০২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লোভের বিশ্বাসঘাতকতায় ধ্বংস গুপ্তচর নেটওয়ার্ক, মৃত্যুর ছায়া নিয়ে বিদায় নিল সিআইএর কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক

আমেরিকার গোয়েন্দা ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকদের একজন অ্যালড্রিচ অ্যামস আর নেই। প্রায় এক দশক ধরে ধরা না পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে কাজ করে অসংখ্য গোপন তথ্য ফাঁস করা এই সাবেক কর্মকর্তা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। বয়স হয়েছিল চুরাশি বছর। দুই হাজার চব্বিশ সালের পর থেকে তিনি আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

শীর্ষ পদে উঠে ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতা

সিআইএর ভেতরে সতেরো বছর ধরে ধাপে ধাপে উঠে একসময় সোভিয়েত বিষয়ক পাল্টা গোয়েন্দা শাখার প্রধান হন তিনি। এই দায়িত্বে থেকে তিনি এমন সব গোপন নথির নাগাল পান, যেখানে সোভিয়েত সরকারের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা গুপ্তচরদের পরিচয় সংরক্ষিত ছিল। শীতল যুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই নেটওয়ার্ক ছিল ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

টাকার মোহে ইতিহাস বদলের সিদ্ধান্ত

মদ্যপান, আত্মঅহংকার আর সীমাহীন লোভ তাকে ঠেলে দেয় ভয়ংকর সিদ্ধান্তের দিকে। উনিশশো পঁচাশি সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটনে সোভিয়েত দূতাবাসে নিজ হাতে একটি খাম পৌঁছে দেন তিনি। সেখানে নিজের নাম ও পদ উল্লেখ করে গোপন তথ্যের বিনিময়ে বিপুল অর্থ দাবি করা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্বাসঘাতকতার অধ্যায়।

এক ঝটকায় সব বিক্রি করে দেওয়া

নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সবকিছু একসঙ্গে তুলে দেওয়ার। শত শত নথি নিয়ে ভারী ব্রিফকেস হাতে সদর দপ্তর থেকে বেরিয়ে সোভিয়েত যোগাযোগকারীর কাছে পৌঁছে দেন তিনি। পরে জেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ওই দিন তিনি কেবল তথ্য নয়, নিজেকেও তুলে দিয়েছিলেন।

গুপ্তচরদের মৃত্যুদণ্ড, নেটওয়ার্ক ধ্বংস

এই বিশ্বাসঘাতকতার ফল ভয়াবহ। সোভিয়েত ও পূর্ব ইউরোপীয় অন্তত দশজন গুপ্তচর গ্রেপ্তার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়েন। কয়েকজন কারাবন্দি হন, কেউ কেউ পালিয়ে বাঁচলেও যুক্তরাষ্ট্রের পুরো গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে। মস্কোকে ঘিরে যে রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য আসত, তা এক নিমেষে বন্ধ হয়ে যায়।

সন্দেহ উঠেও থেমে যায় তদন্ত

গুপ্তচররা একে একে নিখোঁজ হতে থাকলেও সিআইএর ভেতরে তদন্ত ছিল ঢিলেঢালা। ইতালিতে পোস্টিংয়ের সময় প্রকাশ্যে মাতাল হয়ে পড়া, অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়া সবকিছুই চোখে পড়েছিল। তবু দীর্ঘ সময় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশেষে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এফবিআইয়ের চাপে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

গ্রেপ্তার, দণ্ড আর অনুশোচনা

উনিশশো চুরানব্বই সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি আমেরিকার গোয়েন্দা কার্যক্রমকে ভণ্ডামি বলে আখ্যা দেন। তবু শেষ জীবনে স্বীকার করেন, যাদের তিনি বিক্রি করেছিলেন, তাদের পরিণতি তার নিজের জীবনকেও মৃত্যুর মতো করে তুলেছিল।

 

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লোভের বিশ্বাসঘাতকতায় ধ্বংস গুপ্তচর নেটওয়ার্ক, মৃত্যুর ছায়া নিয়ে বিদায় নিল সিআইএর কুখ্যাত বিশ্বাসঘাতক

০২:০৩:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আমেরিকার গোয়েন্দা ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকদের একজন অ্যালড্রিচ অ্যামস আর নেই। প্রায় এক দশক ধরে ধরা না পড়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের হয়ে কাজ করে অসংখ্য গোপন তথ্য ফাঁস করা এই সাবেক কর্মকর্তা কারাগারে মৃত্যুবরণ করেছেন। বয়স হয়েছিল চুরাশি বছর। দুই হাজার চব্বিশ সালের পর থেকে তিনি আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারা কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে।

শীর্ষ পদে উঠে ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতা

সিআইএর ভেতরে সতেরো বছর ধরে ধাপে ধাপে উঠে একসময় সোভিয়েত বিষয়ক পাল্টা গোয়েন্দা শাখার প্রধান হন তিনি। এই দায়িত্বে থেকে তিনি এমন সব গোপন নথির নাগাল পান, যেখানে সোভিয়েত সরকারের ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করা গুপ্তচরদের পরিচয় সংরক্ষিত ছিল। শীতল যুদ্ধের উত্তাল সময়ে এই নেটওয়ার্ক ছিল ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় শক্তি।

টাকার মোহে ইতিহাস বদলের সিদ্ধান্ত

মদ্যপান, আত্মঅহংকার আর সীমাহীন লোভ তাকে ঠেলে দেয় ভয়ংকর সিদ্ধান্তের দিকে। উনিশশো পঁচাশি সালের এপ্রিলে ওয়াশিংটনে সোভিয়েত দূতাবাসে নিজ হাতে একটি খাম পৌঁছে দেন তিনি। সেখানে নিজের নাম ও পদ উল্লেখ করে গোপন তথ্যের বিনিময়ে বিপুল অর্থ দাবি করা হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় বিশ্বাসঘাতকতার অধ্যায়।

এক ঝটকায় সব বিক্রি করে দেওয়া

নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন সবকিছু একসঙ্গে তুলে দেওয়ার। শত শত নথি নিয়ে ভারী ব্রিফকেস হাতে সদর দপ্তর থেকে বেরিয়ে সোভিয়েত যোগাযোগকারীর কাছে পৌঁছে দেন তিনি। পরে জেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ওই দিন তিনি কেবল তথ্য নয়, নিজেকেও তুলে দিয়েছিলেন।

গুপ্তচরদের মৃত্যুদণ্ড, নেটওয়ার্ক ধ্বংস

এই বিশ্বাসঘাতকতার ফল ভয়াবহ। সোভিয়েত ও পূর্ব ইউরোপীয় অন্তত দশজন গুপ্তচর গ্রেপ্তার হয়ে মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়েন। কয়েকজন কারাবন্দি হন, কেউ কেউ পালিয়ে বাঁচলেও যুক্তরাষ্ট্রের পুরো গুপ্তচর নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ে। মস্কোকে ঘিরে যে রাজনৈতিক ও সামরিক তথ্য আসত, তা এক নিমেষে বন্ধ হয়ে যায়।

সন্দেহ উঠেও থেমে যায় তদন্ত

গুপ্তচররা একে একে নিখোঁজ হতে থাকলেও সিআইএর ভেতরে তদন্ত ছিল ঢিলেঢালা। ইতালিতে পোস্টিংয়ের সময় প্রকাশ্যে মাতাল হয়ে পড়া, অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক হওয়া সবকিছুই চোখে পড়েছিল। তবু দীর্ঘ সময় কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অবশেষে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এফবিআইয়ের চাপে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়।

গ্রেপ্তার, দণ্ড আর অনুশোচনা

উনিশশো চুরানব্বই সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি আমেরিকার গোয়েন্দা কার্যক্রমকে ভণ্ডামি বলে আখ্যা দেন। তবু শেষ জীবনে স্বীকার করেন, যাদের তিনি বিক্রি করেছিলেন, তাদের পরিণতি তার নিজের জীবনকেও মৃত্যুর মতো করে তুলেছিল।