০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রুপিয়াহর রেকর্ড পতন: ইরান যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় চাপে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক চাপ—এই দুইয়ের যৌথ প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও পুঁজি প্রত্যাহারের ফলে শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, পুরো এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারে চাপ, রুপিয়াহর রেকর্ড পতন
বৃহস্পতিবার লেনদেনে রুপিয়াহ প্রতি ডলারে ১৭,৩১০ স্তরে পৌঁছে যায়, যা ১৯৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের সময়কার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। একই দিনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে রুপিয়াহ সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়। ফিলিপাইনের পেসো ও থাই বাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যদিও সিঙ্গাপুর ডলার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাই এই চাপের প্রধান কারণ। তারা মুদ্রার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখবে এবং সুদের কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে পুঁজি আকর্ষণের চেষ্টা করবে।

সরকারের অবস্থান
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পতনের পেছনে মূলত বৈশ্বিক কারণ কাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যাখ্যা পুরো চিত্র তুলে ধরে না।

Explainer: Why has the Indonesian rupiah hit a record low despite dollar  weakness? | Reuters

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের শক্তি
ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন তারা, ফলে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং অন্যান্য মুদ্রা দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের আয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারভিত্তিক বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বাড়াচ্ছে চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বৈশ্বিক কারণ নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও রুপিয়াহর পতনকে গভীর করেছে। জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডিভিডেন্ড পাঠাতে ডলারের চাহিদা এবং পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বাজারে আস্থার সংকেত
রুপিয়াহর পাশাপাশি শেয়ারবাজার ও সরকারি বন্ডেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। শেয়ার সূচক কমেছে এবং ১০ বছরের সরকারি বন্ডের সুদ বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা শুধু মুদ্রা নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করে অবস্থান নিচ্ছেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা
বছরের শুরু থেকে রুপিয়াহ প্রায় ৩.৫ শতাংশ দুর্বল হয়েছে, যা কিছু দেশের তুলনায় ভালো হলেও অঞ্চলের অন্যান্য মুদ্রার সঙ্গে তুলনায় এখনও চাপের মধ্যেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেখায় যে বাজার প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ঝুঁকির মাত্রা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রুপিয়াহর রেকর্ড পতন: ইরান যুদ্ধ ও অভ্যন্তরীণ দুর্বলতায় চাপে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা

০৭:৩৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের অনিশ্চয়তা এবং দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক চাপ—এই দুইয়ের যৌথ প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রা রুপিয়াহ ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা ও পুঁজি প্রত্যাহারের ফলে শুধু ইন্দোনেশিয়া নয়, পুরো এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রাগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশ্ববাজারে চাপ, রুপিয়াহর রেকর্ড পতন
বৃহস্পতিবার লেনদেনে রুপিয়াহ প্রতি ডলারে ১৭,৩১০ স্তরে পৌঁছে যায়, যা ১৯৯৮ সালের এশীয় আর্থিক সংকটের সময়কার রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। একই দিনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে রুপিয়াহ সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়। ফিলিপাইনের পেসো ও থাই বাতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যদিও সিঙ্গাপুর ডলার তুলনামূলক স্থিতিশীল ছিল।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ
ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাই এই চাপের প্রধান কারণ। তারা মুদ্রার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখবে এবং সুদের কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে পুঁজি আকর্ষণের চেষ্টা করবে।

সরকারের অবস্থান
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পতনের পেছনে মূলত বৈশ্বিক কারণ কাজ করছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ব্যাখ্যা পুরো চিত্র তুলে ধরে না।

Explainer: Why has the Indonesian rupiah hit a record low despite dollar  weakness? | Reuters

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের শক্তি
ইরান-সংক্রান্ত সংঘাত বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে। নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন তারা, ফলে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে এবং অন্যান্য মুদ্রা দুর্বল হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বন্ডের আয় বেড়ে যাওয়ায় ডলারভিত্তিক বিনিয়োগ আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা বাড়াচ্ছে চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বৈশ্বিক কারণ নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও রুপিয়াহর পতনকে গভীর করেছে। জ্বালানি ভর্তুকির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের আর্থিক চাপ বাড়ছে। এছাড়া আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ডিভিডেন্ড পাঠাতে ডলারের চাহিদা এবং পণ্যের দাম ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

বাজারে আস্থার সংকেত
রুপিয়াহর পাশাপাশি শেয়ারবাজার ও সরকারি বন্ডেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। শেয়ার সূচক কমেছে এবং ১০ বছরের সরকারি বন্ডের সুদ বেড়েছে। এতে বোঝা যায়, বিনিয়োগকারীরা শুধু মুদ্রা নয়, সামগ্রিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনা করে অবস্থান নিচ্ছেন।

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা
বছরের শুরু থেকে রুপিয়াহ প্রায় ৩.৫ শতাংশ দুর্বল হয়েছে, যা কিছু দেশের তুলনায় ভালো হলেও অঞ্চলের অন্যান্য মুদ্রার সঙ্গে তুলনায় এখনও চাপের মধ্যেই রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দেখায় যে বাজার প্রতিটি দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি ও ঝুঁকির মাত্রা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করছে।