০৫:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

হাতে গড়া ঐতিহ্য: গ্রামবাংলার চালের সেমাই তৈরির হারানো গল্প

এক সময়ের গ্রামবাংলার রান্নাঘর মানেই ছিল ধোঁয়া ওঠা চুলা, কাঁসার হাঁড়ি আর পরম মমতায় তৈরি ঘরোয়া খাবার। সেইসব দিনের এক বিশেষ স্মৃতি হলো “চালের সেমাই” বানানোর প্রথা—যা আজকের ব্যস্ত জীবনে প্রায় হারিয়েই গেছে।

আগেকার দিনে বাজারে প্যাকেটজাত সেমাই সহজলভ্য ছিল না। তাই ঘরের মেয়েরাই নিজের হাতে চাল থেকে সেমাই তৈরি করতেন। এই প্রক্রিয়াটি ছিল ধৈর্য, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার এক অনন্য মিশেল।

প্রথমে ভালো মানের আতপ চাল বেছে নিয়ে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া হতো। তারপর কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে শুকনো কাপড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। চাল যখন খানিকটা শুকিয়ে যেত, তখন শিলপাটা বা ঢেঁকিতে তা বেটে সূক্ষ্ম গুঁড়ো করা হতো। এই চালের গুঁড়োই ছিল সেমাই তৈরির মূল উপাদান।

এরপর শুরু হতো আসল কাজ। চালের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে শক্ত করে মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি বানিয়ে বিশেষ ধরনের ছাঁচ বা হাতের কৌশলে পাতলা সুতো মতো করে সেমাই বের করা হতো। অনেক সময় নারীরা মাটির পরিষ্কার জায়গা বা মাদুরের ওপর এই সেমাইগুলো ছড়িয়ে রোদে শুকাতে দিতেন।

রোদে শুকানো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালোভাবে শুকানো না হলে সেমাই সংরক্ষণ করা যেত না। শুকিয়ে গেলে এগুলো কৌটো বা পাত্রে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু রান্নার কাজই ছিল না—এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক আয়োজনও। পাড়ার মহিলারা একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে সেমাই বানাতেন। হাসি, গান আর গল্পে ভরে উঠত সেই সময়গুলো।

আজকের দিনে আমরা সহজেই দোকান থেকে সেমাই কিনে নিতে পারি। কিন্তু সেই হাতে বানানো চালের সেমাইয়ের স্বাদ, ঘ্রাণ আর ভালোবাসা—তা আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই ঐতিহ্য শুধু খাবারের নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক মূল্যবান অংশ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

হাতে গড়া ঐতিহ্য: গ্রামবাংলার চালের সেমাই তৈরির হারানো গল্প

১২:০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
এক সময়ের গ্রামবাংলার রান্নাঘর মানেই ছিল ধোঁয়া ওঠা চুলা, কাঁসার হাঁড়ি আর পরম মমতায় তৈরি ঘরোয়া খাবার। সেইসব দিনের এক বিশেষ স্মৃতি হলো “চালের সেমাই” বানানোর প্রথা—যা আজকের ব্যস্ত জীবনে প্রায় হারিয়েই গেছে।

আগেকার দিনে বাজারে প্যাকেটজাত সেমাই সহজলভ্য ছিল না। তাই ঘরের মেয়েরাই নিজের হাতে চাল থেকে সেমাই তৈরি করতেন। এই প্রক্রিয়াটি ছিল ধৈর্য, দক্ষতা আর অভিজ্ঞতার এক অনন্য মিশেল।

প্রথমে ভালো মানের আতপ চাল বেছে নিয়ে তা পরিষ্কার করে ধুয়ে নেওয়া হতো। তারপর কয়েক ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে পানি ঝরিয়ে শুকনো কাপড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। চাল যখন খানিকটা শুকিয়ে যেত, তখন শিলপাটা বা ঢেঁকিতে তা বেটে সূক্ষ্ম গুঁড়ো করা হতো। এই চালের গুঁড়োই ছিল সেমাই তৈরির মূল উপাদান।

এরপর শুরু হতো আসল কাজ। চালের গুঁড়োর সঙ্গে পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে শক্ত করে মণ্ড তৈরি করা হতো। এই মণ্ড থেকে ছোট ছোট লেচি বানিয়ে বিশেষ ধরনের ছাঁচ বা হাতের কৌশলে পাতলা সুতো মতো করে সেমাই বের করা হতো। অনেক সময় নারীরা মাটির পরিষ্কার জায়গা বা মাদুরের ওপর এই সেমাইগুলো ছড়িয়ে রোদে শুকাতে দিতেন।

রোদে শুকানো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ভালোভাবে শুকানো না হলে সেমাই সংরক্ষণ করা যেত না। শুকিয়ে গেলে এগুলো কৌটো বা পাত্রে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হতো।

এই পুরো প্রক্রিয়াটি শুধু রান্নার কাজই ছিল না—এটি ছিল এক ধরনের সামাজিক আয়োজনও। পাড়ার মহিলারা একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে সেমাই বানাতেন। হাসি, গান আর গল্পে ভরে উঠত সেই সময়গুলো।

আজকের দিনে আমরা সহজেই দোকান থেকে সেমাই কিনে নিতে পারি। কিন্তু সেই হাতে বানানো চালের সেমাইয়ের স্বাদ, ঘ্রাণ আর ভালোবাসা—তা আর কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। এই ঐতিহ্য শুধু খাবারের নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক মূল্যবান অংশ।