০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১২)

  • Sarakhon Report
  • ০৭:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪
  • 126

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

দাঁড়কাক বলেছিলেন, ‘আমাদের যেতেই হবে। সত্যিকার লড়াই হবে ওখানে। ‘এস-আর’-দের পক্ষে ক্রুগুলিকভ স্বয়ং বক্তিমে ঝাড়বে। ওর ধানাই-পানাই একবার শোনা উচিত তোমার। বুঝেছ, ইভানোস্কোয়েতে ওর এমনি এক বক্তিমে শোনার পর চাষীদের এমন ধোঁকা লেগে গেল যে তারা আমাদের মারে আর কী।’

আমি আগ্রহ নিয়ে বললুম, ‘চলুন তাহলে। আচ্ছা, সেমিওন ইভানোভিচ, আপনি কখনও আপনার রিভলবার সঙ্গে নেন না কেন বলুন তো? ওটা তো আমি যেখানে- সেখানে পড়ে থাকতে দেখি। একদিন দেখলুম ওটা আপনার তামাকের টিনে রয়েছে, আবার কাল দেখি রিভলবার রয়েছে আপনার রুটির টুকরিতে। আমি কিন্তু আমার রিভলবার সবসময়ে সঙ্গে নিয়ে বেড়াই। ঘুমনোর সময়ও আমি ওটাকে বালিশের নিচে রেখে দিই।’

দাঁড়কাক হাসলেন। সেই সঙ্গে ওঁর দাড়ির গায়ে লেগে থাকা মাখোরকা তামাকের টুকরোগুলো দুলে উঠল।

বললেন, ‘তুমি এখনও বড্ড ছেলেমানুষ আছ, গোরিকভ। আরে, বক্তৃতায় কাজ না হলে লোকে ত আমায় মারতে পারে, কিন্তু এখন যদি রিভলবার বের করি তাহলে উলটে লোকে আমায় খুড়ে মাংসর কিমা বানিয়ে দেবে যে। সময় হলেই রিভলবার ব্যবহার করব বৈ কি! তবে এখন আমাদের সবচেয়ে ভালো অস্য হল কথা। আজ আমদের হয়ে বাস্কাকভ বক্তৃতা দেবে।’

আমি অবাক হলুম, ‘বাস্স্কাকত? কিন্তু ও তো খুব খারাপ বক্তা। পরপর সাজিয়ে কথাই বলতে পারে না। ওর একটা কথার পর দ্বিতীয় কথা বলার ফাঁকে এক ঘুম ঘুমিয়ে নেয়া যায়।’

‘এখানে ওকে এরকম দেখছ, কিন্তু সভায় ওর বক্তৃতা শুনো, তাক লেগে যাবে।’

পুরনো, ঝরঝরে একটা পুল পেরিয়ে ছিল কামেল্কা যাবার রাস্তা। রাস্তার দু-পাশে ঘাস-ভরা বন্যার জল জমা মাঠ আর লম্বা, ঘন শর-গাছে ভরা সরু সরু নালি। সেদিন শহর-ফেরা চাষীদের ঘোড়ায়-টানা গাড়ি লম্বা সার বে’ধে রাস্তা জুড়ে চলেছিল। চাষী-মেয়েরা খালি পায়ে দুধের খালি টিন নিয়ে শহরের বাজার থেকে ঘরে ফিরছিল। আস্তে-ধীরে এগোচ্ছিলুম আমরা, এমন সময় ‘এস-আর’-দের লোকে- ভরতি একটা দ্রোঙ্কি গাড়ি আমাদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে আমরাও দ্রুত পা চালালুম।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -১২)

০৭:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

দাঁড়কাক বলেছিলেন, ‘আমাদের যেতেই হবে। সত্যিকার লড়াই হবে ওখানে। ‘এস-আর’-দের পক্ষে ক্রুগুলিকভ স্বয়ং বক্তিমে ঝাড়বে। ওর ধানাই-পানাই একবার শোনা উচিত তোমার। বুঝেছ, ইভানোস্কোয়েতে ওর এমনি এক বক্তিমে শোনার পর চাষীদের এমন ধোঁকা লেগে গেল যে তারা আমাদের মারে আর কী।’

আমি আগ্রহ নিয়ে বললুম, ‘চলুন তাহলে। আচ্ছা, সেমিওন ইভানোভিচ, আপনি কখনও আপনার রিভলবার সঙ্গে নেন না কেন বলুন তো? ওটা তো আমি যেখানে- সেখানে পড়ে থাকতে দেখি। একদিন দেখলুম ওটা আপনার তামাকের টিনে রয়েছে, আবার কাল দেখি রিভলবার রয়েছে আপনার রুটির টুকরিতে। আমি কিন্তু আমার রিভলবার সবসময়ে সঙ্গে নিয়ে বেড়াই। ঘুমনোর সময়ও আমি ওটাকে বালিশের নিচে রেখে দিই।’

দাঁড়কাক হাসলেন। সেই সঙ্গে ওঁর দাড়ির গায়ে লেগে থাকা মাখোরকা তামাকের টুকরোগুলো দুলে উঠল।

বললেন, ‘তুমি এখনও বড্ড ছেলেমানুষ আছ, গোরিকভ। আরে, বক্তৃতায় কাজ না হলে লোকে ত আমায় মারতে পারে, কিন্তু এখন যদি রিভলবার বের করি তাহলে উলটে লোকে আমায় খুড়ে মাংসর কিমা বানিয়ে দেবে যে। সময় হলেই রিভলবার ব্যবহার করব বৈ কি! তবে এখন আমাদের সবচেয়ে ভালো অস্য হল কথা। আজ আমদের হয়ে বাস্কাকভ বক্তৃতা দেবে।’

আমি অবাক হলুম, ‘বাস্স্কাকত? কিন্তু ও তো খুব খারাপ বক্তা। পরপর সাজিয়ে কথাই বলতে পারে না। ওর একটা কথার পর দ্বিতীয় কথা বলার ফাঁকে এক ঘুম ঘুমিয়ে নেয়া যায়।’

‘এখানে ওকে এরকম দেখছ, কিন্তু সভায় ওর বক্তৃতা শুনো, তাক লেগে যাবে।’

পুরনো, ঝরঝরে একটা পুল পেরিয়ে ছিল কামেল্কা যাবার রাস্তা। রাস্তার দু-পাশে ঘাস-ভরা বন্যার জল জমা মাঠ আর লম্বা, ঘন শর-গাছে ভরা সরু সরু নালি। সেদিন শহর-ফেরা চাষীদের ঘোড়ায়-টানা গাড়ি লম্বা সার বে’ধে রাস্তা জুড়ে চলেছিল। চাষী-মেয়েরা খালি পায়ে দুধের খালি টিন নিয়ে শহরের বাজার থেকে ঘরে ফিরছিল। আস্তে-ধীরে এগোচ্ছিলুম আমরা, এমন সময় ‘এস-আর’-দের লোকে- ভরতি একটা দ্রোঙ্কি গাড়ি আমাদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতে আমরাও দ্রুত পা চালালুম।