১০:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, সতর্কবার্তা জারি

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় বাড়ছে ঝুঁকি

এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে আবার বাড়তে পারে।

এ কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার আশপাশে অবস্থান করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরেও সতর্কতা

ময়মনসিংহ বিভাগের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সোমেশ্বরী ও কংস নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের সংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিতের শঙ্কা

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও তিস্তা পরিস্থিতি

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানি বেড়েছে। আগামী এক দিন তা প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী চার দিনে বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদী ব্যবস্থার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনও একই অবস্থা বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে, যদিও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে। এ সময় তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে।

চট্টগ্রামের নদীগুলোতে মিশ্র প্রবণতা

সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। তবে মুহুরী, ফেনী ও গোমতী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। এসব নদীর পানি আগামী তিন দিন মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি। কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

সিলেট-সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা, সতর্কবার্তা জারি

০৬:৪৪:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, ফলে কিছু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা ও প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় বাড়ছে ঝুঁকি

এফএফডব্লিউসির সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী এক দিন স্থিতিশীল থাকার পর পরবর্তী দুই দিনে আবার বাড়তে পারে।

এ কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। কিছু এলাকায় নদীর পানি সতর্কসীমার আশপাশে অবস্থান করতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরেও সতর্কতা

ময়মনসিংহ বিভাগের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার সোমেশ্বরী ও কংস নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এর ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে অস্থায়ী প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয় রাজ্যেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও মেঘালয়ের সংলগ্ন উজান এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিতের শঙ্কা

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও তিস্তা পরিস্থিতি

গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী ব্যবস্থার পানি বেড়েছে। আগামী এক দিন তা প্রায় স্থিতিশীল থাকলেও পরবর্তী চার দিনে বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদী ব্যবস্থার পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনও একই অবস্থা বজায় থাকতে পারে বলে জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি।

রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বেড়েছে, যদিও ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানিও বাড়তে পারে। এ সময় তিস্তা নদী লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে।

চট্টগ্রামের নদীগুলোতে মিশ্র প্রবণতা

সিলেট বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানিও গত ২৪ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। তবে মুহুরী, ফেনী ও গোমতী নদীর পানি কিছুটা কমেছে। এসব নদীর পানি আগামী তিন দিন মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুরের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা জানিয়েছে এফএফডব্লিউসি। কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।