০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লেবানন সীমান্তে হাজারো সেনা মোতায়েন সিরিয়ার, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে লেবানন সীমান্তে হাজার হাজার সেনা, সাঁজোয়া যান ও রকেট ইউনিট মোতায়েন করেছে সিরিয়া। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বলে দাবি করেছে দামেস্ক, যদিও এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে।

সীমান্তে বড় আকারের সামরিক মোতায়েন

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইরাক সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সামরিক সূত্রগুলো জানায়, মোতায়েন করা ইউনিটের মধ্যে রয়েছে পদাতিক বাহিনী, সাঁজোয়া যান এবং স্বল্প পাল্লার গ্রাদ ও কাটিউশা রকেট লঞ্চার। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে সীমান্তরক্ষী ও গোয়েন্দা ইউনিটও সক্রিয় রাখা হয়েছে।

সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই মোতায়েন শুরু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় কার্যক্রম দ্রুততর করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (সিরিয়া) - উইকিপিডিয়া

পাচার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা

সিরিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ মূলত অস্ত্র ও মাদক পাচার ঠেকাতে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে কোনো মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে সিরিয়ায় ঢুকতে না পারে, সে লক্ষ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পশ্চিম হোমস অঞ্চল এবং তারতুসের দক্ষিণে কয়েকটি সামরিক ডিভিশনের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনা নেই

দামেস্কের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। তবে দেশের নিরাপত্তা বা মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তার মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী।

সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা আরও বলেন, লেবাননের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। অতীতে দুই দেশের সম্পর্ক নানা উত্তেজনায় ভরা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।

Why the Israel-Hezbollah conflict hasn't escalated to war despite daily  violence

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনার প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক সংঘাত বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইসরায়েলের দিকে হামলা শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। এর জবাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ার দিকে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বলছে লেবানন

লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়া তাদের জানিয়েছে যে সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় রকেট ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। যদি কোনো গোষ্ঠী সিরিয়ার বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তা মোকাবিলার জন্যই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তবে ইউরোপ ও লেবাননের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, এই মোতায়েন ভবিষ্যতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Syria deploys thousands of troops to border with Lebanon, officials say |  The Times of Israel

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লেবানন সীমান্তে হাজারো সেনা মোতায়েন সিরিয়ার, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনার আশঙ্কা

০৪:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমেই বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা। আঞ্চলিক সংঘাতের আবহে লেবানন সীমান্তে হাজার হাজার সেনা, সাঁজোয়া যান ও রকেট ইউনিট মোতায়েন করেছে সিরিয়া। সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করার এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা বলে দাবি করেছে দামেস্ক, যদিও এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে।

সীমান্তে বড় আকারের সামরিক মোতায়েন

সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে লেবানন ও ইরাক সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ানো হয়েছে। এর লক্ষ্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

সামরিক সূত্রগুলো জানায়, মোতায়েন করা ইউনিটের মধ্যে রয়েছে পদাতিক বাহিনী, সাঁজোয়া যান এবং স্বল্প পাল্লার গ্রাদ ও কাটিউশা রকেট লঞ্চার। সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে সীমান্তরক্ষী ও গোয়েন্দা ইউনিটও সক্রিয় রাখা হয়েছে।

সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই মোতায়েন শুরু হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় কার্যক্রম দ্রুততর করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (সিরিয়া) - উইকিপিডিয়া

পাচার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা

সিরিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, এই পদক্ষেপ মূলত অস্ত্র ও মাদক পাচার ঠেকাতে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে কোনো মিলিশিয়া বা সশস্ত্র গোষ্ঠী যাতে সিরিয়ায় ঢুকতে না পারে, সে লক্ষ্যেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

পশ্চিম হোমস অঞ্চল এবং তারতুসের দক্ষিণে কয়েকটি সামরিক ডিভিশনের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে। এতে সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে কোনো পরিকল্পনা নেই

দামেস্কের একজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সিরিয়ার নেই। তবে দেশের নিরাপত্তা বা মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি এলে তার মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী।

সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা আরও বলেন, লেবাননের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। অতীতে দুই দেশের সম্পর্ক নানা উত্তেজনায় ভরা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা চলছে।

Why the Israel-Hezbollah conflict hasn't escalated to war despite daily  violence

ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ উত্তেজনার প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার পেছনে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সাম্প্রতিক সংঘাত বড় ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ইসরায়েলের দিকে হামলা শুরু করেছে হিজবুল্লাহ। এর জবাবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বড় অংশ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে, ফলে হাজার হাজার মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। অনেক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে সিরিয়ার দিকে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বলছে লেবানন

লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়া তাদের জানিয়েছে যে সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় রকেট ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে। যদি কোনো গোষ্ঠী সিরিয়ার বিরুদ্ধে হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তা মোকাবিলার জন্যই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তবে ইউরোপ ও লেবাননের কিছু কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, এই মোতায়েন ভবিষ্যতে সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

Syria deploys thousands of troops to border with Lebanon, officials say |  The Times of Israel