০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, ১৯ শতকের পর এমন নজির নেই

প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়াবহ শক্তি সঞ্চয় করছে এল নিনো। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা এমন তীব্র রূপ নিতে পারে, যা ১৯৫০ সাল থেকে সংরক্ষিত নথিতে নজিরবিহীন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি ১৯ শতকের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে উঠতে পারে।

স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রিরও বেশি উষ্ণ সমুদ্র

এল নিনো শনাক্ত করা হয় যখন প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। বর্তমানে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওপরে রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে এল নিনো চূড়ায় পৌঁছানোর সময় এই ব্যবধান ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে গত সাত দশকের নথিবদ্ধ ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে তীব্র এল নিনো।

সমুদ্রের গভীরেও জমছে বিপুল তাপ

এবারের এল নিনোর শক্তি বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সমুদ্রের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত উষ্ণ পানি। কিছু এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ মিটার গভীরে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

এই বিপুল উষ্ণ পানি যেন এল নিনোর জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করতে পারে। সমুদ্র থেকে বায়ুমণ্ডলে তাপ ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণেও বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।

A super El Niño could soon become the strongest since the 1870s. Scientists  now say there's a growing chance that a “super” El Niño could develop later  this year — potentially becoming

আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা

জলবায়ু বিজ্ঞানী জেক হাউসফাদারের মতে, এল নিনো এখনও বিকাশমান এবং এর প্রভাব তীব্র হওয়ার জন্য সামনে আরও কয়েক মাস সময় রয়েছে। এ কারণেই এটি রেকর্ড ভাঙতে পারে—এমন ধারণার প্রতি বিজ্ঞানীদের আস্থা বাড়ছে।

কিছু জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান আবার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসের চেয়েও শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে। কোনো কোনো পূর্বাভাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

সেই মাত্রায় পৌঁছালে এটি গত ৫০০ বা এমনকি ১ হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এত দীর্ঘ সময়ের আগের জলবায়ু পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে জলবায়ুর অস্থিরতা

এল নিনো সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে এবারের সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আগামী কয়েক মাসে এর গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

স্মরণকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, ১৯ শতকের পর এমন নজির নেই

০৫:০১:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

প্রশান্ত মহাসাগরে ভয়াবহ শক্তি সঞ্চয় করছে এল নিনো। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, চলতি বছরের শেষ দিকে এই প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা এমন তীব্র রূপ নিতে পারে, যা ১৯৫০ সাল থেকে সংরক্ষিত নথিতে নজিরবিহীন। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি ১৯ শতকের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে উঠতে পারে।

স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রিরও বেশি উষ্ণ সমুদ্র

এল নিনো শনাক্ত করা হয় যখন প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে অন্তত শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। বর্তমানে ওই অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওপরে রয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ দিকে এল নিনো চূড়ায় পৌঁছানোর সময় এই ব্যবধান ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে গত সাত দশকের নথিবদ্ধ ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে তীব্র এল নিনো।

সমুদ্রের গভীরেও জমছে বিপুল তাপ

এবারের এল নিনোর শক্তি বাড়ানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সমুদ্রের গভীরে জমে থাকা অতিরিক্ত উষ্ণ পানি। কিছু এলাকায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০০ মিটার গভীরে পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

এই বিপুল উষ্ণ পানি যেন এল নিনোর জন্য অতিরিক্ত জ্বালানির ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করতে পারে। সমুদ্র থেকে বায়ুমণ্ডলে তাপ ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণেও বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে।

A super El Niño could soon become the strongest since the 1870s. Scientists  now say there's a growing chance that a “super” El Niño could develop later  this year — potentially becoming

আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা

জলবায়ু বিজ্ঞানী জেক হাউসফাদারের মতে, এল নিনো এখনও বিকাশমান এবং এর প্রভাব তীব্র হওয়ার জন্য সামনে আরও কয়েক মাস সময় রয়েছে। এ কারণেই এটি রেকর্ড ভাঙতে পারে—এমন ধারণার প্রতি বিজ্ঞানীদের আস্থা বাড়ছে।

কিছু জলবায়ু গবেষণা প্রতিষ্ঠান আবার আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসের চেয়েও শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা করছে। কোনো কোনো পূর্বাভাসে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

সেই মাত্রায় পৌঁছালে এটি গত ৫০০ বা এমনকি ১ হাজার বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এত দীর্ঘ সময়ের আগের জলবায়ু পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সীমিত হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে জলবায়ুর অস্থিরতা

এল নিনো সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ছন্দে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। ফলে এবারের সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, অতিবৃষ্টি, খরা এবং অন্যান্য চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আগামী কয়েক মাসে এর গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।