১২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলা, একে-৪৭ হাতে ৩০০ সন্ত্রাসীর তাণ্ডব

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল।

রবিবার রাত ১টার দিকে আলীনগর এলাকায় থাকা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। হামলার সময় নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চলাচল ব্যাহত করতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়।

দুই ঘণ্টার গোলাগুলি

র‍্যাব জানিয়েছে, হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শটগান, চাইনিজ রাইফেল এবং গ্যাস গান ব্যবহার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হামলাকারীরা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে ক্যাম্পের অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা করে। নতুন অস্থায়ী ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে বুলডোজার দিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলে।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ি এলাকায় থাকা টিনের ঘরের ভেতর থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: গ্রেফতার কয়েকজন

রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয় এলাকা

হামলার আগে বিভিন্ন স্থানে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। মূল সড়ক থেকে আলীনগর এলাকায় যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক সদস্যকে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প ছিল। এর মধ্যে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পটিকেই মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা চেয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে না পারে।

যৌথ অভিযান ও আটক

ঘটনার পর র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পুরো এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হামলা কিংবা পাল্টা অভিযানে হতাহতের কোনো তথ্য এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীদের প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। কঠোর অবস্থানের কারণে হামলাকারীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটে পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলার সঙ্গে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। যে অস্থায়ী ক্যাম্পটি ধ্বংস করা হয়েছে, সেটি উদ্বোধনেরও পরিকল্পনা ছিল।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার অভিযান চলবে।

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা ও একে-৪৭ ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলা, একে-৪৭ হাতে ৩০০ সন্ত্রাসীর তাণ্ডব

০৭:৩৫:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর একটি ক্যাম্পে গভীর রাতে সংঘবদ্ধ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, অন্তত ২৫০ থেকে ৩০০ জনের একটি সশস্ত্র দল পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল।

রবিবার রাত ১টার দিকে আলীনগর এলাকায় থাকা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু হয়। হামলার সময় নির্মাণাধীন একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চলাচল ব্যাহত করতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়।

দুই ঘণ্টার গোলাগুলি

র‍্যাব জানিয়েছে, হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলে যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শটগান, চাইনিজ রাইফেল এবং গ্যাস গান ব্যবহার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, হামলাকারীরা ক্যাম্পের ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধভাবে হামলা চালিয়ে ক্যাম্পের অবকাঠামো ধ্বংসের চেষ্টা করে। নতুন অস্থায়ী ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে বুলডোজার দিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলে।

তিনি আরও জানান, পাহাড়ি এলাকায় থাকা টিনের ঘরের ভেতর থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, হামলাটি ছিল পরিকল্পিত এবং আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান: গ্রেফতার কয়েকজন

রাস্তা কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয় এলাকা

হামলার আগে বিভিন্ন স্থানে ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তা কেটে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এতে করে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। মূল সড়ক থেকে আলীনগর এলাকায় যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। ভাঙা রাস্তার কারণে অনেক সদস্যকে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়েছে।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর দুটি ক্যাম্প ছিল। এর মধ্যে নির্মাণাধীন নতুন ক্যাম্পটিকেই মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা চেয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন সেখানে স্থায়ীভাবে অবস্থান নিতে না পারে।

যৌথ অভিযান ও আটক

ঘটনার পর র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে পুরো এলাকায় যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযান চালিয়ে অন্তত ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে হামলা কিংবা পাল্টা অভিযানে হতাহতের কোনো তথ্য এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, হামলাকারীদের প্রতিরোধে পুলিশের পক্ষ থেকে ১০৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। কঠোর অবস্থানের কারণে হামলাকারীরা শেষ পর্যন্ত পিছু হটে পাহাড়ি এলাকায় সরে যায়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, এই হামলার সঙ্গে ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের কথা রয়েছে। যে অস্থায়ী ক্যাম্পটি ধ্বংস করা হয়েছে, সেটি উদ্বোধনেরও পরিকল্পনা ছিল।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার অভিযান চলবে।

সীতাকুণ্ডে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলা ও একে-৪৭ ব্যবহার নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।