১১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোট, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কৌশলগত বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পথে এগিয়েছে। শুক্রবার মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলে একাধিক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর হওয়া এই সমঝোতা তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মক্কায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও সৌদি সফরে যাচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে এটি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে।

কেন এখন এই চুক্তি?

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, জ্বালানি রপ্তানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

তিন দেশের কৌশলগত গুরুত্ব

তুরস্ক ন্যাটোর অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তির অধিকারী। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক। অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র।

এই তিন দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Saudi Arabia, Türkiye and Pakistan forge new defence pact amid US-Iran  tensions | Euronews

দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা রয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেও যুদ্ধজাহাজ, প্রশিক্ষণ বিমান এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে।

এর আগে সৌদি আরব তুরস্কের তৈরি ড্রোন কেনার বড় চুক্তি করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান সৌদি আরবে হাজারো সেনা, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামাবাদ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কেবল সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক জোট রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে চুক্তিতে প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা কী হবে এবং এটি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোট, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কৌশলগত বার্তা

০৫:৫৭:০১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তা সংকটের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের পথে এগিয়েছে। শুক্রবার মক্কায় এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে বলে একাধিক আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর হওয়া এই সমঝোতা তিন দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মক্কায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানও সৌদি সফরে যাচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সামরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

যদিও চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে এটি তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করবে।

কেন এখন এই চুক্তি?

সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল, ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা, জ্বালানি রপ্তানি এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় তিন দেশ নিজেদের নিরাপত্তা সমন্বয় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।

তিন দেশের কৌশলগত গুরুত্ব

তুরস্ক ন্যাটোর অন্যতম বৃহৎ সামরিক শক্তির অধিকারী। সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদের রক্ষক। অন্যদিকে পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র পরমাণু অস্ত্রধারী মুসলিম রাষ্ট্র।

এই তিন দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা উদ্যোগ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

Saudi Arabia, Türkiye and Pakistan forge new defence pact amid US-Iran  tensions | Euronews

দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্কের সম্প্রসারণ

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কয়েক দশক ধরে সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা রয়েছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যেও যুদ্ধজাহাজ, প্রশিক্ষণ বিমান এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে।

এর আগে সৌদি আরব তুরস্কের তৈরি ড্রোন কেনার বড় চুক্তি করে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তান সৌদি আরবে হাজারো সেনা, যুদ্ধবিমান, ড্রোন এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গেও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইসলামাবাদ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কেবল সামরিক সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো, জ্বালানি সরবরাহ, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং ভবিষ্যৎ আঞ্চলিক জোট রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

তবে চুক্তিতে প্রতিটি দেশের নির্দিষ্ট দায়বদ্ধতা কী হবে এবং এটি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।