০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

স্বাধীন মতপ্রকাশ ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম যুদ্ধ

ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌতুক বা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। এজন্য তাঁর সহযোগীরা জিমি কিমেলকে রাতের টক শো থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি চান তাঁকে সম্মানিত করা হোক, সমালোচনা নয় — তাই নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছিলেন। তিনি সবকিছুকেই যুদ্ধ হিসেবে দেখেন, তাই তাঁর শিবির চায় ধনকুবের মিত্ররা টিকটকের আমেরিকান অংশ কিনে নিক। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। কিমেল আবার টিভিতে ফিরেছেন, মামলাটি আদালত খারিজ করেছে, আর কোটিপতিরা কতটা বাধ্য হবেন তা অনিশ্চিত।

স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব

আমেরিকায় প্রথম সংশোধনীর কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। যদি গণমাধ্যম ভয়ে নীরব হয়ে যায়, তাহলে দুর্নীতি, খারাপ শাসন ও জনগণের বিমুখতা বাড়বে। আমেরিকান নির্বাচনে ক্ষুদ্র ব্যবধানই ফলাফল বদলে দেয় — তাহলে ভীত গণমাধ্যম ভোটের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তবে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এত সহজ নয়। কিমেলসহ অনেকে দেখাচ্ছেন, আমেরিকার বহুমাত্রিক ও অশৃঙ্খল মিডিয়া দমন করা কঠিন কাজ।

ট্রাম্পের উদ্দেশ্য

ট্রাম্প চান তাঁর সম্পর্কে মানুষ কী দেখবে বা পড়বে তা নিয়ন্ত্রণ করতে। একসময় রক্ষণশীলরা মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অভিযোগ তুললেও, ট্রাম্প আসলে চান সব মনোযোগ শুধু তাঁকে কেন্দ্র করে থাকুক — এবং সেটি যেন প্রশংসামূলক হয়। তাঁর অনুগতরা সেটা নিশ্চিত করার জন্য নানা কৌশল নিচ্ছেন।

ট্রাম্পের অস্ত্রসমূহ

১. হুমকি ও মামলা: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মামলা করা হয়েছে জেফ্রি এপস্টেইনের সাথে সম্পর্কিত খবর প্রকাশের জন্য। ডেস ময়েন রেজিস্টারকেও টার্গেট করা হয়েছে নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপের কারণে। প্রতিরক্ষা দপ্তর সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সীমিত করেছে। এমনকি টিভি লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব মামলা দুর্বল হলেও প্রতিরক্ষা ব্যয়বহুল, ফলে ভীতিকর প্রভাব ফেলে।

২. মালিকানা নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম আছে — ট্রুথ সোশ্যাল। হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান দেখিয়েছেন কীভাবে অনুগত ব্যবসায়ীরা সরকারি বয়ান প্রচার করে। এলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স (টুইটার) ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে। টিকটকও মিত্র ধনকুবেরদের হাতে যেতে পারে। ডেভিড এলিসনের ক্রয়ের মাধ্যমে সিবিএস ও সিএনএনও প্রভাবিত হতে পারে।

৩. চাপ প্রয়োগ: এবিসি ও সিবিএস আদালতে জেতার সম্ভাবনা থাকা মামলায় ট্রাম্পের সাথে সমঝোতা করেছে, কারণ তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিশোধের ভয় পেয়েছিল। কল্পনা করা যায়, যদি গুগল বা মেটা তাদের এআই ব্যবসার স্বার্থে চাপের মুখে পড়ে, তবে তারা হয়তো ট্রাম্পের খেয়াল মেনে চলতে বাধ্য হবে।

দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা

ট্রাম্প যত শক্তিশালী মনে হোক, বাস্তবে তিনি দুর্বল। টেলিভিশন নিউজ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি একটি ক্রমহ্রাসমান শিল্প। আজকাল কেবল ৩ শতাংশ আমেরিকান রাজনীতি নিয়ে খবর পেতে সিবিএস দেখেন। গণমাধ্যম কোম্পানিগুলো বরং স্ট্রিমিং বাজারে ব্যস্ত। সংবাদপত্রগুলো লড়াই চালিয়ে গেলে আদালতে জয়ী হবে, আর প্রতিটি মামলা ট্রাম্পকে আরও হাস্যকর করে তুলবে।

আমেরিকার মিডিয়া বাজার ইউরোপীয় ছোট দেশগুলোর মতো সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়। এটি বিশাল ও বহুমাত্রিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বহু স্বতন্ত্র কনটেন্ট নির্মাতার ওপর নির্ভরশীল। সংবাদ দমন করতে হলে চীনের মতো সেন্সর বাহিনী লাগবে — যা বাস্তবে অসম্ভব।

মুক্ত মতপ্রকাশের শক্তি

আমেরিকায় মুক্ত মতপ্রকাশ সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, আর বিশাল মিডিয়া বাজার ও অর্ধেক জনগণ ট্রাম্পবিরোধী। ফলে মিডিয়া পুরোপুরি দখল করা সম্ভব নয়। বরং বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ও নতুন উদ্যোগগুলো প্রতিদিন গড়ে উঠছে। ট্রাম্প যত দ্রুত এগোতে চান, আদালত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিরোধে সময় লাগে, কিন্তু শেষমেশ তাঁকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।

বিভক্ত গণমাধ্যমের ঝুঁকি

যদিও ট্রাম্প মিডিয়া পুরোপুরি দখল করতে পারবেন না, তবে তাঁর প্রচেষ্টা আমেরিকার জন্য ক্ষতিকর। বিভক্ত মনোযোগের যুগে মানুষকে আকর্ষণ করতে অতিরঞ্জিত ভাষণ, বিপ্লবী ডাক বা ফ্যাসিবাদবিরোধী চিৎকার দেওয়া হয়। এতে গণতান্ত্রিক ঐকমত্য দুর্বল হয়। আমেরিকা উনিশ শতকে পক্ষপাতদুষ্ট প্রেসের মধ্যে বেঁচে ছিল, একবিংশ শতকেও টিকে থাকবে। কিন্তু জনপরিসরকে রাজনৈতিক সার্কাসে পরিণত করা ইতিমধ্যেই এক দুর্বল গণতন্ত্রের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

স্বাধীন মতপ্রকাশ ও আমেরিকার প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ

০৩:৪৪:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গণমাধ্যম যুদ্ধ

ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌতুক বা সমালোচনা সহ্য করতে পারেন না। এজন্য তাঁর সহযোগীরা জিমি কিমেলকে রাতের টক শো থেকে সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। তিনি চান তাঁকে সম্মানিত করা হোক, সমালোচনা নয় — তাই নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ১৫ বিলিয়ন ডলারের মামলা করেছিলেন। তিনি সবকিছুকেই যুদ্ধ হিসেবে দেখেন, তাই তাঁর শিবির চায় ধনকুবের মিত্ররা টিকটকের আমেরিকান অংশ কিনে নিক। কিন্তু এসব প্রচেষ্টা সফল হয়নি। কিমেল আবার টিভিতে ফিরেছেন, মামলাটি আদালত খারিজ করেছে, আর কোটিপতিরা কতটা বাধ্য হবেন তা অনিশ্চিত।

স্বাধীন গণমাধ্যমের গুরুত্ব

আমেরিকায় প্রথম সংশোধনীর কারণে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত। যদি গণমাধ্যম ভয়ে নীরব হয়ে যায়, তাহলে দুর্নীতি, খারাপ শাসন ও জনগণের বিমুখতা বাড়বে। আমেরিকান নির্বাচনে ক্ষুদ্র ব্যবধানই ফলাফল বদলে দেয় — তাহলে ভীত গণমাধ্যম ভোটের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। তবে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা এত সহজ নয়। কিমেলসহ অনেকে দেখাচ্ছেন, আমেরিকার বহুমাত্রিক ও অশৃঙ্খল মিডিয়া দমন করা কঠিন কাজ।

ট্রাম্পের উদ্দেশ্য

ট্রাম্প চান তাঁর সম্পর্কে মানুষ কী দেখবে বা পড়বে তা নিয়ন্ত্রণ করতে। একসময় রক্ষণশীলরা মিডিয়ার পক্ষপাতিত্ব নিয়ে অভিযোগ তুললেও, ট্রাম্প আসলে চান সব মনোযোগ শুধু তাঁকে কেন্দ্র করে থাকুক — এবং সেটি যেন প্রশংসামূলক হয়। তাঁর অনুগতরা সেটা নিশ্চিত করার জন্য নানা কৌশল নিচ্ছেন।

ট্রাম্পের অস্ত্রসমূহ

১. হুমকি ও মামলা: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মামলা করা হয়েছে জেফ্রি এপস্টেইনের সাথে সম্পর্কিত খবর প্রকাশের জন্য। ডেস ময়েন রেজিস্টারকেও টার্গেট করা হয়েছে নির্বাচনের আগে প্রকাশিত জরিপের কারণে। প্রতিরক্ষা দপ্তর সাংবাদিকদের স্বাধীনতা সীমিত করেছে। এমনকি টিভি লাইসেন্স বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। এসব মামলা দুর্বল হলেও প্রতিরক্ষা ব্যয়বহুল, ফলে ভীতিকর প্রভাব ফেলে।

২. মালিকানা নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম আছে — ট্রুথ সোশ্যাল। হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবান দেখিয়েছেন কীভাবে অনুগত ব্যবসায়ীরা সরকারি বয়ান প্রচার করে। এলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স (টুইটার) ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে। টিকটকও মিত্র ধনকুবেরদের হাতে যেতে পারে। ডেভিড এলিসনের ক্রয়ের মাধ্যমে সিবিএস ও সিএনএনও প্রভাবিত হতে পারে।

৩. চাপ প্রয়োগ: এবিসি ও সিবিএস আদালতে জেতার সম্ভাবনা থাকা মামলায় ট্রাম্পের সাথে সমঝোতা করেছে, কারণ তারা নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিশোধের ভয় পেয়েছিল। কল্পনা করা যায়, যদি গুগল বা মেটা তাদের এআই ব্যবসার স্বার্থে চাপের মুখে পড়ে, তবে তারা হয়তো ট্রাম্পের খেয়াল মেনে চলতে বাধ্য হবে।

দুর্বলতা ও সীমাবদ্ধতা

ট্রাম্প যত শক্তিশালী মনে হোক, বাস্তবে তিনি দুর্বল। টেলিভিশন নিউজ তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি একটি ক্রমহ্রাসমান শিল্প। আজকাল কেবল ৩ শতাংশ আমেরিকান রাজনীতি নিয়ে খবর পেতে সিবিএস দেখেন। গণমাধ্যম কোম্পানিগুলো বরং স্ট্রিমিং বাজারে ব্যস্ত। সংবাদপত্রগুলো লড়াই চালিয়ে গেলে আদালতে জয়ী হবে, আর প্রতিটি মামলা ট্রাম্পকে আরও হাস্যকর করে তুলবে।

আমেরিকার মিডিয়া বাজার ইউরোপীয় ছোট দেশগুলোর মতো সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য নয়। এটি বিশাল ও বহুমাত্রিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও বহু স্বতন্ত্র কনটেন্ট নির্মাতার ওপর নির্ভরশীল। সংবাদ দমন করতে হলে চীনের মতো সেন্সর বাহিনী লাগবে — যা বাস্তবে অসম্ভব।

মুক্ত মতপ্রকাশের শক্তি

আমেরিকায় মুক্ত মতপ্রকাশ সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত, আর বিশাল মিডিয়া বাজার ও অর্ধেক জনগণ ট্রাম্পবিরোধী। ফলে মিডিয়া পুরোপুরি দখল করা সম্ভব নয়। বরং বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ও নতুন উদ্যোগগুলো প্রতিদিন গড়ে উঠছে। ট্রাম্প যত দ্রুত এগোতে চান, আদালত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিরোধে সময় লাগে, কিন্তু শেষমেশ তাঁকে চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব।

বিভক্ত গণমাধ্যমের ঝুঁকি

যদিও ট্রাম্প মিডিয়া পুরোপুরি দখল করতে পারবেন না, তবে তাঁর প্রচেষ্টা আমেরিকার জন্য ক্ষতিকর। বিভক্ত মনোযোগের যুগে মানুষকে আকর্ষণ করতে অতিরঞ্জিত ভাষণ, বিপ্লবী ডাক বা ফ্যাসিবাদবিরোধী চিৎকার দেওয়া হয়। এতে গণতান্ত্রিক ঐকমত্য দুর্বল হয়। আমেরিকা উনিশ শতকে পক্ষপাতদুষ্ট প্রেসের মধ্যে বেঁচে ছিল, একবিংশ শতকেও টিকে থাকবে। কিন্তু জনপরিসরকে রাজনৈতিক সার্কাসে পরিণত করা ইতিমধ্যেই এক দুর্বল গণতন্ত্রের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।