০২:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রুবিওর উত্থান: ট্রাম্প প্রশাসনে কূটনীতির নতুন মুখ

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক দশক আগের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন এখন ইতিহাস। এক সময় যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ‘প্রতারক’ বলেছিলেন, সেই মার্কো রুবিও-ই আজ তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরদের একজন। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এই সম্পর্ক এখন আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

ক্ষমতার কেন্দ্রে রুবিও

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন রুবিও। শান্ত, পরিমিত ও দক্ষ হিসেবে তিনি প্রশাসনের কঠোর পররাষ্ট্রনীতিকে একটি সুসংগঠিত রূপ দিতে চেষ্টা করছেন। ভেনেজুয়েলায় অভিযান থেকে শুরু করে ইরানে হামলা—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি প্রেসিডেন্টের পাশে ছিলেন।

এই ঘনিষ্ঠতা তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও সামনে নিয়ে এসেছে। দলীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে, যদিও এখনও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জনপ্রিয়তায় কিছুটা এগিয়ে।

পরিবর্তনশীল রাজনীতিকের কৌশল

রাজনীতির মঞ্চে টিকে থাকতে রুবিওকে অনেকটা রূপ বদলাতে হয়েছে। একসময় তিনি অভিবাসন সংস্কার ও ইউক্রেনকে সহায়তার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি এমন এক প্রশাসনের অংশ, যেখানে কঠোর অভিবাসন নীতি ও ভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থান প্রাধান্য পাচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তন তার আদর্শগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে সমর্থকদের দাবি, তিনি ট্রাম্পের কঠোর নীতিকে কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা করেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছেও তিনি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য একজন মুখ।

লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার

লাতিন আমেরিকায় রুবিওর ভূমিকা সবচেয়ে স্পষ্ট। স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ এই কূটনীতিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়। ভেনেজুয়েলায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় তার বড় ভূমিকা ছিল।

এখন তার নজর কিউবার দিকে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না কি শুধুই অর্থনৈতিক সমঝোতা—এই প্রশ্ন এখনো খোলা রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইস্যুতে রুবিওর ভূমিকা তাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। ইসরায়েলপন্থী অবস্থান থেকে তিনি যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ সফল হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে তা তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির হিসাব

রুবিও আপাতত নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে কমিয়ে রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভ্যান্স প্রার্থী হলে তাকে সমর্থন করবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি কৌশলগত সিদ্ধান্তও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাই রুবিওর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রুবিওর উত্থান: ট্রাম্প প্রশাসনে কূটনীতির নতুন মুখ

০৭:০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক দশক আগের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন এখন ইতিহাস। এক সময় যিনি ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ‘প্রতারক’ বলেছিলেন, সেই মার্কো রুবিও-ই আজ তার সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচরদের একজন। সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এই সম্পর্ক এখন আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

ক্ষমতার কেন্দ্রে রুবিও

বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন রুবিও। শান্ত, পরিমিত ও দক্ষ হিসেবে তিনি প্রশাসনের কঠোর পররাষ্ট্রনীতিকে একটি সুসংগঠিত রূপ দিতে চেষ্টা করছেন। ভেনেজুয়েলায় অভিযান থেকে শুরু করে ইরানে হামলা—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি প্রেসিডেন্টের পাশে ছিলেন।

এই ঘনিষ্ঠতা তাকে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবেও সামনে নিয়ে এসেছে। দলীয় রাজনীতিতে তার অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে, যদিও এখনও ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স জনপ্রিয়তায় কিছুটা এগিয়ে।

পরিবর্তনশীল রাজনীতিকের কৌশল

রাজনীতির মঞ্চে টিকে থাকতে রুবিওকে অনেকটা রূপ বদলাতে হয়েছে। একসময় তিনি অভিবাসন সংস্কার ও ইউক্রেনকে সহায়তার পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি এমন এক প্রশাসনের অংশ, যেখানে কঠোর অভিবাসন নীতি ও ভিন্ন আন্তর্জাতিক অবস্থান প্রাধান্য পাচ্ছে।

সমালোচকদের মতে, এই পরিবর্তন তার আদর্শগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে সমর্থকদের দাবি, তিনি ট্রাম্পের কঠোর নীতিকে কিছুটা ভারসাম্যপূর্ণ রাখার চেষ্টা করেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছেও তিনি তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য একজন মুখ।

লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার

লাতিন আমেরিকায় রুবিওর ভূমিকা সবচেয়ে স্পষ্ট। স্প্যানিশ ভাষায় দক্ষ এই কূটনীতিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়াতে সক্রিয়। ভেনেজুয়েলায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় তার বড় ভূমিকা ছিল।

এখন তার নজর কিউবার দিকে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। তবে সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না কি শুধুই অর্থনৈতিক সমঝোতা—এই প্রশ্ন এখনো খোলা রয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইস্যুতে রুবিওর ভূমিকা তাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে এনেছে। ইসরায়েলপন্থী অবস্থান থেকে তিনি যুদ্ধের পক্ষে ছিলেন। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ সফল হলে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে। কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হলে তা তার ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির হিসাব

রুবিও আপাতত নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে কমিয়ে রাখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ভ্যান্স প্রার্থী হলে তাকে সমর্থন করবেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি কৌশলগত সিদ্ধান্তও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ দ্রুত বদলাচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার দক্ষতাই রুবিওর সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।