১১:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গ, ছয় বাংলাদেশি পেলেন মরণোত্তর দাগ হামারশোল্ড পদক

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হামারশোল্ড পদকে সম্মানিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করা হয়।

নিউইয়র্কে সম্মাননা প্রদান

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে পদকগুলো হস্তান্তর করেন।

যেসব বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন করপোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সৈনিক মো. সবুজ মিয়া, সৈনিক মো. মোমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা এবং সৈনিক সান্তো মণ্ডল।

৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটানায়, সুদানকে সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

ড্রোন হামলায় নিহত হন ছয়জন

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে দায়িত্ব পালনকালে একটি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। তখন তারা জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত ছিলেন। তাদের মৃত্যু আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।

শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা

অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।

এ সময় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।

৩৩ দেশের ৬৮ জনকে পদক

চলতি বছরে মোট ৩৩টি সদস্য দেশের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হামারশোল্ড পদক দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের স্মরণে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান

দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং মানবিক ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শান্তিরক্ষায় জীবন উৎসর্গ, ছয় বাংলাদেশি পেলেন মরণোত্তর দাগ হামারশোল্ড পদক

১১:১৩:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হামারশোল্ড পদকে সম্মানিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই মর্যাদাপূর্ণ পদক প্রদান করা হয়।

নিউইয়র্কে সম্মাননা প্রদান

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কাছে পদকগুলো হস্তান্তর করেন।

যেসব বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তারা হলেন করপোরাল মো. মাসুদ রানা, সৈনিক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সৈনিক মো. সবুজ মিয়া, সৈনিক মো. মোমিনুল ইসলাম, সৈনিক শামীম রেজা এবং সৈনিক সান্তো মণ্ডল।

৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার ঘটানায়, সুদানকে সতর্কবার্তা জাতিসংঘের

ড্রোন হামলায় নিহত হন ছয়জন

২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর সুদানের কাদুগলিতে দায়িত্ব পালনকালে একটি ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। তখন তারা জাতিসংঘের পতাকাতলে শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত ছিলেন। তাদের মৃত্যু আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের এক বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে।

শান্তিরক্ষীদের প্রতি শ্রদ্ধা

অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। তাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতাও পালন করা হয়।

এ সময় বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত ৫০ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়।

৩৩ দেশের ৬৮ জনকে পদক

চলতি বছরে মোট ৩৩টি সদস্য দেশের ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর দাগ হামারশোল্ড পদক দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি নিহত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের স্মরণে শোক বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

বাংলাদেশের গৌরবময় অবদান

দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা এবং মানবিক ভূমিকা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করেছে।