০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ইরান যুদ্ধের জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পারমাণবিক স্বপ্ন এখন জাতীয় জরুরি অগ্রাধিকার

ইউনিট ওয়ানের চালু হওয়ার পথে চূড়ান্ত ধাপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরকে হঠাৎ করেই জাতীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে নিয়ে এসেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে নির্মিত এই ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর দিয়ে গঠিত এই প্রকল্পের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিট-১-এর জন্য ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি ভরার কাজ এপ্রিলের শুরুতে শুরু হবে। এরপর ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা ও গ্রিড সংযোগ মে-জুনে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা পরে পূর্ণ ক্ষমতায় ১,২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। ইউনিট-২ আসবে ২০২৭ সালে।

ইউনিট-১-এর কোল্ড রান ও হট রান পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই হাজারের বেশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যে মাত্র ১৫০টি ছোটখাটো কাজ এখনো বাকি, যেগুলো মার্চের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ প্রি-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ সম্পন্ন করে কেন্দ্রের কর্মীদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রশংসা করেছে। ২০২৫ সালের জুনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু হয়েছে, যা কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠানোর পথ তৈরি করেছে। রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউনিট-১ চালু করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।

একটি প্রকল্প, একটি জাতীয় প্রতিশ্রুতি

রূপপুর কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবদান ৬৬ শতাংশ, যার এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করা হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ কাটা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রূপপুরের ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা জাতীয় চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে পারবে। প্রকল্পটির খরচ প্রাথমিকভাবে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সেটি প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে বলে একটি প্রস্তাব পর্যালোচনাধীন আছে। রাশিয়ার ঋণ পরিশোধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিলতা দেখা দিলেও বাংলাদেশ চীনা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার রোসাটমের সঙ্গে ঋণ ব্যবহারের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়। এই আন্তঃসরকার ধারাবাহিকতাকে বিশেষজ্ঞরা রূপপুরের প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ জাতীয় প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র: ইরান যুদ্ধের জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের পারমাণবিক স্বপ্ন এখন জাতীয় জরুরি অগ্রাধিকার

০৮:১৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইউনিট ওয়ানের চালু হওয়ার পথে চূড়ান্ত ধাপ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরকে হঠাৎ করেই জাতীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে নিয়ে এসেছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মার তীরে নির্মিত এই ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের সহায়তায় নির্মিত হচ্ছে। দুটি ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর দিয়ে গঠিত এই প্রকল্পের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইউনিট-১-এর জন্য ফুয়েল লোডিং বা জ্বালানি ভরার কাজ এপ্রিলের শুরুতে শুরু হবে। এরপর ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা ও গ্রিড সংযোগ মে-জুনে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে, যা পরে পূর্ণ ক্ষমতায় ১,২০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। ইউনিট-২ আসবে ২০২৭ সালে।

ইউনিট-১-এর কোল্ড রান ও হট রান পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দুই হাজারের বেশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মধ্যে মাত্র ১৫০টি ছোটখাটো কাজ এখনো বাকি, যেগুলো মার্চের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ প্রি-অপারেশনাল সেফটি রিভিউ সম্পন্ন করে কেন্দ্রের কর্মীদের দক্ষতা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনার প্রশংসা করেছে। ২০২৫ সালের জুনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চালু হয়েছে, যা কেন্দ্রটির উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে পাঠানোর পথ তৈরি করেছে। রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইউনিট-১ চালু করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।

একটি প্রকল্প, একটি জাতীয় প্রতিশ্রুতি

রূপপুর কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, এটি বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর কৌশলের অংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাকৃতিক গ্যাসের অবদান ৬৬ শতাংশ, যার এক-তৃতীয়াংশ আমদানি করা হয়। ইরান যুদ্ধের কারণে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় দেশে বিদ্যুৎ কাটা প্রতিদিন পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রূপপুরের ২,৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা জাতীয় চাহিদার একটি বড় অংশ মেটাতে পারবে। প্রকল্পটির খরচ প্রাথমিকভাবে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার ধরা হলেও টাকার অবমূল্যায়নের কারণে সেটি প্রায় ২৩ শতাংশ বেড়েছে বলে একটি প্রস্তাব পর্যালোচনাধীন আছে। রাশিয়ার ঋণ পরিশোধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে জটিলতা দেখা দিলেও বাংলাদেশ চীনা ইউয়ানে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার রোসাটমের সঙ্গে ঋণ ব্যবহারের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়। এই আন্তঃসরকার ধারাবাহিকতাকে বিশেষজ্ঞরা রূপপুরের প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ জাতীয় প্রতিশ্রুতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।