০৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লবণ জলে বাঁধা পরিবার: সিডনি–হোবার্ট ইয়ট রেসে বাবা–ছেলে–ভাইবোনের প্রজন্মের লড়াই

সিডনি বন্দরের নীল জলে শুরু হওয়া সিডনি–হোবার্ট ইয়ট রেস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বহু পরিবারের কাছে এটি উত্তরাধিকার, আবেগ আর প্রজন্মের বন্ধন। তাসমানিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন এই সমুদ্রযাত্রায় বাবা–মা, ছেলে–মেয়ে, ভাই বোন এমনকি আত্মীয়রা একই নৌকায় কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নামছেন। ঝড়, ঠান্ডা, স্রোত আর অনিশ্চয়তার মাঝেও পরিবারকে পাশে পাওয়াই অনেক নাবিকের কাছে শক্তির উৎস।

প্রজন্মের হাত ধরে সমুদ্রশিক্ষা
এই রেসে প্রায় একশোর বেশি ইয়টের মধ্যে চল্লিশ টিরও বেশি নৌকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য আছেন। কারো কাছে এটি পারিবারিক পুনর্মিলন, কারও কাছে অভিজ্ঞতা হস্তান্তরের মঞ্চ। কার্ল ক্রাউফোর্ড তাঁর উনিশ বছরের ছেলে বেনকে নিয়ে নামছেন বহুবারের এই যাত্রায়। তাঁর বাবাও একসময় এই রেসে অংশ নিয়েছিলেন। এখন কার্লের লক্ষ্য ছেলেকে শেখানো, যেন নাম আর ঐতিহ্য দুটিই টিকে থাকে।

কঠিন সমুদ্রে পরিবারই ভরসা
সিডনি–হোবার্টের ইতিহাসে ভয়াবহ ঝড়, নৌকা ডোবা আর প্রাণহানির ঘটনাও আছে। তবু পরিবারের সঙ্গে এই পথ পাড়ি দিলে ভয় সামলে ওঠা সহজ হয় বলে মনে করেন অনেকে। এক নৌকায় তিন জোড়া বাবা–ছেলে, শ্বশুর–জামাই একসঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুনদের মেলবন্ধন তৈরি করছে আলাদা এক শক্তি।

At the Sydney Hobart Yacht Race, Some Boats Are All in the Family - The New  York Times

বাবা–ছেলের নীরব বোঝাপড়া
কিছু নৌকায় বাবা ও ছেলে আলাদা ওয়াচে কাজ করেন, যাতে সিদ্ধান্তে দ্বন্দ্ব না আসে। দীর্ঘদিনের এই সহযাত্রা তাদের পারফরম্যান্স আরও ধারালো করেছে। আবার যমজ ভাইদের গল্পও আছে, যারা নীরব চোখাচোখি আর শেষ লাইনে হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ঝড়ো রাত আর উঁচু ঢেউয়ে একে অন্যের মনোবল বাড়ানোই তাদের রীতি।

ঐতিহ্য, আবেগ আর ভবিষ্যৎ
এই রেস অনেকের কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন বুনে দেয়। কেউ চান ছেলে নিজের নৌকায় শীর্ষ ট্রফি জিতুক, কেউ চান অন্তত এই অভিজ্ঞতার আলো উত্তরাধিকার হয়ে থাকুক। সমুদ্রের ভয় আর সৌন্দর্য ভাগ করে নেওয়ার এই যাত্রা পরিবারকে আরও কাছাকাছি আনে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লবণ জলে বাঁধা পরিবার: সিডনি–হোবার্ট ইয়ট রেসে বাবা–ছেলে–ভাইবোনের প্রজন্মের লড়াই

১১:৪৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

সিডনি বন্দরের নীল জলে শুরু হওয়া সিডনি–হোবার্ট ইয়ট রেস কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বহু পরিবারের কাছে এটি উত্তরাধিকার, আবেগ আর প্রজন্মের বন্ধন। তাসমানিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ও কঠিন এই সমুদ্রযাত্রায় বাবা–মা, ছেলে–মেয়ে, ভাই বোন এমনকি আত্মীয়রা একই নৌকায় কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে নামছেন। ঝড়, ঠান্ডা, স্রোত আর অনিশ্চয়তার মাঝেও পরিবারকে পাশে পাওয়াই অনেক নাবিকের কাছে শক্তির উৎস।

প্রজন্মের হাত ধরে সমুদ্রশিক্ষা
এই রেসে প্রায় একশোর বেশি ইয়টের মধ্যে চল্লিশ টিরও বেশি নৌকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্য আছেন। কারো কাছে এটি পারিবারিক পুনর্মিলন, কারও কাছে অভিজ্ঞতা হস্তান্তরের মঞ্চ। কার্ল ক্রাউফোর্ড তাঁর উনিশ বছরের ছেলে বেনকে নিয়ে নামছেন বহুবারের এই যাত্রায়। তাঁর বাবাও একসময় এই রেসে অংশ নিয়েছিলেন। এখন কার্লের লক্ষ্য ছেলেকে শেখানো, যেন নাম আর ঐতিহ্য দুটিই টিকে থাকে।

কঠিন সমুদ্রে পরিবারই ভরসা
সিডনি–হোবার্টের ইতিহাসে ভয়াবহ ঝড়, নৌকা ডোবা আর প্রাণহানির ঘটনাও আছে। তবু পরিবারের সঙ্গে এই পথ পাড়ি দিলে ভয় সামলে ওঠা সহজ হয় বলে মনে করেন অনেকে। এক নৌকায় তিন জোড়া বাবা–ছেলে, শ্বশুর–জামাই একসঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করে নিচ্ছেন। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুনদের মেলবন্ধন তৈরি করছে আলাদা এক শক্তি।

At the Sydney Hobart Yacht Race, Some Boats Are All in the Family - The New  York Times

বাবা–ছেলের নীরব বোঝাপড়া
কিছু নৌকায় বাবা ও ছেলে আলাদা ওয়াচে কাজ করেন, যাতে সিদ্ধান্তে দ্বন্দ্ব না আসে। দীর্ঘদিনের এই সহযাত্রা তাদের পারফরম্যান্স আরও ধারালো করেছে। আবার যমজ ভাইদের গল্পও আছে, যারা নীরব চোখাচোখি আর শেষ লাইনে হাত মেলানোর মধ্য দিয়ে প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। ঝড়ো রাত আর উঁচু ঢেউয়ে একে অন্যের মনোবল বাড়ানোই তাদের রীতি।

ঐতিহ্য, আবেগ আর ভবিষ্যৎ
এই রেস অনেকের কাছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন বুনে দেয়। কেউ চান ছেলে নিজের নৌকায় শীর্ষ ট্রফি জিতুক, কেউ চান অন্তত এই অভিজ্ঞতার আলো উত্তরাধিকার হয়ে থাকুক। সমুদ্রের ভয় আর সৌন্দর্য ভাগ করে নেওয়ার এই যাত্রা পরিবারকে আরও কাছাকাছি আনে।