১০:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের নতুন কৌশল, বাড়ছে ক্রেডিট কার্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবার জোর

লাভজনকতা বাড়াতে একের পর এক নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতের সরকারি খাতের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। দীর্ঘ সময় ‘প্রম্পট কারেকটিভ অ্যাকশন’ বা পিসিএ-র আওতায় থাকার পর এখন ব্যাঙ্কটি দ্রুত সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে। নতুন করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবা, ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা এবং এনআরআই পরিষেবায় জোর দিয়ে গ্রাহকভিত্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।

নতুন ব্যবসায় জোর

ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চমানের গ্রাহক টানতেই সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিষেবার জন্য নতুন কর্মীও নিয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে বহু বছর বন্ধ থাকার পর ফের চালু হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড পরিষেবা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় প্রথম ক্রেডিট কার্ড চালু করেছিল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কই, তবে দীর্ঘদিন তা বন্ধ ছিল। চলতি বছরের মধ্যেই আবার সেই পরিষেবা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিপুল কর্মী নিয়োগ

ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ গড়ে তুলছে ব্যাঙ্ক। ইতিমধ্যেই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০০ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যারা বিপণন ও গ্রাহক পরিষেবা সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

এনআরআই ও রফতানিকারকদের টার্গেট

ফি-ভিত্তিক আয় বাড়াতে এনআরআই ব্যবসায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি রফতানিকারকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাদের ব্যাঙ্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিষেবা-নির্ভর আয় আরও বাড়বে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়িক বৃদ্ধির ইতিবাচক ছবি

গত অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কের সামগ্রিক ব্যবসা বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি। আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধি, খুচরো ঋণ, কৃষি ও এমএসএমই ঋণ—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে খারাপ ঋণের হারও কমেছে। নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

The world's central banks are starting to experiment. But what comes next?  | Adam Tooze | The Guardian

এককালীন ধাক্কা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কর সংক্রান্ত হিসাবের পরিবর্তনের কারণে গত বছরে এককালীন আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হয়েছে ব্যাঙ্ককে। তবে চলতি বছরে সেই খাত থেকেই বাড়তি লাভের আশা করা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই বাজারকে জানিয়েছে যে আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধি এবং মুনাফার হার আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ গ্রাহক গোষ্ঠীর দিকে নজর

তরুণ প্রজন্ম, মহিলা, ব্যবসায়ী, প্রতিরক্ষা কর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনীর জন্য আলাদা পণ্য তৈরি করছে ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি ধর্মীয় ট্রাস্ট, ক্লাব, সমিতি, চিকিৎসক সমাজ ও পারসি সম্প্রদায়ের মধ্যেও গ্রাহকভিত্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি, এমএসএমই ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর

কৃষি ও এমএসএমই খাতকে আগামী দিনের প্রধান বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে দেখছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সোনার ঋণ, কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম ও হোটেল প্রকল্পে অর্থায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্পোরেট ঋণের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তি, ডেটা সেন্টার এবং অবকাঠামো প্রকল্পে বিশেষ নজর দিচ্ছে ব্যাঙ্ক।

প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ

ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে বড় আকারে প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পরিষেবাতেও জোর বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাহকরা একাধিক ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে সরাসরি ঋণ অনুমোদন ও অর্থ প্রাপ্তির সুবিধা পাচ্ছেন। প্রতি শাখার ব্যবসার পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্যাঙ্ক।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নেই

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনও সরাসরি প্রভাব ব্যাঙ্কের ব্যবসায় পড়েনি বলে দাবি করা হয়েছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং নিয়মিত চাপ পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের নতুন কৌশল, বাড়ছে ক্রেডিট কার্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবার জোর

০৭:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

লাভজনকতা বাড়াতে একের পর এক নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতের সরকারি খাতের অন্যতম বড় ব্যাঙ্ক সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া। দীর্ঘ সময় ‘প্রম্পট কারেকটিভ অ্যাকশন’ বা পিসিএ-র আওতায় থাকার পর এখন ব্যাঙ্কটি দ্রুত সম্প্রসারণের পথে হাঁটছে। নতুন করে সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবা, ক্রেডিট কার্ড ব্যবসা এবং এনআরআই পরিষেবায় জোর দিয়ে গ্রাহকভিত্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে তারা।

নতুন ব্যবসায় জোর

ব্যাঙ্কের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, উচ্চমানের গ্রাহক টানতেই সম্পদ ব্যবস্থাপনা পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পরিষেবার জন্য নতুন কর্মীও নিয়োগ করা হবে। একই সঙ্গে বহু বছর বন্ধ থাকার পর ফের চালু হচ্ছে ক্রেডিট কার্ড পরিষেবা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের দাবি, ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় প্রথম ক্রেডিট কার্ড চালু করেছিল সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কই, তবে দীর্ঘদিন তা বন্ধ ছিল। চলতি বছরের মধ্যেই আবার সেই পরিষেবা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিপুল কর্মী নিয়োগ

ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন বিক্রয় ও বিপণন বিভাগ গড়ে তুলছে ব্যাঙ্ক। ইতিমধ্যেই সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০০ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যারা বিপণন ও গ্রাহক পরিষেবা সম্প্রসারণে কাজ করবেন।

এনআরআই ও রফতানিকারকদের টার্গেট

ফি-ভিত্তিক আয় বাড়াতে এনআরআই ব্যবসায়ও গুরুত্ব দিচ্ছে ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি রফতানিকারকদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করে তাদের ব্যাঙ্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে পরিষেবা-নির্ভর আয় আরও বাড়বে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়িক বৃদ্ধির ইতিবাচক ছবি

গত অর্থবর্ষে ব্যাঙ্কের সামগ্রিক ব্যবসা বৃদ্ধির হার ছিল প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি। আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধি, খুচরো ঋণ, কৃষি ও এমএসএমই ঋণ—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে খারাপ ঋণের হারও কমেছে। নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকায়, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

The world's central banks are starting to experiment. But what comes next?  | Adam Tooze | The Guardian

এককালীন ধাক্কা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কর সংক্রান্ত হিসাবের পরিবর্তনের কারণে গত বছরে এককালীন আর্থিক ধাক্কা সামলাতে হয়েছে ব্যাঙ্ককে। তবে চলতি বছরে সেই খাত থেকেই বাড়তি লাভের আশা করা হচ্ছে। ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই বাজারকে জানিয়েছে যে আমানত বৃদ্ধি, ঋণ বৃদ্ধি এবং মুনাফার হার আরও উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ গ্রাহক গোষ্ঠীর দিকে নজর

তরুণ প্রজন্ম, মহিলা, ব্যবসায়ী, প্রতিরক্ষা কর্মী এবং আধাসামরিক বাহিনীর জন্য আলাদা পণ্য তৈরি করছে ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি ধর্মীয় ট্রাস্ট, ক্লাব, সমিতি, চিকিৎসক সমাজ ও পারসি সম্প্রদায়ের মধ্যেও গ্রাহকভিত্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি, এমএসএমই ও নবায়নযোগ্য শক্তিতে জোর

কৃষি ও এমএসএমই খাতকে আগামী দিনের প্রধান বৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে দেখছে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক। স্বনির্ভর গোষ্ঠী, সোনার ঋণ, কোল্ড স্টোরেজ, গুদাম ও হোটেল প্রকল্পে অর্থায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কর্পোরেট ঋণের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য শক্তি, ডেটা সেন্টার এবং অবকাঠামো প্রকল্পে বিশেষ নজর দিচ্ছে ব্যাঙ্ক।

প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ

ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে, কর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে বড় আকারে প্রশিক্ষণ চালু হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পরিষেবাতেও জোর বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে গ্রাহকরা একাধিক ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে সরাসরি ঋণ অনুমোদন ও অর্থ প্রাপ্তির সুবিধা পাচ্ছেন। প্রতি শাখার ব্যবসার পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে ব্যাঙ্ক।

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব নেই

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও এখনও পর্যন্ত তার কোনও সরাসরি প্রভাব ব্যাঙ্কের ব্যবসায় পড়েনি বলে দাবি করা হয়েছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং নিয়মিত চাপ পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে।