০৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

লোহিত সাগরে হুমকিতে উত্তেজনা, সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা পাকিস্তানের

লোহিত সাগরে সৌদি আরবগামী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইয়েমেনের হুথিদের নতুন হুমকাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যে যুক্ত জাহাজকে লক্ষ্য করে যে কোনো ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক আইন এবং সমুদ্রপথে চলাচলের প্রতিষ্ঠিত নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে পাকিস্তান সতর্ক করেছে, তাদের পতাকাবাহী জাহাজ বা সামুদ্রিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হুথিদের হুমকিতে নতুন উদ্বেগ

ইরান-সমর্থিত হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। এতে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান বলেছে, বৈধ বাণিজ্যে অংশ নেওয়া জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার যেকোনো চেষ্টা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশের পতাকাবাহী জাহাজ বা সামুদ্রিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইসলামাবাদের রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের আলোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সৌদি আরবকে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা উদ্বেগজনক। দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সমৃদ্ধির প্রতি নিজেদের অবিচল সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Houthis threaten to attack shipping tankers if they use Saudi Arabian ports  on Red Sea | Houthis | The Guardian

কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান

ইসলামাবাদ বলেছে, উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে সব পক্ষের উচিত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধের সমাধান খোঁজা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের সংকীর্ণ জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুট ব্যবহার করেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। সাম্প্রতিক হুমকির পর কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বিকল্প পথে চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জ্বালানি পরিবহন, বাণিজ্য ব্যয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে।

লোহিত সাগরে হুথিদের হুমকাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

লোহিত সাগরে হুমকিতে উত্তেজনা, সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা পাকিস্তানের

০৭:০৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

লোহিত সাগরে সৌদি আরবগামী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইয়েমেনের হুথিদের নতুন হুমকাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ বলেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্যে যুক্ত জাহাজকে লক্ষ্য করে যে কোনো ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক আইন এবং সমুদ্রপথে চলাচলের প্রতিষ্ঠিত নীতির পরিপন্থী। একই সঙ্গে পাকিস্তান সতর্ক করেছে, তাদের পতাকাবাহী জাহাজ বা সামুদ্রিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

হুথিদের হুমকিতে নতুন উদ্বেগ

ইরান-সমর্থিত হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয়। এতে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোর নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন এবং বিশ্ব বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিচালিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।

পাকিস্তান বলেছে, বৈধ বাণিজ্যে অংশ নেওয়া জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার যেকোনো চেষ্টা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে দুর্বল করবে, সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের স্বাভাবিক প্রবাহকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে।

পাকিস্তানের কঠোর অবস্থান

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দেশের পতাকাবাহী জাহাজ বা সামুদ্রিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ইসলামাবাদের রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের আলোকে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতেও তারা প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

একই সঙ্গে পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সৌদি আরবকে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা উদ্বেগজনক। দেশটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সমৃদ্ধির প্রতি নিজেদের অবিচল সমর্থনের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

Houthis threaten to attack shipping tankers if they use Saudi Arabian ports  on Red Sea | Houthis | The Guardian

কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান

ইসলামাবাদ বলেছে, উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে সব পক্ষের উচিত সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধের সমাধান খোঁজা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের সংকীর্ণ জলপথ দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুট ব্যবহার করেই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। সাম্প্রতিক হুমকির পর কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ বিকল্প পথে চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে জ্বালানি পরিবহন, বাণিজ্য ব্যয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়তে পারে।

লোহিত সাগরে হুথিদের হুমকাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্য নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।