০২:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
রিপাবলিকান জিতলে প্রতি আমেরিকানকে নগদ অর্থ দেবেন ট্রাম্প হিমবাহ ধসে নেপালের বন্যা দক্ষিণ এশিয়াকে নতুন সতর্কতা দিল ফিলিপাইনের পালাওয়ানে ফেরিতে আগুনে নিহত ৫ নিখোঁজ ৮৭ বাংলাদেশের খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় রাখাইন ভাষা পাঠ্যক্রম চালু তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে নির্ধারণ হবে এজেন্ডা হাসিনার মেয়ে সাইমা ওয়াজেদের হু আঞ্চলিক প্রধান পদত্যাগ বাংলাদেশে হাম মহামারিতে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ছাড়াল হাজার সৌদি হামলার পর ইরানকে হুতিদের থামাতে সতর্ক করল পাকিস্তান ট্রাম্পের নতুন বার্তা: মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ?

হরমুজে অচলাবস্থার মধ্যেই জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

এর আগে ইরানের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা যুদ্ধকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের দাবি, হামলায় ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত স্থাপনা, সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েনের কয়েকটি এলাকা এবং যুদ্ধবিমান রাখার আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড এই হামলাকে ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে জর্ডানের দিকে ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।

তেলবাহী জাহাজে হামলার পাল্টা হুমকি

US says it destroyed 5 Iranian oil tankers after missile attacks on warship  | South China Morning Post

ইরানের তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের পর তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের কাছে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড ওই অঞ্চলের তেলবাহী জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, জাহাজগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ ওই অঞ্চল দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হুমকি

ইরানি হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যখনই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা করবে বা হামলার চেষ্টা করবে, তখনই ইরানকে তার মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের মতো পদক্ষেপ আবারও নেওয়া হতে পারে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, দেশটির তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ফলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকি এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অচলাবস্থা

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর | কালবেলা

কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান জলপথটির ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।

ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯ ডলারে উঠে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ৯৪ ডলারের ওপরে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইরানি জাহাজ ধ্বংসের পর পরিস্থিতির অবনতি

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস হওয়ার পর।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজগুলোতে হামলার আগে সেগুলোর কর্মীদের জাহাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ইরানের সংবাদমাধ্যম অবশ্য এর আগে জানিয়েছিল, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ওই ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি বলেও জানানো হয়।

এর মধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করেছিলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করা হবে।

মার্কিন ডুবোযান নিয়েও উত্তেজনা

ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করল কানাডা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান আটক করার দাবিও করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক ডুবোযান।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ডুবোযানটি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। এটি তুলনামূলক পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছিল না বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও দাবি করেছে, বিপ্লবী গার্ড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধ কি আরও বড় সংঘাতে গড়াবে?

ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক হামলার পাশাপাশি জ্বালানি ও সমুদ্রপথও যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে।

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে সর্বশেষ হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরানের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু দুই দেশের সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রিপাবলিকান জিতলে প্রতি আমেরিকানকে নগদ অর্থ দেবেন ট্রাম্প

হরমুজে অচলাবস্থার মধ্যেই জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

১১:৩৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, তারা জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইরানের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তেহরান।

এর আগে ইরানের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস করে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা যুদ্ধকে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিপ্লবী গার্ড জানিয়েছে, জর্ডানের আল-আজরাক এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।

ইরানের দাবি, হামলায় ঘাঁটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত স্থাপনা, সেনা ও সরঞ্জাম মোতায়েনের কয়েকটি এলাকা এবং যুদ্ধবিমান রাখার আশ্রয়কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড এই হামলাকে ‘শাস্তিমূলক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে জর্ডানের দিকে ছোড়া ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ধ্বংস করেছে।

তেলবাহী জাহাজে হামলার পাল্টা হুমকি

US says it destroyed 5 Iranian oil tankers after missile attacks on warship  | South China Morning Post

ইরানের তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের পর তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের কাছে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড ওই অঞ্চলের তেলবাহী জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের বক্তব্য, জাহাজগুলো ইরানের হামলার লক্ষ্য হতে পারে।

এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কারণ ওই অঞ্চল দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা হুমকি

ইরানি হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যখনই মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজে হামলা করবে বা হামলার চেষ্টা করবে, তখনই ইরানকে তার মূল্য দিতে হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজ ধ্বংসের মতো পদক্ষেপ আবারও নেওয়া হতে পারে।

এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছিল, দেশটির তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।

ফলে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হুমকি এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অচলাবস্থা

যুদ্ধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালিতে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে সুখবর | কালবেলা

কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান জলপথটির ওপর ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে বাড়ছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।

ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৯ ডলারে উঠে গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহৃত পশ্চিম টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও ৯৪ ডলারের ওপরে উঠেছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল দীর্ঘ সময় বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে জ্বালানির দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ইরানি জাহাজ ধ্বংসের পর পরিস্থিতির অবনতি

সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস হওয়ার পর।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজগুলোতে হামলার আগে সেগুলোর কর্মীদের জাহাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ইরানের সংবাদমাধ্যম অবশ্য এর আগে জানিয়েছিল, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ওই ঘটনায় কেউ নিহত হয়নি বলেও জানানো হয়।

এর মধ্যেই ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আলী আবদোল্লাহি সতর্ক করেছিলেন, ইরানের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করা হবে।

মার্কিন ডুবোযান নিয়েও উত্তেজনা

ইরানের বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করল কানাডা

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান আটক করার দাবিও করেছে। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আধুনিক ডুবোযান।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ডুবোযানটি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। এটি তুলনামূলক পুরোনো মডেলের এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছিল না বলেও জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও দাবি করেছে, বিপ্লবী গার্ড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

যুদ্ধ কি আরও বড় সংঘাতে গড়াবে?

ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক হামলার পাশাপাশি জ্বালানি ও সমুদ্রপথও যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর ও অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়িয়ে দেশটির সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করছে।

জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে সর্বশেষ হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনের উপকূলের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ইরানের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুধু দুই দেশের সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।