০৪:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

হাম প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকায়, উদ্বেগে স্বাস্থ্য বিভাগ

দেশজুড়ে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে যত মৃত্যু হয়েছে, তার অর্ধেকই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট ৩৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ১৬৮ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৫০ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে মৃতদের মধ্যে ৩৮ জনের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১৩০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংক্রমণও সবচেয়ে বেশি ঢাকায়

মৃত্যুর পাশাপাশি সংক্রমণের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এখানে হামের সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৫৮১ জন। নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭৭ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে। রাজশাহীতে ৭৮ জন এবং চট্টগ্রামে ২৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য ১১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই মৃত্যুর মধ্যে পাঁচজন ছিল ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

সব মিলিয়ে ১৫ মার্চের পর থেকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। একই সময়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা হয়েছে ২৭৯।

হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৩৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনে।

একই সময়ে নতুন নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ২৮৬ জন। ফলে মোট নিশ্চিত সংক্রমণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনে।

এদিকে, ১৫ মার্চের পর থেকে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতা বাড়ানো গেলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে টিকাদানে অনীহা, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ঢাকায় হাম প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু, শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

হাম প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঢাকায়, উদ্বেগে স্বাস্থ্য বিভাগ

০৬:০০:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

দেশজুড়ে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে যত মৃত্যু হয়েছে, তার অর্ধেকই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চের পর থেকে সারা দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে মোট ৩৩৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ১৬৮ শিশু, যা মোট মৃত্যুর ৫০ শতাংশ। ঢাকা বিভাগে মৃতদের মধ্যে ৩৮ জনের মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। বাকি ১৩০ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সংক্রমণও সবচেয়ে বেশি ঢাকায়

মৃত্যুর পাশাপাশি সংক্রমণের সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। এখানে হামের সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৫৮১ জন। নিশ্চিত সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৭৭ জনে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ঢাকার পর সবচেয়ে বেশি সন্দেহভাজন মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগে। রাজশাহীতে ৭৮ জন এবং চট্টগ্রামে ২৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু

বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হামজনিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য ১১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নতুন এই মৃত্যুর মধ্যে পাঁচজন ছিল ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

সব মিলিয়ে ১৫ মার্চের পর থেকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ জনে। একই সময়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা হয়েছে ২৭৯।

হাসপাতালে ভর্তি ও সুস্থতার চিত্র

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ২৩৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এতে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৪৯৮ জনে।

একই সময়ে নতুন নিশ্চিত রোগী পাওয়া গেছে ২৮৬ জন। ফলে মোট নিশ্চিত সংক্রমণ দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০৮ জনে।

এদিকে, ১৫ মার্চের পর থেকে মোট ৩১ হাজার ৯১২ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ হাজার ২৩৮ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো টিকা গ্রহণ এবং সচেতনতা বাড়ানো গেলে হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে টিকাদানে অনীহা, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া এবং দ্রুত সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

ঢাকায় হাম প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু, শিশু স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে