১২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা, তিয়েনআনমেন দমনকে প্রকাশ্যে সমর্থন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘অদম্য লড়াকু মানসিকতা’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন তিনি।

সোমবার চীনের সাবেক নেতা চিয়াং জেমিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শি এই বক্তব্য দেন। রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কঠিন সময়েও পিছু হটবে না চীন

প্রায় ৪৫ মিনিটের বক্তব্যে শি বলেন, চীনকে সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি কিংবা ভয়াবহ সংকট—কোনোটিই দেশটির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষার ওপর জোর দেন। দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চীনের দুটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

শির বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝাতে অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির সাত সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। সাবেক দলীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তিয়েনআনমেন দমন নিয়ে বিরল মন্তব্য

চিয়াং জেমিনের রাজনৈতিক উত্থানের শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন আন্দোলনের অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে। ওই বছরের এপ্রিল মাসে সাবেক কমিউনিস্ট নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুর পর গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভ চলার পর ৪ জুন সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। সেনাদের গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিয়েনআনমেন দমন চীনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়গুলোর একটি হয়ে রয়েছে।

শি তাঁর বক্তব্যে ওই সময়ের ঘটনাকে ‘গুরুতর রাজনৈতিক অস্থিরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চিয়াং জেমিন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছিলেন এবং সাংহাইয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন।

চীনের সরকারি প্রচারব্যবস্থায় তিয়েনআনমেন আন্দোলন ও দমন নিয়ে এমন উল্লেখ অত্যন্ত বিরল। দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ওই ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা এখনও ব্যাপকভাবে সীমিত।

Xi says no more 'bullying' China at celebration for centenary of Communist  Party - France 24

চিয়াং জেমিনের যুগে অর্থনৈতিক উত্থান

১৯৯০-এর দশকে চিয়াং জেমিনের নেতৃত্বে চীনের অর্থনীতি দ্রুত প্রসারিত হয় এবং দেশটি বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে থাকে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেয়, যা দেশটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চিয়াংয়ের সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্যিক বিরোধ, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় অনেকটাই অবনতি হয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি

শির বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বৈঠক সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তাইওয়ান ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে।

অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে এলেও শি দেশের অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে এবং চীনা জাতির পুনর্জাগরণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শি জিনপিংয়ের কড়া বার্তা, তিয়েনআনমেন দমনকে প্রকাশ্যে সমর্থন

০৮:২৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দেশকে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘অদম্য লড়াকু মানসিকতা’ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন তিনি।

সোমবার চীনের সাবেক নেতা চিয়াং জেমিনের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে শি এই বক্তব্য দেন। রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাজারো কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কঠিন সময়েও পিছু হটবে না চীন

প্রায় ৪৫ মিনিটের বক্তব্যে শি বলেন, চীনকে সামনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি কিংবা ভয়াবহ সংকট—কোনোটিই দেশটির অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না।

তিনি জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে রক্ষার ওপর জোর দেন। দ্রুত অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক স্থিতিশীলতাকে চীনের দুটি বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

শির বক্তব্যের গুরুত্ব বোঝাতে অনুষ্ঠানে ক্ষমতাসীন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির সাত সদস্যই উপস্থিত ছিলেন। সাবেক দলীয় ও রাষ্ট্রীয় নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

তিয়েনআনমেন দমন নিয়ে বিরল মন্তব্য

চিয়াং জেমিনের রাজনৈতিক উত্থানের শুরু হয়েছিল ১৯৮৯ সালের তিয়েনআনমেন আন্দোলনের অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে। ওই বছরের এপ্রিল মাসে সাবেক কমিউনিস্ট নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুর পর গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়।

কয়েক সপ্তাহ ধরে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বিক্ষোভ চলার পর ৪ জুন সেনাবাহিনী অভিযান চালায়। সেনাদের গুলিতে বহু মানুষ নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই তিয়েনআনমেন দমন চীনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক বিষয়গুলোর একটি হয়ে রয়েছে।

শি তাঁর বক্তব্যে ওই সময়ের ঘটনাকে ‘গুরুতর রাজনৈতিক অস্থিরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, চিয়াং জেমিন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্তকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছিলেন এবং সাংহাইয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন।

চীনের সরকারি প্রচারব্যবস্থায় তিয়েনআনমেন আন্দোলন ও দমন নিয়ে এমন উল্লেখ অত্যন্ত বিরল। দেশটির কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম ও ইন্টারনেটে ওই ঘটনার বিস্তারিত আলোচনা এখনও ব্যাপকভাবে সীমিত।

Xi says no more 'bullying' China at celebration for centenary of Communist  Party - France 24

চিয়াং জেমিনের যুগে অর্থনৈতিক উত্থান

১৯৯০-এর দশকে চিয়াং জেমিনের নেতৃত্বে চীনের অর্থনীতি দ্রুত প্রসারিত হয় এবং দেশটি বিশ্বের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হতে থাকে। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগ দেয়, যা দেশটির বৈশ্বিক অর্থনৈতিক উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

চিয়াংয়ের সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও তুলনামূলকভাবে উষ্ণ ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক বাণিজ্যিক বিরোধ, প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় অনেকটাই অবনতি হয়েছে।

ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি

শির বক্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বৈঠক সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে হওয়ার কথা রয়েছে। সম্ভাব্য আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তাইওয়ান ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারে।

অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে এলেও শি দেশের অগ্রগতির বিষয়ে আশাবাদী বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, মানুষের জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত উন্নত হচ্ছে এবং চীনা জাতির পুনর্জাগরণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে।