০৫:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

সিরাজগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসী

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ধানগড়া বাজার এলাকায় তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তাঁতশিল্পে বড় ধাক্কা

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের তাঁতশিল্পে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁতকলের মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁতশ্রমিকদের ভাষ্য, কাজে যোগ দেওয়ার পরও অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বসে থাকতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত তাঁতকল বন্ধ থাকে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছা ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাও একটানা নয়; ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার কার্যক্রম সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভুঁইয়াগাতি জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক নিজামুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যালয় ঘেরাও করেছিলেন।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্থানীয়রা। বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁতশিল্প ও শিক্ষার্থীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সিরাজগঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ: পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রামবাসী

০৫:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ পৌর এলাকার ধানগড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ধানগড়া বাজার এলাকায় তুলনামূলকভাবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামীণ এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্প ও শিক্ষাক্ষেত্রও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

তাঁতশিল্পে বড় ধাক্কা

বিদ্যুৎ সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে উপজেলার লক্ষ্মীকোলা গ্রামের তাঁতশিল্পে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে তাঁতকলের মালিক ও শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁতশ্রমিকদের ভাষ্য, কাজে যোগ দেওয়ার পরও অনেক সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের বসে থাকতে হয়। বিদ্যুতের অভাবে প্রতিদিন প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত তাঁতকল বন্ধ থাকে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে লুঙ্গি, শাড়ি ও গামছা ক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে শ্রমিকদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে

লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, দিনে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। তাও একটানা নয়; ১০ থেকে ২০ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যায়। ফলে ঘরোয়া কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার কার্যক্রম সবকিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেই এলাকাবাসী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর ভুঁইয়াগাতি জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক নিজামুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কার্যালয় ঘেরাও করেছিলেন।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে তীব্র লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় ঘেরাও করেছেন স্থানীয়রা। বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাঁতশিল্প ও শিক্ষার্থীরা।