০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে?

আমেরিকার রাজনীতিতে নারীর অগ্রযাত্রা নিয়ে বহু বছর ধরে আশাবাদের গল্প বলা হয়েছে। সংসদ, গভর্নর পদ, মন্ত্রিসভা—প্রতিটি স্তরে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, প্রতিনিধিত্বের এই বিস্তার ধীরে ধীরে ক্ষমতার কাঠামোকেও বদলে দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা অন্য এক অস্বস্তিকর সত্য সামনে আনছে: নারীরা রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারছেন, কিন্তু ক্ষমতার বৈধতা এখনও পুরুষালি মানদণ্ডেই নির্ধারিত হচ্ছে।

এই প্রবণতা কেবল ডানপন্থী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমেরিকার বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন এক ধারণা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে যে “আসল” নেতৃত্ব মানেই কঠোর, আক্রমণাত্মক, আধিপত্যশীল এবং প্রকাশ্যে আত্মপ্রদর্শনকারী পুরুষসুলভ আচরণ। ফলে নারীরা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়ছেন না; নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রেও তাঁদের জন্য মানদণ্ড হয়ে উঠছে আরও জটিল ও অসম।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রশাসনের নানা ব্যর্থতা বা বিতর্কের মধ্যে পুরুষ কর্মকর্তারাও সমালোচিত হয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতার বলি হিসেবে নারীদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো বিশেষভাবে চোখে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একাধিক নারী প্রশাসনিক চাপ বা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে সরে গেছেন, আর তাঁদের জায়গায় এসেছে পুরুষ নেতৃত্ব। এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়: ভুল করার অধিকার সবার সমান নয়।

তবে সমস্যাটি শুধু পদ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও গভীরে রয়েছে নারীত্বকে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এক রাজনৈতিক ভাষা। আজকের রাজনৈতিক বিতর্কে কারও অবস্থানকে খাটো করতে চাইলে তাকে “নারীসুলভ”, “নরম”, “অতিরিক্ত সংবেদনশীল” বা “পুরুষোচিত নয়” বলে আক্রমণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ নারীর প্রতি অবজ্ঞা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরুষকেও অপমান করতে নারীসত্তার সঙ্গে তুলনা করাই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মানসিকতা ডানপন্থীদের একচেটিয়া সম্পদ নয়। বিস্ময়করভাবে, কিছু উদারপন্থী ও প্রগতিশীল মহলেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতি নাকি অতিরিক্ত “নারীকেন্দ্রিক” হয়ে গেছে। দলকে আরও শক্তিশালী করতে হলে নাকি “কঠিন”, “রুক্ষ” এবং “প্রভাবশালী” পুরুষ নেতৃত্বের দিকে ফিরে যেতে হবে। এই যুক্তির মধ্যে একটি বিপজ্জনক অনুমান লুকিয়ে আছে—যেন নারীদের মূল্যবোধ, ভাষা বা রাজনৈতিক উদ্বেগ নির্বাচনে জেতার পথে বাধা।

বাস্তবে ভোটারদের আচরণ এত সরল নয়। নৈতিকতা, ব্যক্তিগত আচরণ বা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কেবল নারীদের উদ্বেগ নয়; এগুলো বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন। কিন্তু যখন কোনো পুরুষ রাজনীতিককে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন তাঁর সমর্থকেরা প্রায়ই সমালোচনাকে “অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা” বা “নারীসুলভ রাজনীতি” বলে উড়িয়ে দিতে চান। একই ধরনের অভিযোগ যদি কোনো নারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে উঠত, তাহলে কি তাঁকে একই রকম উদারতা দেখানো হতো?

এই প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত না। আধুনিক রাজনীতিতে নারী নেতাদের বিচার করার মানদণ্ড এখনও অনেক বেশি কঠোর। তাঁদের পোশাক, কণ্ঠস্বর, মুখভঙ্গি, পারিবারিক জীবন, এমনকি ছবিতে দাঁড়ানোর ভঙ্গিও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে পুরুষ নেতারা অনেক বড় বিতর্কের মধ্যেও “যোগ্য”, “শক্তিশালী” বা “লড়াকু” হিসেবে নিজেদের পুনর্গঠন করার সুযোগ পান।

ফলাফল হলো, সফল হতে চাইলে অনেক নারী রাজনীতিককে এমন পেশাগত বা ব্যক্তিগত পরিচয় তুলে ধরতে হয় যা প্রচলিত পুরুষালি শক্তির ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা বা নিরাপত্তা খাতের অভিজ্ঞতা তাই তাঁদের জন্য বিশেষ রাজনৈতিক সম্পদ হয়ে ওঠে। যেন নেতৃত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আগে তাঁদের প্রমাণ করতে হয় যে তাঁরা যথেষ্ট “কঠোর”।

এখানেই মূল সংকট। সমস্যাটি নারীদের সক্ষমতা বা জনপ্রিয়তার নয়; সমস্যাটি ক্ষমতার সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা নিয়ে। যদি রাজনৈতিক সমাজ এই ধারণা গ্রহণ করে যে শক্তি, সত্যতা এবং নেতৃত্বের একমাত্র গ্রহণযোগ্য রূপ পুরুষালি আচরণ, তাহলে নারী প্রার্থীরা সবসময়ই এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তাঁদের হয় সেই পুরুষালি ছাঁচে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে, নয়তো “অযোগ্য” বা “অপ্রামাণিক” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।

গণতন্ত্রের জন্য এটি সুস্থ লক্ষণ নয়। কারণ প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন কেবল কতজন নারী নির্বাচিত হলেন, তা দিয়ে শেষ হয় না। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নেতৃত্বের ধারণাটিই কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক। যদি রাজনৈতিক ক্ষমতার ভাষা এমনভাবে নির্মিত হয় যে নারীরা সেখানে চিরকাল ব্যতিক্রম হয়ে থাকেন, তবে প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত কাগুজে সাফল্যে পরিণত হবে।

আগামী কয়েক বছরের আমেরিকান রাজনীতি হয়তো এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে। সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকাগুলো দেখলে সেখানে পুরুষদের আধিপত্যই চোখে পড়ে। এটি কেবল কাকতালীয় নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির যৌক্তিক পরিণতি, যেখানে “আসল ক্ষমতা”কে পুরুষের সঙ্গে একাত্ম করে দেখা হয়েছে।

যতদিন পর্যন্ত সেই সংজ্ঞা বদলানো না যায়, ততদিন নারীদের সামনে থাকা বাধা কেবল নির্বাচনী নয়, সাংস্কৃতিকও। আর যে সমাজে ক্ষমতার বৈধতাই লিঙ্গভিত্তিক হয়ে ওঠে, সেখানে সমান সুযোগের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত অসমতার নতুন ভাষা ছাড়া আর কিছু নয়।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শক্তির সংজ্ঞা যদি পুরুষতন্ত্র লিখে দেয়, তবে নারীরা জিতবে কীভাবে?

০৯:০৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আমেরিকার রাজনীতিতে নারীর অগ্রযাত্রা নিয়ে বহু বছর ধরে আশাবাদের গল্প বলা হয়েছে। সংসদ, গভর্নর পদ, মন্ত্রিসভা—প্রতিটি স্তরে নারীর উপস্থিতি বেড়েছে। অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, প্রতিনিধিত্বের এই বিস্তার ধীরে ধীরে ক্ষমতার কাঠামোকেও বদলে দেবে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা অন্য এক অস্বস্তিকর সত্য সামনে আনছে: নারীরা রাজনীতিতে প্রবেশ করতে পারছেন, কিন্তু ক্ষমতার বৈধতা এখনও পুরুষালি মানদণ্ডেই নির্ধারিত হচ্ছে।

এই প্রবণতা কেবল ডানপন্থী রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং আমেরিকার বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এমন এক ধারণা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে যে “আসল” নেতৃত্ব মানেই কঠোর, আক্রমণাত্মক, আধিপত্যশীল এবং প্রকাশ্যে আত্মপ্রদর্শনকারী পুরুষসুলভ আচরণ। ফলে নারীরা শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পিছিয়ে পড়ছেন না; নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রেও তাঁদের জন্য মানদণ্ড হয়ে উঠছে আরও জটিল ও অসম।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রশাসনের নানা ব্যর্থতা বা বিতর্কের মধ্যে পুরুষ কর্মকর্তারাও সমালোচিত হয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতার বলি হিসেবে নারীদের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাগুলো বিশেষভাবে চোখে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা একাধিক নারী প্রশাসনিক চাপ বা রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের কারণে সরে গেছেন, আর তাঁদের জায়গায় এসেছে পুরুষ নেতৃত্ব। এর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়: ভুল করার অধিকার সবার সমান নয়।

তবে সমস্যাটি শুধু পদ হারানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আরও গভীরে রয়েছে নারীত্বকে দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার এক রাজনৈতিক ভাষা। আজকের রাজনৈতিক বিতর্কে কারও অবস্থানকে খাটো করতে চাইলে তাকে “নারীসুলভ”, “নরম”, “অতিরিক্ত সংবেদনশীল” বা “পুরুষোচিত নয়” বলে আক্রমণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ নারীর প্রতি অবজ্ঞা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পুরুষকেও অপমান করতে নারীসত্তার সঙ্গে তুলনা করাই যথেষ্ট বলে বিবেচিত হচ্ছে।

এই মানসিকতা ডানপন্থীদের একচেটিয়া সম্পদ নয়। বিস্ময়করভাবে, কিছু উদারপন্থী ও প্রগতিশীল মহলেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেখানে যুক্তি দাঁড় করানো হচ্ছে যে ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতি নাকি অতিরিক্ত “নারীকেন্দ্রিক” হয়ে গেছে। দলকে আরও শক্তিশালী করতে হলে নাকি “কঠিন”, “রুক্ষ” এবং “প্রভাবশালী” পুরুষ নেতৃত্বের দিকে ফিরে যেতে হবে। এই যুক্তির মধ্যে একটি বিপজ্জনক অনুমান লুকিয়ে আছে—যেন নারীদের মূল্যবোধ, ভাষা বা রাজনৈতিক উদ্বেগ নির্বাচনে জেতার পথে বাধা।

বাস্তবে ভোটারদের আচরণ এত সরল নয়। নৈতিকতা, ব্যক্তিগত আচরণ বা চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা কেবল নারীদের উদ্বেগ নয়; এগুলো বৃহত্তর সামাজিক প্রশ্ন। কিন্তু যখন কোনো পুরুষ রাজনীতিককে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন তাঁর সমর্থকেরা প্রায়ই সমালোচনাকে “অতিরিক্ত সংবেদনশীলতা” বা “নারীসুলভ রাজনীতি” বলে উড়িয়ে দিতে চান। একই ধরনের অভিযোগ যদি কোনো নারী প্রার্থীর বিরুদ্ধে উঠত, তাহলে কি তাঁকে একই রকম উদারতা দেখানো হতো?

এই প্রশ্নের উত্তর সম্ভবত না। আধুনিক রাজনীতিতে নারী নেতাদের বিচার করার মানদণ্ড এখনও অনেক বেশি কঠোর। তাঁদের পোশাক, কণ্ঠস্বর, মুখভঙ্গি, পারিবারিক জীবন, এমনকি ছবিতে দাঁড়ানোর ভঙ্গিও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে ওঠে। অন্যদিকে পুরুষ নেতারা অনেক বড় বিতর্কের মধ্যেও “যোগ্য”, “শক্তিশালী” বা “লড়াকু” হিসেবে নিজেদের পুনর্গঠন করার সুযোগ পান।

ফলাফল হলো, সফল হতে চাইলে অনেক নারী রাজনীতিককে এমন পেশাগত বা ব্যক্তিগত পরিচয় তুলে ধরতে হয় যা প্রচলিত পুরুষালি শক্তির ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা বা নিরাপত্তা খাতের অভিজ্ঞতা তাই তাঁদের জন্য বিশেষ রাজনৈতিক সম্পদ হয়ে ওঠে। যেন নেতৃত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আগে তাঁদের প্রমাণ করতে হয় যে তাঁরা যথেষ্ট “কঠোর”।

এখানেই মূল সংকট। সমস্যাটি নারীদের সক্ষমতা বা জনপ্রিয়তার নয়; সমস্যাটি ক্ষমতার সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা নিয়ে। যদি রাজনৈতিক সমাজ এই ধারণা গ্রহণ করে যে শক্তি, সত্যতা এবং নেতৃত্বের একমাত্র গ্রহণযোগ্য রূপ পুরুষালি আচরণ, তাহলে নারী প্রার্থীরা সবসময়ই এক ধরনের অসম প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন। তাঁদের হয় সেই পুরুষালি ছাঁচে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে, নয়তো “অযোগ্য” বা “অপ্রামাণিক” হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।

গণতন্ত্রের জন্য এটি সুস্থ লক্ষণ নয়। কারণ প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন কেবল কতজন নারী নির্বাচিত হলেন, তা দিয়ে শেষ হয় না। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, নেতৃত্বের ধারণাটিই কতটা অন্তর্ভুক্তিমূলক। যদি রাজনৈতিক ক্ষমতার ভাষা এমনভাবে নির্মিত হয় যে নারীরা সেখানে চিরকাল ব্যতিক্রম হয়ে থাকেন, তবে প্রতিনিধিত্বের অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত কাগুজে সাফল্যে পরিণত হবে।

আগামী কয়েক বছরের আমেরিকান রাজনীতি হয়তো এই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে। সম্ভাব্য শীর্ষ নেতৃত্বের তালিকাগুলো দেখলে সেখানে পুরুষদের আধিপত্যই চোখে পড়ে। এটি কেবল কাকতালীয় নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির যৌক্তিক পরিণতি, যেখানে “আসল ক্ষমতা”কে পুরুষের সঙ্গে একাত্ম করে দেখা হয়েছে।

যতদিন পর্যন্ত সেই সংজ্ঞা বদলানো না যায়, ততদিন নারীদের সামনে থাকা বাধা কেবল নির্বাচনী নয়, সাংস্কৃতিকও। আর যে সমাজে ক্ষমতার বৈধতাই লিঙ্গভিত্তিক হয়ে ওঠে, সেখানে সমান সুযোগের প্রতিশ্রুতি শেষ পর্যন্ত অসমতার নতুন ভাষা ছাড়া আর কিছু নয়।