০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শিল্পীর চোখে বাস্তবের ফ্রেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সন্দেহে ছবির ভবিষ্যৎ

ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া বাস্তব শুধু দৃশ্য নয়, সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক অনুভূতির ভাষা। সমসাময়িক ভারতীয় শিল্পচর্চায় এই ভাবনারই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন আলোকচিত্রশিল্পী সোহরাব হুরা। কলকাতায় চলমান তাঁর প্রদর্শনীতে ব্যক্তিগত স্মৃতি, সামাজিক বাস্তবতা ও রাজনীতির ইঙ্গিত একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর কাজ নিয়ে সাম্প্রতিক কথোপকথনে উঠে এসেছে মাধ্যমের সীমা ভাঙা, চরম প্রকৃতির অভিজ্ঞতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ছবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

ফ্রেমে দেখা ও গল্প বলার অভ্যাস
শুরু থেকেই আলোকচিত্রকে তিনি দেখেছেন বহু দিকের এক ভাষা হিসেবে। নির্দিষ্ট কোনো শৈলীর চেয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল গল্প বলায়। সে কারণেই ছবি, আঁকা, চলমান দৃশ্য কিংবা শব্দ—সবকিছুকেই তিনি একই ধারার অংশ মনে করেন। আঁকায় হাত দেওয়ার পর দূরত্ব থেকে আলোকচিত্রকে নতুন করে বুঝতে পেরেছেন তিনি। তাঁর মতে, ছবি তোলা কঠিন এক ধৈর্যের কাজ। অসংখ্য দৃশ্য ধারণ করে শেষ পর্যন্ত অল্প কটি ফ্রেমে পৌঁছাতে হয়। নথিভিত্তিক আলোকচিত্র তাঁর কাছে পৃথিবী দেখার এক বিশেষ পদ্ধতি।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে রূপকের পথে
শুরুর দিকে তিনি বাস্তবকে দেখতেন নিরপেক্ষ চোখে, যা শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করত। সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝেছেন, কাজে সন্দেহ আর ফাঁক রাখাই দর্শককে কাছে আনে। তাই তাঁর কাজ হয়ে উঠেছে আরও রূপকধর্মী, কখনো নিজেই গল্পের চরিত্র। সহিংসতা ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে বাদ দিলে তা ভণ্ডামি হতো বলেই তিনি মনে করেন। শহরের বন, হাসপাতালের দৃশ্য কিংবা দৈনন্দিন পরিবেশ তাঁর কাজে আর শুধু স্থান নয়, বরং বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত এক প্রবাহমান অবস্থা।

চরম ঋতুর ভেতর দিয়ে মানুষের গল্প
গ্রীষ্মের তীব্র তাপ আর কাশ্মীরের শীত—দুই বিপরীত অভিজ্ঞতাকে একত্র করেছেন তিনি দীর্ঘ সময় ধরে। এক সময় কাজের মূল বিষয় ছিল কর্মসংস্থান, অর্থনীতি পড়ার প্রভাব তখন স্পষ্ট। পরে তিনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অদৃশ্য অনুভূতি ধরতে চেয়েছেন, যেমন তাপের অভিজ্ঞতা। কাশ্মীরে বারবার ফেরা তাঁর কাছে কোনো প্রকল্পের অংশ নয়, বরং অনুভবের খোঁজ। সময়ের সঙ্গে ছবি নিজেই রূপ নেয়, মিলিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে—এই অপেক্ষার মধ্যেই কাজের নোঙর খুঁজে পান তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ছবির বিশ্বাস
আজ যখন প্রায় সবাই ছবি তোলে, তখন তিনি বেশি চিন্তিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ছবির ওপর আস্থার সংকট নিয়ে। যোগাযোগের প্রয়োজনের বাইরে শিল্প মানুষের অস্তিত্বগত তাড়না থেকে জন্ম নেয় বলেই তাঁর বিশ্বাস। তাঁর কাছে আলোকচিত্র কোনো চূড়ান্ত বস্তু নয়, বরং মানুষের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট চিহ্ন। ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো এই সত্য আরও স্পষ্টভাবে বুঝবে, কিন্তু আপাতত সন্দেহ আর বিভ্রান্তির যে ঝড় উঠেছে, তার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শিল্পীর চোখে বাস্তবের ফ্রেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সন্দেহে ছবির ভবিষ্যৎ

০৫:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া বাস্তব শুধু দৃশ্য নয়, সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া এক অনুভূতির ভাষা। সমসাময়িক ভারতীয় শিল্পচর্চায় এই ভাবনারই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন আলোকচিত্রশিল্পী সোহরাব হুরা। কলকাতায় চলমান তাঁর প্রদর্শনীতে ব্যক্তিগত স্মৃতি, সামাজিক বাস্তবতা ও রাজনীতির ইঙ্গিত একে অন্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তাঁর কাজ নিয়ে সাম্প্রতিক কথোপকথনে উঠে এসেছে মাধ্যমের সীমা ভাঙা, চরম প্রকৃতির অভিজ্ঞতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ছবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ।

ফ্রেমে দেখা ও গল্প বলার অভ্যাস
শুরু থেকেই আলোকচিত্রকে তিনি দেখেছেন বহু দিকের এক ভাষা হিসেবে। নির্দিষ্ট কোনো শৈলীর চেয়ে তাঁর আগ্রহ ছিল গল্প বলায়। সে কারণেই ছবি, আঁকা, চলমান দৃশ্য কিংবা শব্দ—সবকিছুকেই তিনি একই ধারার অংশ মনে করেন। আঁকায় হাত দেওয়ার পর দূরত্ব থেকে আলোকচিত্রকে নতুন করে বুঝতে পেরেছেন তিনি। তাঁর মতে, ছবি তোলা কঠিন এক ধৈর্যের কাজ। অসংখ্য দৃশ্য ধারণ করে শেষ পর্যন্ত অল্প কটি ফ্রেমে পৌঁছাতে হয়। নথিভিত্তিক আলোকচিত্র তাঁর কাছে পৃথিবী দেখার এক বিশেষ পদ্ধতি।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে রূপকের পথে
শুরুর দিকে তিনি বাস্তবকে দেখতেন নিরপেক্ষ চোখে, যা শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করত। সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝেছেন, কাজে সন্দেহ আর ফাঁক রাখাই দর্শককে কাছে আনে। তাই তাঁর কাজ হয়ে উঠেছে আরও রূপকধর্মী, কখনো নিজেই গল্পের চরিত্র। সহিংসতা ও ক্ষমতার কাঠামো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে নিজেকে বাদ দিলে তা ভণ্ডামি হতো বলেই তিনি মনে করেন। শহরের বন, হাসপাতালের দৃশ্য কিংবা দৈনন্দিন পরিবেশ তাঁর কাজে আর শুধু স্থান নয়, বরং বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত এক প্রবাহমান অবস্থা।

চরম ঋতুর ভেতর দিয়ে মানুষের গল্প
গ্রীষ্মের তীব্র তাপ আর কাশ্মীরের শীত—দুই বিপরীত অভিজ্ঞতাকে একত্র করেছেন তিনি দীর্ঘ সময় ধরে। এক সময় কাজের মূল বিষয় ছিল কর্মসংস্থান, অর্থনীতি পড়ার প্রভাব তখন স্পষ্ট। পরে তিনি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অদৃশ্য অনুভূতি ধরতে চেয়েছেন, যেমন তাপের অভিজ্ঞতা। কাশ্মীরে বারবার ফেরা তাঁর কাছে কোনো প্রকল্পের অংশ নয়, বরং অনুভবের খোঁজ। সময়ের সঙ্গে ছবি নিজেই রূপ নেয়, মিলিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে—এই অপেক্ষার মধ্যেই কাজের নোঙর খুঁজে পান তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ছবির বিশ্বাস
আজ যখন প্রায় সবাই ছবি তোলে, তখন তিনি বেশি চিন্তিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে ছবির ওপর আস্থার সংকট নিয়ে। যোগাযোগের প্রয়োজনের বাইরে শিল্প মানুষের অস্তিত্বগত তাড়না থেকে জন্ম নেয় বলেই তাঁর বিশ্বাস। তাঁর কাছে আলোকচিত্র কোনো চূড়ান্ত বস্তু নয়, বরং মানুষের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অবশিষ্ট চিহ্ন। ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো এই সত্য আরও স্পষ্টভাবে বুঝবে, কিন্তু আপাতত সন্দেহ আর বিভ্রান্তির যে ঝড় উঠেছে, তার মধ্য দিয়েই এগোতে হবে।