০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর ‘অসুস্থতার’ দাবি

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি অসুস্থতার দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছেন, যা নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন জিসান। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থায় কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। তবু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন, ফলে এখনো তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন

জিসানের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। সোমবার সকাল ১১টায় বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে মতামত দেবে।

বোর্ডে মেডিসিন বিভাগের প্রধানকে প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া অ্যানেসথেসিয়া, নিউরোমেডিসিন ও মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসকেরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, যদি পরীক্ষায় দেখা যায় তিনি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার ভান করছেন, তাহলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর প্রকৃত অসুস্থতা ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

গ্রেপ্তারের খবরের পর আচরণে পরিবর্তন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে আনার পর প্রথমদিকে জিসান স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ তথ্য জানার পর থেকেই তিনি অসুস্থতার আচরণ শুরু করেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে তিনি চোখ পর্যন্ত খুলতে চাইছেন না। এই আচরণকে ঘিরে তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়েছে।

অপহরণের নাটকের অভিযোগ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৪৫০ জন গ্রেপ্তার

জিসানের পরিবার দাবি করেছিল, তিনি নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, জিসান অপহৃত হননি। বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্তে পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে যে, বিয়ে এড়াতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হলে তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেওয়া হয় এবং পরে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডানকুনি (MTP) এ অস্ত্রোপচার গর্ভপাত | 100% গোপনীয়

পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে একাধিকবার ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

অন্য তিন আসামি কারাগারে

মামলার অপর তিন আসামি সেকান্দার আলী, গোলাম রব্বি ও সাজিব হাসানকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই দাউদকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং জিসানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে জিসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অসুস্থতার দাবির কারণে এখনো আদালতে তোলা হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের পর তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মামলাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শিবির নেতা জিসানকে ঘিরে নতুন বিতর্ক, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর ‘অসুস্থতার’ দাবি

১০:৫৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের পর থেকেই তিনি অসুস্থতার দাবি করে হাসপাতালে অবস্থান করছেন, যা নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে পুলিশি পাহারায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন জিসান। হাসপাতাল ও পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তার শারীরিক অবস্থায় কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। তবু অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি হাসপাতালে রয়েছেন, ফলে এখনো তাকে আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি।

চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন

জিসানের শারীরিক অবস্থা মূল্যায়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছে। সোমবার সকাল ১১টায় বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে মতামত দেবে।

বোর্ডে মেডিসিন বিভাগের প্রধানকে প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া অ্যানেসথেসিয়া, নিউরোমেডিসিন ও মনোরোগ বিভাগের চিকিৎসকেরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, যদি পরীক্ষায় দেখা যায় তিনি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও অসুস্থতার ভান করছেন, তাহলে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। আর প্রকৃত অসুস্থতা ধরা পড়লে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

গ্রেপ্তারের খবরের পর আচরণে পরিবর্তন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে আনার পর প্রথমদিকে জিসান স্বাভাবিকভাবে কথা বলছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে—এ তথ্য জানার পর থেকেই তিনি অসুস্থতার আচরণ শুরু করেন।

তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, বর্তমানে তিনি চোখ পর্যন্ত খুলতে চাইছেন না। এই আচরণকে ঘিরে তদন্তকারীদের মধ্যে সন্দেহ আরও বেড়েছে।

অপহরণের নাটকের অভিযোগ

সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ৪৫০ জন গ্রেপ্তার

জিসানের পরিবার দাবি করেছিল, তিনি নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে পুলিশ এই দাবি নাকচ করে জানিয়েছে, জিসান অপহৃত হননি। বরং তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। তদন্তে পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে যে, বিয়ে এড়াতেই তিনি নিখোঁজ হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে এক ২৫ বছর বয়সী বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই নারী গর্ভবতী হলে তাকে গর্ভপাত করাতে চাপ দেওয়া হয় এবং পরে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাত ঘটানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডানকুনি (MTP) এ অস্ত্রোপচার গর্ভপাত | 100% গোপনীয়

পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে জিসান সম্মতি দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় জিসানসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে একাধিকবার ধর্ষণ এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলা হয়েছে।

অন্য তিন আসামি কারাগারে

মামলার অপর তিন আসামি সেকান্দার আলী, গোলাম রব্বি ও সাজিব হাসানকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা সবাই দাউদকান্দি এলাকার বাসিন্দা এবং জিসানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

অন্যদিকে জিসানকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অসুস্থতার দাবির কারণে এখনো আদালতে তোলা হয়নি। মেডিকেল বোর্ডের প্রতিবেদনের পর তার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মামলাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযোগের সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।