০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বিরোধী জোটের উদ্যোগকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা গান্ধী স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে পথে একাধিক স্থানে পুলিশি ব্যারিকেড, যানবাহন দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা এবং নিরাপত্তা কড়াকড়ি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতারা জানান, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণ এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তাদের এই কর্মসূচি ছিল।

পুলিশি বাধা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ

দিনের শুরুতে রাহুল গান্ধীর সুনেহরি বাগ রোডের বাসভবনের সামনে বিরোধী সাংসদরা জড়ো হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মীদের তিস জানুয়ারি মার্গের দিকে যেতে বাধা দিতে প্রথমে ব্যারিকেড বসানো হয়। পরে তা সরিয়ে নেওয়া হলে নেতারা এগিয়ে যেতে পারেন।

তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাসভবনের কাছে আবারও তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু সময় পর তাদের আবারও এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

রাহুলের অভিযোগ: সরকার ভয় পাচ্ছে

বাসের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদদের নিয়ে প্রথমে তারা ইন্ডিয়া গেটে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর গান্ধী স্মৃতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পথে ব্যারিকেড এবং একটি বাস দাঁড় করিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়।

তার দাবি, সরকার অপ্রয়োজনীয় নাটক করছে এবং বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্কিত বলেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন বিরোধী সাংসদদেরও তাদের পাশে থাকা উচিত।

পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি. চিদাম্বরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদদের বহনকারী বাস ২৫ মিনিটেরও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। তার দাবি, মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাহুল গান্ধীর বাসভবনের বাইরে ব্যারিকেড বসিয়ে কার্যত তাকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরতে বিরোধীদলীয় নেতাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী বলেন, পুলিশি চাপ দিয়ে বিরোধীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা

রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই ইন্ডিয়া জোটের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষার্থীরা একা নয়; বিরোধী জোট তাদের দাবি ও আন্দোলনের পাশে রয়েছে।

বৃহত্তর বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ

এই কর্মসূচিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডির মিসা ভারতী, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিআইয়ের পি. সন্দোষ কুমার এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-এর সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্তসহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি এবং তা ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

#রাহুল_গান্ধী #দিল্লি #কংগ্রেস #ইন্ডিয়াজোট #ছাত্রআন্দোলন #NEET #গান্ধীস্মৃতি #ভারতীয়রাজনীতি #ভারত_সংবাদ #সারাক্ষণ

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রাহুল গান্ধীকে ঘিরে দিল্লিতে উত্তেজনা: ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে গান্ধী স্মৃতিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রা, পথে ব্যারিকেড ও পুলিশের বাধা

১০:২৭:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে বিরোধী জোটের উদ্যোগকে ঘিরে বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সোনিয়া গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শীর্ষ নেতা গান্ধী স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে পথে একাধিক স্থানে পুলিশি ব্যারিকেড, যানবাহন দিয়ে রাস্তা আটকে রাখা এবং নিরাপত্তা কড়াকড়ি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

রাহুল গান্ধী ও বিরোধী নেতারা জানান, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণ এবং আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতেই তাদের এই কর্মসূচি ছিল।

পুলিশি বাধা নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ

দিনের শুরুতে রাহুল গান্ধীর সুনেহরি বাগ রোডের বাসভবনের সামনে বিরোধী সাংসদরা জড়ো হলে সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। কংগ্রেস ও যুব কংগ্রেসের কর্মীদের তিস জানুয়ারি মার্গের দিকে যেতে বাধা দিতে প্রথমে ব্যারিকেড বসানো হয়। পরে তা সরিয়ে নেওয়া হলে নেতারা এগিয়ে যেতে পারেন।

তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাসভবনের কাছে আবারও তাদের থামিয়ে দেয় পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু সময় পর তাদের আবারও এগিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।

রাহুলের অভিযোগ: সরকার ভয় পাচ্ছে

বাসের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদদের নিয়ে প্রথমে তারা ইন্ডিয়া গেটে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানাতে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এরপর গান্ধী স্মৃতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পথে ব্যারিকেড এবং একটি বাস দাঁড় করিয়ে তাদের আটকে রাখা হয়।

তার দাবি, সরকার অপ্রয়োজনীয় নাটক করছে এবং বিরোধীদের কর্মসূচি নিয়ে আতঙ্কিত বলেই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন রাস্তায় নেমেছে, তখন বিরোধী সাংসদদেরও তাদের পাশে থাকা উচিত।

পুলিশি তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন

কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি. চিদাম্বরম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অভিযোগ করেন, বিরোধী সাংসদদের বহনকারী বাস ২৫ মিনিটেরও বেশি সময় আটকে রাখা হয়। তার দাবি, মধ্য দিল্লির বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসিয়ে শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

এদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, রাহুল গান্ধীর বাসভবনের বাইরে ব্যারিকেড বসিয়ে কার্যত তাকে ‘গৃহবন্দি’ করে রাখা হয়েছিল। ভারতীয় যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের দাবি তুলে ধরতে বিরোধীদলীয় নেতাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কংগ্রেস সাংসদ রেণুকা চৌধুরী বলেন, পুলিশি চাপ দিয়ে বিরোধীদের দমিয়ে রাখা যাবে না।

শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার বার্তা

রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্কের পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের স্মরণ এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই ইন্ডিয়া জোটের নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে গান্ধী স্মৃতির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

তিনি দাবি করেন, দেশের শিক্ষার্থীরা একা নয়; বিরোধী জোট তাদের দাবি ও আন্দোলনের পাশে রয়েছে।

বৃহত্তর বিরোধী জোটের অংশগ্রহণ

এই কর্মসূচিতে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পাশাপাশি এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর সুপ্রিয়া সুলে, আরজেডির মিসা ভারতী, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিআইয়ের পি. সন্দোষ কুমার এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-এর সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্তসহ ইন্ডিয়া জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।

দিল্লিতে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি এবং তা ঘিরে পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

#রাহুল_গান্ধী #দিল্লি #কংগ্রেস #ইন্ডিয়াজোট #ছাত্রআন্দোলন #NEET #গান্ধীস্মৃতি #ভারতীয়রাজনীতি #ভারত_সংবাদ #সারাক্ষণ