০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে শিশুর লাশ, থানা ঘেরাওয়ের পর হত্যা মামলা

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে ছয় বছরের কন্যাশিশু তাহেদী আক্তারের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলা গ্রহণ করে।

ঘটনার বিবরণ

পরিবারের সদস্যরা জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তে জমে থাকা পানির ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। রাত একটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিফটের ফাঁকা স্থানে শিশুর মরদেহ, বিচার চেয়ে হাতিরঝিল থানা ঘেরাও

হত্যার অভিযোগ ও জনতার বিক্ষোভ

নিহতের চাচা স্বপন মিয়া দাবি করেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল, কিন্তু পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। তাদের যুক্তি, পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেটে পানি থাকার কথা। এই তথ্য থেকেই তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলা নিতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাত নয়টার দিকে শত শত এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে রাত এগারোটার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা নেয় পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এলাকাবাসীর চাপে নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। তাদের আশঙ্কা, শিশুটির মুখ চেপে ধরে হত্যা করে পরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা জানান, শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবনে শিশুর লাশ, থানা ঘেরাওয়ের পর হত্যা মামলা

১১:০০:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে ছয় বছরের কন্যাশিশু তাহেদী আক্তারের মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, শিশুটিকে নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা থানা ঘেরাও করলে পুলিশ শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলা গ্রহণ করে।

ঘটনার বিবরণ

পরিবারের সদস্যরা জানান, কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আলীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে তাহেদী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার বাইরে খেলতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়।

পরিবার ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর গভীর রাতে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের জন্য রাখা গর্তে জমে থাকা পানির ভেতর থেকে শিশুটির নিথর দেহ দেখতে পান। রাত একটার দিকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিফটের ফাঁকা স্থানে শিশুর মরদেহ, বিচার চেয়ে হাতিরঝিল থানা ঘেরাও

হত্যার অভিযোগ ও জনতার বিক্ষোভ

নিহতের চাচা স্বপন মিয়া দাবি করেন, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল, কিন্তু পেটে কোনো পানি পাওয়া যায়নি। তাদের যুক্তি, পানিতে ডুবে মৃত্যু হলে পেটে পানি থাকার কথা। এই তথ্য থেকেই তারা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সন্দেহ করছেন।

স্বজনদের অভিযোগ, মামলা নিতে গেলে পুলিশ শুরুতে গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাত নয়টার দিকে শত শত এলাকাবাসী হাতিরঝিল থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে রাত এগারোটার দিকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা নেয় পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

এলাকাবাসীর চাপে নির্মাণাধীন ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। তাদের আশঙ্কা, শিশুটির মুখ চেপে ধরে হত্যা করে পরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মর্তুজা জানান, শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিবারের দায়ের করা হত্যা মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত সত্য উদঘাটন না হলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারে।