১১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

শুল্ক বাড়ায় অভিবাসীদের জন্য ঘরের খাবারের দাম বেড়ে তেতো

অভিবাসীদের দোকানে কেন দাম বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য বিশেষ খাবার বিক্রি করে এমন দোকানগুলোতে হঠাৎ করে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কের কারণে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসেছে।
ফলে এসব দেশের খাবার যাদের দরকার—তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।


বাংলাদেশি এলাকার বোনফুল গ্রোসারি

কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ‘বোনফুল গ্রোসারি’ বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত দোকান।
দোকানমালিক শহেল আহমেদ বলেন: “নতুন চালান এলেই পাইকাররা দাম বাড়ায়। তারপর আমাকে দাম বাড়াতে হয়, কিন্তু গ্রাহকরা কতটা দেবে তারও সীমা আছে।”
একটি চালের দাম আগে ছিল ১৭ ডলার, এখন ২৩ ডলার।
বাংলাদেশ থেকে আসা মাছ, পোহা, মিষ্টি—সবকিছুই অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।


কেন বাংলাদেশিরা বেশি সমস্যায়

কুইন্সে প্রায় ৬২ হাজার বাংলাদেশি থাকেন।
প্রথম প্রজন্মের মানুষ এখনও দেশের খাবার ছাড়া মানতে পারেন না।
তাই দামের চাপ থাকলেও তারা এই খাবারই খোঁজেন।


অন্য অভিবাসী সম্প্রদায়ও বিপাকে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চীনা, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, বসনিয়ান, মিয়ানমারসহ অনেক অভিবাসী সম্প্রদায় একই সমস্যায় আছেন।
চীনা পণ্যে শুল্ক ৫৮%।
ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ৫০%।
মিয়ানমারের পণ্যে শুল্ক ৪০%।
অনেক দোকান বলছে: “আর বেশি দাম চাপিয়ে দিলে মানুষ কিনতেই আসবে না।”


আমদানিকারকদের সংকট

যারা বিদেশ থেকে পণ্য এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করেন, তারাও বড় সমস্যায়।
শুল্ক পরিশোধ করতে ঋণ নিতে হচ্ছে।
অনেক পণ্যের আমদানি বন্ধ করতে হয়েছে।
গ্রাহকরা বেশি দাম দিতে রাজি নন।
একজন আমদানিকারক বলেন: “লাভ তো নেই, বরং লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে।”


লাওশিয়ান দোকান ‘রাইস প্যান্ট্রি’-র সমস্যা

সান ডিয়েগোর ‘রাইস প্যান্ট্রি’ লাওশিয়ান কমিউনিটির জনপ্রিয় দোকান।
এখন থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে ১৯% শুল্ক দিতে হচ্ছে।
৫০ পাউন্ড চালের দাম ৪৮ ডলার থেকে ৫৫ ডলার হয়েছে।
ফুড স্ট্যাম্প কমে যাওয়ায় ক্রেতাও কমে গেছে।
দোকানের মালিক ক্যারি গার্লেজো বলেন: “কখনো কখনো মনে হয় দোকানটা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”


আবার অ্যাস্টোরিয়ার দৃশ্য

শহেল আহমেদের দোকান আগের মতোই লাভ দিচ্ছে না।
গ্রাহকরা এখন শুধু খুব প্রয়োজনীয় জিনিসই কেনেন।
তিনি নতুনভাবে সরাসরি আমদানি করে দাম কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
অ্যাস্টোরিয়ার বাসিন্দা আহম করিম বলেন: “মাছের দাম আগে ৪ ডলার ছিল, এখন ৮ ডলার। শুল্ক খুব খারাপ। শেষমেশ দামটা আমাদেরই দিতে হয়।”


উচ্চ শুল্ক অভিবাসীদের খাবারের দাম, তাদের সাংস্কৃতিক সংযোগ এবং ছোট ব্যবসার ভবিষ্যৎ—সবকিছুই কঠিন করে তুলছে।
ঘরের খাবার এখন অনেকের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


# শুল্ক_সংকট  #অভিবাসী_খাদ্য #বাংলাদেশি_কমিউনিটি  #যুক্তরাষ্ট্র| #খাদ্যমূল্য  #ছোট_ব্যবসা

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

শুল্ক বাড়ায় অভিবাসীদের জন্য ঘরের খাবারের দাম বেড়ে তেতো

০৪:৫৫:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

অভিবাসীদের দোকানে কেন দাম বাড়ছে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের জন্য বিশেষ খাবার বিক্রি করে এমন দোকানগুলোতে হঠাৎ করে সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কের কারণে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর বসেছে।
ফলে এসব দেশের খাবার যাদের দরকার—তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।


বাংলাদেশি এলাকার বোনফুল গ্রোসারি

কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ার ‘বোনফুল গ্রোসারি’ বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচিত দোকান।
দোকানমালিক শহেল আহমেদ বলেন: “নতুন চালান এলেই পাইকাররা দাম বাড়ায়। তারপর আমাকে দাম বাড়াতে হয়, কিন্তু গ্রাহকরা কতটা দেবে তারও সীমা আছে।”
একটি চালের দাম আগে ছিল ১৭ ডলার, এখন ২৩ ডলার।
বাংলাদেশ থেকে আসা মাছ, পোহা, মিষ্টি—সবকিছুই অনেক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।


কেন বাংলাদেশিরা বেশি সমস্যায়

কুইন্সে প্রায় ৬২ হাজার বাংলাদেশি থাকেন।
প্রথম প্রজন্মের মানুষ এখনও দেশের খাবার ছাড়া মানতে পারেন না।
তাই দামের চাপ থাকলেও তারা এই খাবারই খোঁজেন।


অন্য অভিবাসী সম্প্রদায়ও বিপাকে

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে চীনা, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, বসনিয়ান, মিয়ানমারসহ অনেক অভিবাসী সম্প্রদায় একই সমস্যায় আছেন।
চীনা পণ্যে শুল্ক ৫৮%।
ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ৫০%।
মিয়ানমারের পণ্যে শুল্ক ৪০%।
অনেক দোকান বলছে: “আর বেশি দাম চাপিয়ে দিলে মানুষ কিনতেই আসবে না।”


আমদানিকারকদের সংকট

যারা বিদেশ থেকে পণ্য এনে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করেন, তারাও বড় সমস্যায়।
শুল্ক পরিশোধ করতে ঋণ নিতে হচ্ছে।
অনেক পণ্যের আমদানি বন্ধ করতে হয়েছে।
গ্রাহকরা বেশি দাম দিতে রাজি নন।
একজন আমদানিকারক বলেন: “লাভ তো নেই, বরং লোকসান দিয়ে ব্যবসা চালাতে হচ্ছে।”


লাওশিয়ান দোকান ‘রাইস প্যান্ট্রি’-র সমস্যা

সান ডিয়েগোর ‘রাইস প্যান্ট্রি’ লাওশিয়ান কমিউনিটির জনপ্রিয় দোকান।
এখন থাইল্যান্ড থেকে আমদানিতে ১৯% শুল্ক দিতে হচ্ছে।
৫০ পাউন্ড চালের দাম ৪৮ ডলার থেকে ৫৫ ডলার হয়েছে।
ফুড স্ট্যাম্প কমে যাওয়ায় ক্রেতাও কমে গেছে।
দোকানের মালিক ক্যারি গার্লেজো বলেন: “কখনো কখনো মনে হয় দোকানটা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”


আবার অ্যাস্টোরিয়ার দৃশ্য

শহেল আহমেদের দোকান আগের মতোই লাভ দিচ্ছে না।
গ্রাহকরা এখন শুধু খুব প্রয়োজনীয় জিনিসই কেনেন।
তিনি নতুনভাবে সরাসরি আমদানি করে দাম কমানোর পরিকল্পনা করছেন।
অ্যাস্টোরিয়ার বাসিন্দা আহম করিম বলেন: “মাছের দাম আগে ৪ ডলার ছিল, এখন ৮ ডলার। শুল্ক খুব খারাপ। শেষমেশ দামটা আমাদেরই দিতে হয়।”


উচ্চ শুল্ক অভিবাসীদের খাবারের দাম, তাদের সাংস্কৃতিক সংযোগ এবং ছোট ব্যবসার ভবিষ্যৎ—সবকিছুই কঠিন করে তুলছে।
ঘরের খাবার এখন অনেকের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


# শুল্ক_সংকট  #অভিবাসী_খাদ্য #বাংলাদেশি_কমিউনিটি  #যুক্তরাষ্ট্র| #খাদ্যমূল্য  #ছোট_ব্যবসা