্রিয়ট বন্ডকে সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত না রেখে মূলত বড় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

এই উদ্যোগ ইন্দোনেশিয়ার সরকারি অর্থব্যবস্থার একটি বড় পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়। সরকার সরাসরি ঋণ না নিয়ে রাষ্ট্রীয় তহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছে। ফলে সরকারি ঋণের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নিয়ন্ত্রিত থাকলেও বাস্তবে রাষ্ট্রের ওপর ঝুঁকি কমে যাচ্ছে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না।

ডানান্তারার অধীনে থাকা প্রকল্পগুলো যদি প্রত্যাশিত ফল না দেয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেই দায় রাষ্ট্রের কাঁধেই এসে পড়বে বলে বাজার ধরে নেবে। অর্থাৎ হিসাবের খাতায় দায় কম দেখানো গেলেও প্রকৃত অর্থনৈতিক ঝুঁকি অদৃশ্য হয়ে যায় না। বরং তা ভবিষ্যতের জন্য জমা হতে থাকে।

আরও বড় উদ্বেগের জায়গা হলো জবাবদিহি। জাতীয় বাজেটের প্রচলিত কাঠামোর বাইরে একটি কেন্দ্রীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে বিপুল বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত চলে গেলে সংসদীয় নজরদারি, পরিকল্পনা সংস্থার ভূমিকা এবং নীতিগত স্বচ্ছতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিনিয়োগকারীরা শুধু বড় প্রকল্পই দেখেন না; তারা দেখেন প্রতিষ্ঠান কতটা বিশ্বাসযোগ্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা স্বচ্ছ এবং নিয়ম কতটা স্থিতিশীল।

অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের অদৃশ্য দায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আস্থাকেও প্রভাবিত করতে পারে। সরকারি ঋণের আনুষ্ঠানিক সংখ্যা কম থাকলেও বাজার যদি মনে করে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রকে বড় আর্থিক দায় নিতে হবে, তাহলে ঋণের খরচ বাড়বে এবং দেশের ঝুঁকির মূল্যায়নও বদলে যেতে পারে।

Indonesia to Roll Out Trustee Rules Next Year to Draw Capital - Bloomberg

তবে প্যাট্রিয়ট বন্ড নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক অর্থনৈতিক নয়, আইনি।

সাম্প্রতিক আইন সংশোধনের মাধ্যমে এমন একটি বিধান যুক্ত হয়েছে, যা এই বন্ডের প্রাথমিক বিনিয়োগকারীদের জন্য অসাধারণ আইনি সুরক্ষা তৈরি করেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগের উৎস নিয়ে তদন্ত সীমিত করা হয়েছে, লেনদেনের তথ্য সহজে আইনি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না এবং করসংক্রান্ত অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও বিশেষ ধরনের সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

বাস্তবে এটি এক ধরনের নীরব আর্থিক সাধারণ ক্ষমা বা ‘হিডেন অ্যামনেস্টি’র রূপ নিতে পারে। কারণ অতীতে কর-সুবিধাভিত্তিক সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচিতে অংশ নিতে সম্পদের ঘোষণা দিতে হতো এবং নির্দিষ্ট অর্থও পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় তুলনামূলকভাবে কম শর্তে আইনি নিরাপত্তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে সমালোচকেরা মনে করছেন।

এতে রাষ্ট্রের নীতিতে একটি স্পষ্ট বৈপরীত্যও তৈরি হয়। একদিকে সাধারণ করদাতা, চাকরিজীবী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর কর নজরদারি আরও কঠোর করা হচ্ছে। রপ্তানিকারকদের কঠিন বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম মানতে হচ্ছে। সামান্য প্রশাসনিক ভুলের জন্যও শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, অঘোষিত সম্পদের মালিকদের জন্য যদি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশেষ সুরক্ষার পথ তৈরি হয়, তাহলে আইনের সমতার ধারণাই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

করব্যবস্থা কেবল আইন প্রয়োগের ওপর টিকে থাকে না; এটি মানুষের ন্যায়বিচারের অনুভূতির ওপরও নির্ভরশীল। নাগরিক যদি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন যে সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য, তাহলে স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের সংস্কৃতি দুর্বল হয়ে পড়বে।

এর প্রভাব শুধু করব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। অর্থের উৎস যাচাই, অর্থপাচার প্রতিরোধ এবং প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করার মতো আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তিও দুর্বল হতে পারে। আইনটি অপরাধীদের সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি না হলেও এর ফলে এমন একটি অস্বচ্ছ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা অবৈধ অর্থের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

এই ঝুঁকির আন্তর্জাতিক দিকও রয়েছে। বহু বছরের সংস্কারের পর ইন্দোনেশিয়া বৈশ্বিক অর্থপাচার প্রতিরোধ কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে। কিন্তু যদি এমন ধারণা জন্ম নেয় যে দেশে একটি বিশেষ বিনিয়োগপথ তৈরি হয়েছে যেখানে আর্থিক তদারকি তুলনামূলকভাবে শিথিল, তাহলে আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা আবারও পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতও ঝুঁকিমুক্ত নয়। যদি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এই বন্ডকে জামানত হিসেবে ব্যবহার করে এবং ভবিষ্যতে ডানান্তারার বিনিয়োগে বড় ধরনের ক্ষতি হয়, তাহলে সেই ধাক্কা আর্থিক ব্যবস্থাজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত সরকারকে জনগণের অর্থ দিয়ে ক্ষতি সামাল দিতে হলে এর বোঝা বহন করবে করদাতারাই।

অবশ্যই ইন্দোনেশিয়ার উন্নয়নের জন্য নতুন অর্থায়ন কৌশল প্রয়োজন। কিন্তু উদ্ভাবনী অর্থনীতি কখনোই স্বচ্ছতা, আইনের সমতা কিংবা আর্থিক জবাবদিহির বিকল্প হতে পারে না।

রাষ্ট্র যদি উন্নয়নের নামে এমন একটি কাঠামো তৈরি করে, যেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বিশেষ আইনি সুরক্ষা পায় এবং সাধারণ নাগরিক ভিন্ন নিয়মের মুখোমুখি হন, তাহলে সেই উদ্যোগ অর্থনৈতিক সাফল্যের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতির কারণ হিসেবেই বেশি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।