০১:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লুইজিয়ানায় রিপাবলিকান সিনেট মনোনয়নে ট্রাম্প-সমর্থিত জুলিয়া লেটলোর জয়

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় রিপাবলিকান দলের সিনেট মনোনয়ন নির্ধারণী দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয় পেয়েছেন কংগ্রেস সদস্য জুলিয়া লেটলো। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফলটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব এবং দলীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

মনোনয়ন দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধান

নির্বাচনে জুলিয়া লেটলো প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে লুইজিয়ানার অঙ্গরাজ্য কোষাধ্যক্ষ জন ফ্লেমিংকে পরাজিত করেন। ফ্লেমিং পান প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট। এর আগে মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার প্রাথমিক নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রয়োজন হয়।

প্রথম দফাতেও লেটলো এগিয়ে ছিলেন। তখন তিনি প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে ফ্লেমিংয়ের ভোট ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ।

ট্রাম্পের সমর্থন বড় ভূমিকা

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। কারণ, জুলিয়া লেটলোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডির পরিবর্তে লেটলোকে এগিয়ে আনতে ট্রাম্প সক্রিয় ভূমিকা নেন। ক্যাসিডি অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় রিপাবলিকান রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারণায় লেটলোর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা নানা সমালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা সেসব অভিযোগ গ্রহণ করেননি।

Trump-backed Julia Letlow wins Louisiana Senate run-off | The Australian

ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে রাজনৈতিক উত্থান

রাজনীতিতে আসার আগে জুলিয়া লেটলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন। ২০২০ সালে তাঁর স্বামী লুক লেটলো প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হলেও শপথ নেওয়ার আগেই কোভিডে মারা যান। এরপর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে জুলিয়া লেটলো সেই আসনে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে সিনেট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিনিধি পরিষদের আসন ছেড়ে দেন।

অন্যদিকে জন ফ্লেমিংও আগে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও তিনি নিজেকে ট্রাম্পপন্থী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন, তবু আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাননি। নিজের নির্বাচনী প্রচারণার বড় অংশের ব্যয়ও তিনি নিজেই বহন করেন।

ব্যয়বহুল প্রচারণা ও সামনে সাধারণ নির্বাচন

এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক নির্বাচন ও দ্বিতীয় দফাসহ মোট প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। প্রচারণায় জুলিয়া লেটলো নিজেকে একজন মা এবং কর কমানোর নীতির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে ফ্লেমিং তাঁকে উদারপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।

এদিকে লেটলোর সমর্থনে গঠিত একটি রাজনৈতিক তহবিলও ব্যাপক প্রচারণা চালায়। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে ফ্লেমিংয়ের বয়স এবং অতীতে লবিস্ট হিসেবে তাঁর কাজের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জুলিয়া লেটলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি ডেভিস। ফলে লুইজিয়ানার সিনেট আসন নিয়ে এখন মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লুইজিয়ানায় রিপাবলিকান সিনেট মনোনয়নে ট্রাম্প-সমর্থিত জুলিয়া লেটলোর জয়

০৭:৩২:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় রিপাবলিকান দলের সিনেট মনোনয়ন নির্ধারণী দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয় পেয়েছেন কংগ্রেস সদস্য জুলিয়া লেটলো। এই জয়ের মাধ্যমে তিনি আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফলটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব এবং দলীয় রাজনীতিতে তাঁর অবস্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

মনোনয়ন দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধান

নির্বাচনে জুলিয়া লেটলো প্রায় ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে লুইজিয়ানার অঙ্গরাজ্য কোষাধ্যক্ষ জন ফ্লেমিংকে পরাজিত করেন। ফ্লেমিং পান প্রায় ৪৩ শতাংশ ভোট। এর আগে মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার প্রাথমিক নির্বাচনে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় রাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রয়োজন হয়।

প্রথম দফাতেও লেটলো এগিয়ে ছিলেন। তখন তিনি প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, যেখানে ফ্লেমিংয়ের ভোট ছিল প্রায় ২৮ শতাংশ।

ট্রাম্পের সমর্থন বড় ভূমিকা

এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করে। কারণ, জুলিয়া লেটলোকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিদায়ী সিনেটর বিল ক্যাসিডির পরিবর্তে লেটলোকে এগিয়ে আনতে ট্রাম্প সক্রিয় ভূমিকা নেন। ক্যাসিডি অতীতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় রিপাবলিকান রাজনীতিতে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

নির্বাচনী প্রচারণায় লেটলোর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রক্ষণশীল অবস্থান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা নানা সমালোচনা করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা সেসব অভিযোগ গ্রহণ করেননি।

Trump-backed Julia Letlow wins Louisiana Senate run-off | The Australian

ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থেকে রাজনৈতিক উত্থান

রাজনীতিতে আসার আগে জুলিয়া লেটলো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতেন। ২০২০ সালে তাঁর স্বামী লুক লেটলো প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে জয়ী হলেও শপথ নেওয়ার আগেই কোভিডে মারা যান। এরপর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে জুলিয়া লেটলো সেই আসনে নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে সিনেট নির্বাচনে অংশ নিতে প্রতিনিধি পরিষদের আসন ছেড়ে দেন।

অন্যদিকে জন ফ্লেমিংও আগে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও তিনি নিজেকে ট্রাম্পপন্থী প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেন, তবু আনুষ্ঠানিক সমর্থন পাননি। নিজের নির্বাচনী প্রচারণার বড় অংশের ব্যয়ও তিনি নিজেই বহন করেন।

ব্যয়বহুল প্রচারণা ও সামনে সাধারণ নির্বাচন

এই নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক নির্বাচন ও দ্বিতীয় দফাসহ মোট প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। প্রচারণায় জুলিয়া লেটলো নিজেকে একজন মা এবং কর কমানোর নীতির সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেন। অন্যদিকে ফ্লেমিং তাঁকে উদারপন্থী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।

এদিকে লেটলোর সমর্থনে গঠিত একটি রাজনৈতিক তহবিলও ব্যাপক প্রচারণা চালায়। বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে ফ্লেমিংয়ের বয়স এবং অতীতে লবিস্ট হিসেবে তাঁর কাজের বিষয়টি সামনে আনা হয়।

আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জুলিয়া লেটলোর প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমি ডেভিস। ফলে লুইজিয়ানার সিনেট আসন নিয়ে এখন মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।