১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

সুতা আমদানির বন্ড সুবিধা নিয়ে টানাপোড়েন, শিল্পখাতে উদ্বেগ

রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ ঘিরে দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও সময়ক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক শীর্ষ শিল্পসংগঠন।

রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব ঘিরে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই এই বিষয়ে কার্যত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ভারতীয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ, পোশাক খাতে উদ্বেগ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লিখিত সুতার বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। এর পরদিন ট্যারিফ কমিশনের সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ পায়। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়ক্রম থেকেই বোঝা যায় যে আলোচনাটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিক।

বিজিএমইএর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুতা আমদানিতে প্রায় ৩৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হলেও বন্ড সুবিধার কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পে এই করভার কার্যত থাকে না। এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে উৎপাদন ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাবে এবং অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তাদের আশঙ্কা, এতে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প দেশে অর্ডার সরিয়ে নিতে পারে অথবা গ্রে ফেব্রিক আমদানির শর্ত আরোপ করতে পারে, যা দেশীয় নিটিং ও কম্পোজিট মিলগুলোর জন্য ক্ষতিকর হবে।

১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার: শিল্পখাতে বিপর্যয়  সৃষ্টির আশঙ্কা

অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ট্যারিফ কমিশন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট এইচএস কোডভুক্ত সুতাকে বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে নতুন কোনো শুল্ক বা সেফগার্ড ডিউটি আরোপের প্রস্তাব নেই।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজের মতে, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির প্রকৃত সুবিধাভোগী দেশীয় শিল্প নয়, বরং বিদেশি ক্রেতারা। তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশের সরকারি ভর্তুকির কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে বায়াররা উদ্বিগ্ন

এদিকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এই বক্তব্যকে একপক্ষীয় বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ট্যারিফ কমিশনের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছিল। কার্যবিবরণী প্রকাশের আগেই সুপারিশ দেওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংগঠনটি মনে করছে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সতর্কবার্তা, বন্ড ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধার কারণেই গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছে। হঠাৎ করে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সুতা আমদানির বন্ড সুবিধা নিয়ে টানাপোড়েন, শিল্পখাতে উদ্বেগ

১২:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগ ঘিরে দেশের পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা ও সময়ক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একাধিক শীর্ষ শিল্পসংগঠন।

রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের প্রস্তাব ঘিরে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ গার্মেন্টস প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির দাবি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ হওয়ার আগেই এই বিষয়ে কার্যত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

ভারতীয় সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ, পোশাক খাতে উদ্বেগ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো এক চিঠিতে উল্লিখিত সুতার বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সুপারিশ করে। এর পরদিন ট্যারিফ কমিশনের সংশ্লিষ্ট সভার কার্যবিবরণী প্রকাশ পায়। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সময়ক্রম থেকেই বোঝা যায় যে আলোচনাটি ছিল অনেকটাই আনুষ্ঠানিক।

বিজিএমইএর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সুতা আমদানিতে প্রায় ৩৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হলেও বন্ড সুবিধার কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পে এই করভার কার্যত থাকে না। এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে উৎপাদন ব্যয় হঠাৎ বেড়ে যাবে এবং অর্ডার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তাদের আশঙ্কা, এতে বিদেশি ক্রেতারা বিকল্প দেশে অর্ডার সরিয়ে নিতে পারে অথবা গ্রে ফেব্রিক আমদানির শর্ত আরোপ করতে পারে, যা দেশীয় নিটিং ও কম্পোজিট মিলগুলোর জন্য ক্ষতিকর হবে।

১০-৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহার: শিল্পখাতে বিপর্যয়  সৃষ্টির আশঙ্কা

অন্যদিকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই ট্যারিফ কমিশন সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একটি প্রতিবেদন দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট এইচএস কোডভুক্ত সুতাকে বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এতে নতুন কোনো শুল্ক বা সেফগার্ড ডিউটি আরোপের প্রস্তাব নেই।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজের মতে, বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির প্রকৃত সুবিধাভোগী দেশীয় শিল্প নয়, বরং বিদেশি ক্রেতারা। তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশের সরকারি ভর্তুকির কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে।

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে বায়াররা উদ্বিগ্ন

এদিকে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এই বক্তব্যকে একপক্ষীয় বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, ট্যারিফ কমিশনের বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং ভবিষ্যতে তথ্য যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছিল। কার্যবিবরণী প্রকাশের আগেই সুপারিশ দেওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংগঠনটি মনে করছে।

শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সতর্কবার্তা, বন্ড ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি সুবিধার কারণেই গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান গড়ে তুলতে পেরেছে। হঠাৎ করে এই সুবিধা প্রত্যাহার করা হলে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।