০৮:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫
  • 102

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সঙ্গে সঙ্গে যে চারজোড়া হাত আমায় চেপে ধরে ছিল তারা খসে পড়ল। আর আমি ছাড়া পেয়ে লাফিয়ে জানলার ওপর উঠলুম। ওখান থেকে এক মুহূর্তের জন্যে চোখে পড়ল ছাত্রদের ফ্যাকাশে-হয়ে-যাওয়া মুখগুলো, গুলি লেগে চূর্ণবিচূর্ণ মেঝের হলদে টালিটা আর দরজার গোড়ায় বাইবেলের কাহিনীতে বর্ণিত লটের স্ত্রীর লবণস্তম্ভে রূপান্তরিত হওয়ার মতো স্তম্ভিত-হয়ে-থাকা ফাদার গেল্লাদির চেহারাটা। বিনা দ্বিধায় দোতলা সমান উচু থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়লুম। নামলুম এসে ঝলমলে লাল ডালিয়াফুলের একটা কেয়ারির মধ্যে।
ওই দিন সন্ধের অনেক পরে আমাদের বাড়ির পেছনের বাগানের দিক থেকে বৃষ্টির জল নামার পাইপ বেয়ে দোতলার জানলায় উঠলুম। বাড়ির কেউ যাতে ভয় না পায় সেজন্যে নিঃশব্দে উঠতে চেষ্টা করছিলুম, কিন্তু মা বোধ হয় আওয়াজ শুনে জানলায় এসে দাঁড়ালেন। চাপা গলায় বললেন:
‘কে? বরিস?’
‘হ্যাঁ, মা, আমি।’
‘পাইপ বেয়ে উঠছ কেন? পড়ে যাবে যে। নিচে নামো, দোর খুলে দিচ্ছি।’
‘না, মা, থাক। ঠিক উঠে যাব।’
জানলা থেকে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে নেমে মা-র বকুনি আর কান্নাকাটি শোনার জন্যে তৈরি হলুম।
কিন্তু আগের মতোই নিচু গলায় মা বললেন, ‘কিছু খাবে? আচ্ছা, বোসো, সুপটা এখনও গরম আছে, তা-ই আনি।’
ভাবলুম, মা বোধ হয় কিছু জানেন না। ওঁকে চুমো দিয়ে টেবিলে বসলুম। কীভাবে ওঁর কাছে খবরটা ভাঙব তাই ভাবতে লাগলুম। বুঝতে পারছিলুম মা-র চোখ দুটো আমার দিকে আটকে ছিল। এমে অম্বন্বস্তি বোধ করতে লাগলুম। এক সময় প্লেটের কানায় চামচটা নামিয়ে রাখলুম।
তখন মা কথাটা পাড়লেন, ‘ইশকুলের ইনস্পেক্টর এসেছিলেন বাড়িতে। উনি জানালেন তোমাকে ইশকুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আরও বললেন তুই যদি তোর রিভলবারটা কাল বেলা বারোটার মধ্যে স্থানীয় রক্ষী বাহিনীর কাছে জমা না দিস তাহলে ওরাই বাহিনীকে ব্যাপারটা জানাবেন আর তারা জোর করে ওটা কেড়ে নিয়ে যাবে রিভলবারটা দিয়ে দে না, বাবা।’

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

রোমাঞ্চকর সময় (পর্ব -৩৪)

০৮:০০:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

সঙ্গে সঙ্গে যে চারজোড়া হাত আমায় চেপে ধরে ছিল তারা খসে পড়ল। আর আমি ছাড়া পেয়ে লাফিয়ে জানলার ওপর উঠলুম। ওখান থেকে এক মুহূর্তের জন্যে চোখে পড়ল ছাত্রদের ফ্যাকাশে-হয়ে-যাওয়া মুখগুলো, গুলি লেগে চূর্ণবিচূর্ণ মেঝের হলদে টালিটা আর দরজার গোড়ায় বাইবেলের কাহিনীতে বর্ণিত লটের স্ত্রীর লবণস্তম্ভে রূপান্তরিত হওয়ার মতো স্তম্ভিত-হয়ে-থাকা ফাদার গেল্লাদির চেহারাটা। বিনা দ্বিধায় দোতলা সমান উচু থেকে নিচে ঝাঁপিয়ে পড়লুম। নামলুম এসে ঝলমলে লাল ডালিয়াফুলের একটা কেয়ারির মধ্যে।
ওই দিন সন্ধের অনেক পরে আমাদের বাড়ির পেছনের বাগানের দিক থেকে বৃষ্টির জল নামার পাইপ বেয়ে দোতলার জানলায় উঠলুম। বাড়ির কেউ যাতে ভয় না পায় সেজন্যে নিঃশব্দে উঠতে চেষ্টা করছিলুম, কিন্তু মা বোধ হয় আওয়াজ শুনে জানলায় এসে দাঁড়ালেন। চাপা গলায় বললেন:
‘কে? বরিস?’
‘হ্যাঁ, মা, আমি।’
‘পাইপ বেয়ে উঠছ কেন? পড়ে যাবে যে। নিচে নামো, দোর খুলে দিচ্ছি।’
‘না, মা, থাক। ঠিক উঠে যাব।’
জানলা থেকে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে নেমে মা-র বকুনি আর কান্নাকাটি শোনার জন্যে তৈরি হলুম।
কিন্তু আগের মতোই নিচু গলায় মা বললেন, ‘কিছু খাবে? আচ্ছা, বোসো, সুপটা এখনও গরম আছে, তা-ই আনি।’
ভাবলুম, মা বোধ হয় কিছু জানেন না। ওঁকে চুমো দিয়ে টেবিলে বসলুম। কীভাবে ওঁর কাছে খবরটা ভাঙব তাই ভাবতে লাগলুম। বুঝতে পারছিলুম মা-র চোখ দুটো আমার দিকে আটকে ছিল। এমে অম্বন্বস্তি বোধ করতে লাগলুম। এক সময় প্লেটের কানায় চামচটা নামিয়ে রাখলুম।
তখন মা কথাটা পাড়লেন, ‘ইশকুলের ইনস্পেক্টর এসেছিলেন বাড়িতে। উনি জানালেন তোমাকে ইশকুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আরও বললেন তুই যদি তোর রিভলবারটা কাল বেলা বারোটার মধ্যে স্থানীয় রক্ষী বাহিনীর কাছে জমা না দিস তাহলে ওরাই বাহিনীকে ব্যাপারটা জানাবেন আর তারা জোর করে ওটা কেড়ে নিয়ে যাবে রিভলবারটা দিয়ে দে না, বাবা।’